يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَوَلَّوۡاْ قَوۡمًا غَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِمۡ قَدۡ يَئِسُواْ مِنَ ٱلۡأٓخِرَةِ كَمَا يَئِسَ ٱلۡكُفَّارُ مِنۡ أَصۡحَٰبِ ٱلۡقُبُورِ

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাতওয়াল্লাও কাওমান গাদিবাল্লা-হু‘আলাইহিমকাদ ইয়াইছূমিনাল আ-খিরতি কামা-ইয়াইছাল কুফফা-রু মিন আসহা-বিল কুবূর।উচ্চারণ

হে ঈমানদারগণ, যাদের ওপর আল্লাহ গযব নাযিল করেছেন তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। আখেরাত সম্পর্কে তারা ঠিক তেমনি নিরাশ যেমন কবরস্থ কাফেররা নিরাশ। ২৪ তাফহীমুল কুরআন

হে মুমিনগণ! আল্লাহ যাদের প্রতি ক্রুদ্ধ, তোমরা সে সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা আখেরাত সম্পর্কে হতাশ হয়ে গেছে। যেমন কাফেরগণ কবরে দাফনকৃত লোকদের সম্পর্কে হতাশ। #%১২%#মুফতী তাকী উসমানী

হে মু’মিনগণ! আল্লাহ যে সম্প্রদায়ের প্রতি রুষ্ট তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করনা, তারাতো আখিরাত সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছে যেমন হতাশ হয়েছে কাফিরেরা সমাধিস্থদের বিষয়ে।মুজিবুর রহমান

মুমিনগণ, আল্লাহ যে জাতির প্রতি রুষ্ট, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা পরকাল সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছে যেমন কবরস্থ কাফেররা নিরাশ হয়ে গেছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে মু’মিনগণ ! আল্লাহ্ যে সম্প্রদায়ের প্রতি রুষ্ট তোমরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কর না, এরা তো পরকাল সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছে, যেমন হতাশ হয়েছে কাফিররা কবরস্থদের বিষয়ে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে ঈমানদারগণ, তোমরা সেই সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করো না, যাদের প্রতি আল্লাহ রাগান্বিত হয়েছেন। তারা তো আখিরাত সম্পর্কে নিরাশ হয়ে পড়েছে, যেমনিভাবে কাফিররা কবরবাসীদের সম্পর্কে নিরাশ হয়েছে।আল-বায়ান

হে মু’মিনগণ! তোমরা এমন সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না আল্লাহ যাদের প্রতি রাগান্বিত। তারা পরকাল সম্পর্কে তেমনি নিরাশ যেমন কবরবাসী কাফিররা নিরাশ (কারণ তারা পরকালকে অবিশ্বাস করার কারণে তার জন্য কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি।)তাইসিরুল

ওহে যারা ঈমান এনেছ! সেই লোকদলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না যাদের প্রতি আল্লাহ্ ত্রুদ্ধ হয়েছেন, -- যারা পরকাল সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছে, যেমন অবিশ্বাসীরা কবরের বাসিন্দাদের সন্বন্ধে হতাশ রয়েছে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৪

মুল ইবারত হলোঃ

قَدْ يَئِسُوا مِنَ الْآخِرَةِ كَمَا يَئِسَ الْكُفَّارُ مِنْ أَصْحَابِ الْقُبُورِ

এর দু’টি অর্থ হতে পারে। একটি হলো, তারা আখেরাতের কল্যাণ ও সওয়াব থেকে ঠিক তেমনি নিরাশ হয়ে গিয়েছে যেমন আখেরাত অস্বীকারকারীরা তাদের কবরস্থ মৃত আত্মীয়-স্বজনদের পুনরায় জীবিত করে উঠান সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গিয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), হযরত হাসান বসরী, কাতাদা এবং দাহহাক (র) এ অর্থটি বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয় অর্থটি হতে পারে, তারা আখেরাতের রহমত ও মাগফিরাত থেকে ঠিক তেমনি নিরাশ যেমন কবরে পড়ে থাকা কাফেররা সব রকমের কল্যাণ থেকে নিরাশ। কারণ, এ ব্যাপারে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, তাদেরকে আযাবের মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এবং হযরত মুজাহিদ, ইকরিমা, ইবনে যায়েদ, কালবী, মুকাতিল ও মনসূর রাহিমাহুমুল্লাহ থেকে এ অর্থটি বর্ণিত হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ মৃত বাপ-দাদা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব কোন রকম সাহায্য করবে এ ব্যাপারে কাফেরগণ যেমন হতাশ, তেমনিভাবে তারা আখেরাতের জীবন সম্পর্কেও হতাশ। কোন কোন মুফাসসির আয়াতটির তরজমা করেছেন এ রকম, ‘তারা আখেরাত সম্পর্কে সে রকমই হতাশ হয়ে গেছে, যেমন হতাশ সেই সব কাফের, যারা কবরে পৌঁছে গেছে’। এ হিসেবে এর ব্যাখ্যা হল, যে সকল কাফের কবরে গিয়ে পৌঁছেছে, তারা স্বচক্ষে দেখে নিয়েছে আখেরাতের সুখণ্ডশান্তিতে তাদের কোন ভাগ নেই। ফলে তারা সে ব্যাপারে সম্পূর্ণরূপে হতাশ হয়ে গেছে, ঠিক তেমনিভাবে এই জীবিত কাফেরগণও আখেরাতের জীবন সম্পর্কে পুরোপুরি হতাশ।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩. হে মুমিনগণ! আল্লাহ যে সম্প্রদায়ের প্রতি রুষ্ট তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না, তারা তো আখিরাত সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছে। যেমন হতাশ হয়েছে কাফিররা কবরবাসীদের বিষয়ে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৩) হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ যে সম্প্রদায়ের প্রতি রুষ্ট তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না, (1) তারা তো পরকাল সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছে, যেমন হতাশ হয়েছে অবিশ্বাসীরা কবরবাসীদের বিষয়ে। (2)

(1) এ থেকে কেউ ইয়াহুদীদের, কেউ মুনাফিকদের এবং কেউ সমস্ত কাফেরদেরকে বুঝিয়েছেন। আর এই শেষের উক্তিটাই বেশী সঠিক মনে হচ্ছে। কেননা, এতে ইয়াহুদী ও মুনাফিকরাও এসে যায়। এ ছাড়া সমস্ত কাফেররা আল্লাহর ক্রোধের শিকার হওয়ারই যোগ্য। অতএব অর্থ হবে, কোন কাফেরের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রেখো না। যেমন, কুরআনের আরো কয়েকটি স্থানে এ বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

(2) পরকাল সম্পর্কে হতাশ হওয়ার অর্থ, কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা অস্বীকার করা। কবরবাসী থেকে নিরাশ হওয়ার অর্থও এটাই যে আখেরাতে পুনরায় তাদেরকে উঠানো হবে না। এর দ্বিতীয় অর্থ এও করা হয়েছে যে, কবরস্থ কাফের সর্বপ্রকার মঙ্গল থেকে নিরাশ। কেননা, মৃত্যুবরণ করার পর সে তার কুফরীর পরিণাম দেখে নিয়েছে। অতএব সে মঙ্গলের কি আর আশা করতে পারে? (ইবনে জারীর ত্বাবারী)