ফালাউকছিমুবিমাওয়া-কি‘ইননুজূম।উচ্চারণ
অতএব না, ৩৬ আমি শপথ করছি তারকাসমূহের ভ্রমণ পথের। তাফহীমুল কুরআন
যে সকল স্থানে নক্ষত্র পতিত হয় #%২৩%# আমি তার শপথ করে বলছি,মুফতী তাকী উসমানী
আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের!মুজিবুর রহমান
অতএব, আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করছি,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সুতরাং আমি কসম করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,আল-বায়ান
উপরন্তু আমি শপথ করছি তারকারাজির অস্তাচলের।তাইসিরুল
না, আমি কিন্তু শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অবস্থানের, --মাওলানা জহুরুল হক
৩৬
অর্থাৎ তোমরা যা মনে করে বসে আছো ব্যাপার তা নয়। কুরআন যে আল্লাহ পক্ষ থেকে সে বিষয়ে কসম খাওয়ার আগে এখানে لا শব্দের ব্যবহার করায় আপনা থেকেই একথা প্রকাশ পায় যে, এই পবিত্র গ্রন্থ সম্পর্কে মানুষ মনগড়া কিছু কথাবার্তা বলছিলো। সেসব কথার প্রতিবাদ করার জন্যই এ কসম খাওয়া হচ্ছে।
এখান থেকে কুরআন মাজীদের সত্যতা এবং এটা যে আল্লাহ তাআলার কালাম, তা প্রমাণ করা উদ্দেশ্য। মক্কা মুকাররমার কাফেরগণ অনেক সময় বলত, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন অতীন্দ্রিয়বাদী এবং এ কুরআন মূলত অতীন্দ্রিয়বাদীদের কথা (নাউযুবিল্লাহ)। অতীন্দ্রিয়বাদীরা যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করত, তাতে তারা জিন ও শয়তানদের সাহায্য নিত। কুরআন মাজীদ বিভিন্ন স্থানে জানিয়ে দিয়েছে যে, শয়তানদেরকে আকাশের কাছে গিয়ে সেখানকার কথাবার্তা শোনার আর সুযোগ দেওয়া হয় না। কোন শয়তান সে চেষ্টা করলে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড (شهاب ثاقب) ছুঁড়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয় (দেখুন সূরা হিজর ১৫ : ১৮; সূরা সাফফাত ৩৭ : ১০)। সাধারণ কথাবার্তায় شهاب ثاقب-কে ‘নক্ষত্রের পতন’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়, তাই কুরআন মাজীদ নক্ষত্রের উল্লেখ করত একথাও জানিয়ে দিয়েছে যে, তাকে শয়তানদের থেকে হেফাজতের জন্যও ব্যবহার করা হয় (সূরা সাফফাত ৩৭ : ৭; সূরা মুলক ৬৭ : ৫)। সুতরাং জিন ও শয়তান যখন আকাশ পর্যন্ত পৌঁছতেই পারে না, তখন তাদের পক্ষে কুরআনের মত পরিপক্ব ও সত্য বাণী পেশ করাই সম্ভব নয়। সেই প্রসঙ্গেই এখানে নক্ষত্রের পতন স্থলসমূহের শপথ করে ইশারা করা হয়েছে যে, তোমরা যদি গভীরভাবে চিন্তা কর, তবে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবে, কুরআন মাজীদ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বাণী। কোন অতীন্দ্রিয়বাদী এরূপ বাণী কখনও তৈরি করতে পারবে না। কেননা অতীন্দ্রিয়বাদী যা বলে তা শয়তানদের সাহায্য নিয়ে বলে। আর এসব নক্ষত্র শয়তানদেরকে ঊর্ধ্ব জগতে পৌঁছা হতে নিবৃত্ত রাখে।
৭৫. অতঃপর(১) আমি শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের(২),
(১) বাক্যের শুরুতে এখানে একটি لا ব্যবহৃত হয়েছে। যার অর্থ, ‘না’। কোন কোন মুফাস্সির এটাকে অতিরিক্ত বলেছেন। কিন্তু এ মতটি সঠিক নয়। পবিত্র কুরআনে অতিরিক্ত কিছু নেই। বরং এটি আরবদের একটি সাধারণ বাকপদ্ধতি। যেমন বলা হয় لا والله এরূপ বাকপদ্ধতি আরবদের নিকট সুবিদিত। এরূপ স্থলে لا সম্বোধিত ব্যক্তির ধারণা খণ্ডনের জন্যে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ তোমরা যা মনে করে বসে আছো ব্যাপার তা নয়। কুরআন যে আল্লাহর পক্ষ থেকে সে বিষয়ে কসম খাওয়ার আগে এখানে لا শব্দের ব্যবহার করায় আপনা থেকেই একথা প্ৰকাশ পায় যে, এই পবিত্ৰ গ্ৰন্থ সম্পর্কে মানুষ মনগড়া কিছু কথাবার্তা বলছিলো। সেসব কথার প্রতিবাদ করার জন্যই এ কসম খাওয়া হচ্ছে। (ফাতহুল কাদীর; কুরতুবী)
(২) مواقع শব্দটি موقع এর বহুবচন। এর এক অর্থ তারকারাজি ও গ্রহসমূহের অবস্থানস্থল, তাদের মনযিল ও তাদের কক্ষপথসমূহ। অন্য অর্থ নক্ষত্রের অস্তাচল অথবা অস্তের সময়, বা চোখের আড়ালে চলে যাওয়া। (ফাতহুল কাদীর) এ আয়াতে নক্ষত্রের অস্ত যাওয়ার সময়ের শপথ করা হয়েছে; যেমন সূরা নজমেও (وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ) বলে তাই করা হয়েছে।
(৭৫) আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের। (1)
(1) فَلاَ أُقْسِمُ তে لا অক্ষরটি অতিরিক্ত। এটা তাকীদ স্বরূপ এসেছে। অথবা এটা অতিরিক্ত নয়, বরং পূর্বের কোন জিনিসের অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের জন্য এসেছে। অর্থাৎ, এই কুরআন জ্যোতিষ বা কাব্যগ্রন্থ নয়। বরং আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করে বলছি যে, এই কুরআন সম্মানিত---। مَوَاقِعُ النُّجُوْمِ থেকে উদ্দেশ্য তারকারাজির উদয়াচল ও অস্তাচল এবং তাদের গন্তব্যস্থল ও কক্ষপথ। কেউ কেউ অনুবাদ করেছেন, ‘‘শপথ করছি আয়াতসমূহের অবতরণের পয়গম্বরদের অন্তরে।’’ (মুঅয্যিহুল কুরআন) অর্থাৎ, نجوم এর অর্থ কুরআনের আয়াতসমূহ এবং مواقع এর অর্থ, নবীদের অন্তর। আবার কেউ কেউ এর অর্থ নিয়েছেন, কুরআন মাজীদের ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হওয়া। কেউ বলেছেন, এর অর্থ হল, কিয়ামতের দিন তারকারাজির ঝরে পড়া। (ইবনে কাসীর)