আআনতুম তাঝর‘ঊনাহূআম নাহনুঝঝা-রি‘ঊন।উচ্চারণ
তা থেকে ফসল উৎপন্ন তোমরা করো, না আমি? ২৮ তাফহীমুল কুরআন
তা কি তোমরা উদগত কর, না আমিই #%১৯%# তার উদগতকারী? মুফতী তাকী উসমানী
তোমরা কি ওকে অংকুরিত কর, না আমি অংকুরিত করি?মুজিবুর রহমান
তোমরা তাকে উৎপন্ন কর, না আমি উৎপন্নকারী ?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমরা কি একে অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমরা তা অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি?আল-বায়ান
তোমরাই কি তা উৎপন্ন কর, না আমিই উৎপন্নকারী?তাইসিরুল
তোমরা কি তা গজিয়ে তুলো, না আমরা বর্ধনকারী?মাওলানা জহুরুল হক
২৮
উপরে উল্লেখিত প্রশ্ন এ সত্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল যে, তোমরা তো আল্লাহ তা’আলার গড়া। তিনি সৃষ্টি করেছেন বলে তোমরা অস্তিত্ব লাভ করছো। এখন এই দ্বিতীয় প্রশ্নটি দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ সত্যের প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে তা হচ্ছে, যে রিযিকে তোমরা প্রতিপালিত হচ্ছো তাও আল্লাহই সৃষ্টি করে থাকেন। তোমাদের সৃষ্টির ক্ষেত্রে মানুষের কর্তৃত্ব ও প্রচেষ্টা এর অধিক আর কিছুই নয় যে, তোমাদের পিতা তোমাদের মায়ের দেহাভ্যন্তরে এক ফোঁটা শুক্র নিক্ষেপ করে। অনুরূপ তোমাদের রিযিক উৎপাদনের ক্ষেত্রেও মানুষের প্রচেষ্টা জমিতে বীজ বপনের বেশী আর কিছুই নয়। যে জমিতে এই চাষাবাদ করা হয় তাও তোমাদের তৈরী নয়। এই জমিতে উর্বরা শক্তি তোমরা দান কর নাই। ভূমির যে উপাদান দ্বারা তোমাদের খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা হয় তা তোমরা সরবরাহ কর নাই। তোমরা জমিতে যে বীজ বপন কর তাকে প্রবৃদ্ধির উপযুক্ত তোমরা বানাও নাই। ঐগুলো যে গাছের বীজ তার প্রতিটি থেকে ঐ একই প্রজাতির গাছ ফুটে বের হওয়ার যোগ্যতা ও বৈশিষ্ট্য তোমরা সৃষ্টি কর নাই। সেই ভূমিকে বাতাসে ঢেউ খেলা শ্যামল শস্য ক্ষেত্রে পরিণত করার জন্য ভূমির অভ্যন্তরে যে ক্রিয়া-প্রক্রিয়া এবং ভূমির উপরিভাগে যে বাতাস, পানি, উষ্ণতা, আর্দ্রতা ও মৌসূমী পরিবেশ প্রয়োজন তার কোনটিই তোমাদের কোন তদবীর বা ব্যবস্থাপনার ফল নয়। এর সব কিছুই আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও প্রতিপালক হওয়ার বিস্ময়কর কীর্তি। অতএব তোমরা যখন তাঁর সৃষ্টি করার কারণে অস্তিত্ব লাভ করছো এবং তাঁরই দেয়া রিযিকে প্রতিপালিত হচ্ছো তখন তাঁর নির্দেশের বাইরে স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করার কিংবা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো দাসত্ব ও আনুগত্য করার অধিকার তোমরা কি করে লাভ করো?
এ আয়াতের যুক্তি প্রমাণ বাহ্যিকভাবে তাওহীদের স্বপক্ষে। তবে এতে যে বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে সে বিষয়ে কেউ আরেকটু গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করলেই এর মধ্যে আখেরাতের প্রমাণও পেয়ে যাবে। জমিতে যে বীজ বপন করা হয় তা মৃত বস্তু ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু কৃষক তাকে মাটির করবে দাফন করার পর আল্লাহ তা’আলা তার মধ্যে জীবন সৃষ্টি করেন। তা থেকে অঙ্কুরোদগম হয় এবং সবুজ-শ্যামল শষ্য ক্ষেত্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পরিদৃষ্ট হয়। আমাদের চোখের সামনে প্রতিদিন হাজার হাজার মৃত এভাবে কবর থেকে জীবিত হয়ে উঠছে। এটা কি কোন অংশ কম বিস্ময়কর মু’জিযা যে, মানুষের মৃত্যুর পর জীবিত হওয়া সম্পর্কে কুরআন আমাদেরকে যে খবর দিচ্ছে সে মু’জিযাকে অসম্ভব মনে করবো?
অর্থাৎ তোমরা তো জমিতে কেবল বীজ ফেল। অতঃপর সেই বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম ঘটিয়ে তাকে চারা বানানো তারপর সেই চারাকে গাছ বানিয়ে তা থেকে তোমাদের উপকারী ফল বা ফসল জন্মানোর মত ক্ষমতা কি তোমাদের ছিল? আল্লাহ তাআলা ছাড়া এমন কে আছে, যে তোমাদের বোনা বীজকে এই পরিণতিতে পৌঁছাতে পারেন?
৬৪. তোমরা কি সেটাকে অংকুরিত কর, না আমরা অংকুরিত করি?
(৬৪) তোমরা কি ওকে অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি? (1)
(1) অর্থাৎ, জমিতে তোমরা যে বীজ বপন কর, তা থেকে একটি গাছ যমীনের উপর উঠে দাঁড়ায়। নির্জীব এক শস্যদানাকে বিদীর্ণ করে এবং মৃত্তিকার বক্ষ ভেদ করে এইভাবে বৃক্ষ উদগত কে করে? এটাও বীর্য-বিন্দু থেকে মানব সৃষ্টি করার ন্যায় আমারই কুদরতের কৃতিত্ব, না তোমাদের কোন দক্ষতা বা জাদু-মন্ত্রের ফল?