وَفَٰكِهَةٖ مِّمَّا يَتَخَيَّرُونَ

ওয়া ফা-কিহাতিম মিম্মা-ইয়াতাখাইয়ারূন।উচ্চারণ

তারা তাদের সামনে নানা রকমের সুস্বাদু ফল পরিবেশন করবে যাতে পছন্দ মত বেছে নিতে পারে। তাফহীমুল কুরআন

এবং তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে,মুফতী তাকী উসমানী

এবং তাদের পছন্দ মত ফলমূল –মুজিবুর রহমান

আর তাদের পছন্দমত ফল-মুল নিয়ে,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং তাদের পছন্দমত ফলমূল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে।আল-বায়ান

আর নানান ফলমূল, ইচ্ছেমত যেটা তারা বেছে নেবে,তাইসিরুল

আর ফল-মূল যা তারা পছন্দ করে;মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২০. আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফলমূল নিয়ে(১),

(১) জন্নাতের ফল-মূল দুনিয়ার ফল-মূলের নামে হলেও সেগুলোর স্বাদ ও গন্ধ হবে ভিন্ন প্রকৃতির। (সাদী) আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, “যখনই তাদেরকে কোন ফল থেকে রিযিক দেয়া হবে তখনই তারা বলবে, পূর্বেও তো আমাদের এই রিযিক দেয়া হয়েছিল, আর তাদেরকে অনুরূপ ফলই দেয়া হয়েছে”। (সূরা আল-বাকারাহ: ২৫) সুতরাং দেখতে ও নামে এক প্রকার হলেও স্বাদ হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ সমস্ত ফলের গাছ বিভিন্ন ধরনের হবে। মহান আল্লাহ জানিয়েছেন যে, সে সমস্ত গাছের মধ্যে রয়েছে, আঙ্গুরের গাছ, খেজুর গাছ, রুম্মান বা বেদান গাছ, যেমন তাতে রয়েছে, বরই ও কলা গাছ। আল্লাহ বলেন, “মুত্তাকীদের জন্য তো আছে সাফল্য, উদ্যান, আঙ্গুর”। (সূরা আন-নাবা: ৩১–৩২) “সেখানে রয়েছে ফলমূল—খেজুর ও আনার ” (সূরা আর-রাহমান: ৬৮) “আর ডান দিকের দল, কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল! তারা থাকবে এমন উদ্যানে, সেখানে আছে কাটাহীন কুলগাছ, কাদি ভরা কদলী গাছ, সম্প্রসারিত ছায়া, সদা প্রবাহমান পানি, ও প্রচুর ফলমূল, যা শেষ হবে না ও যা নিষিদ্ধও হবে না।” (সূরা আল-ওয়াকি আহ: ২৭–৩২)

জান্নাতের বাগানে যা থাকবে তার মধ্যে কুরআন যা বর্ণনা করেছে তা খুব সামান্যই। আর এ জন্যই মহান আল্লাহ এ সমস্ত ফলমূলকে অন্যত্র একত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রত্যেক ফল দুই দুই প্রকার”। (সূরা আর-রাহমান: ৫৩) জান্নাতের ফল-ফলাদির প্রাচুর্যের কারণে সেখানকার অধিবাসীরা যা ইচ্ছে তা দাবী করে নিবে আর যা ইচ্ছে তা পছন্দ করবে। “সেখানে তারা আসীন হবে হেলান দিয়ে, সেখানে তারা বহুবিধ ফলমূল ও পানীয় চাইবে।” (সূরা সোয়াদ: ৫১) “এবং তাদের পছন্দমত ফলমূল”। (সূরা আল-ওয়াকি'আহ: ২০) মুত্তাকীরা থাকবে ছায়ায় ও প্রস্রবণ বহুল স্থানে, তাদের বঞ্ছিত ফলমূলের প্রাচুর্যের মধ্যে। (সূরা আল-মুরসালাত: ৪১–৪২) মোটকথা: জান্নাতে সবধরনের যাবতীয় স্বাদের ফল-ফলাদি থাকবে যা তাদের আনন্দ দিবে ও যা তাদের মন চাইবে।

মহান আল্লাহ বলেন, “স্বর্ণের থালা ও পানিপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে; সেখানে রয়েছে সমস্ত কিছু, যা অন্তর চায় এবং যাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে।” (সূরা আয-যুখরুফ: ৭১)। তাছাড়া জান্নাতের গাছসমূহের আরেকটি গুণ হলো যে, সেগুলো কখনো ফল-ফলাদি শূন্য হবে না। সবসময় সব ঋতুতে তাতে ফল থাকবে। মহান আল্লাহ বলেন, “মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তার উপমা এরূপঃ তার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তার ফলসমূহ ও ছায়া চিরস্থায়ী।” (সূরা আর-রা'দ: ৩৫) আরও বলেন, “আর প্রচুর ফলমূল, যা শেষ হবে না ও যা নিষিদ্ধও হবে না।” (সূরা আল-ওয়াকি'আহ: ৩৩–৩৪) এছাড়া জান্নাতের গাছসমূহ শাখা, কাণ্ডবিশিষ্ট ও বর্ধনশীল হবে। আল্লাহ বলেন, “আর যে আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান। কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? উভয়ই বহু শাখা-পল্লববিশিষ্ট” (সূরা আর-রাহমান: ৪৭–৪৯) আরও বলেন, “এ উদ্যান দুটি ছাড়া আরো দুটি উদ্যান রয়েছে। কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? ঘন সবুজ এ উদ্যান দুটি। কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? (সূরা আর-রাহমান: ৬৩–৬৫)

এ সমস্ত গাছের ফলফলাদির আরো একটি গুণ হচ্ছে এই যে, এগুলো হাতের নাগালের মধ্যেই থাকবে, যাতে জান্নাতিদের কষ্ট না হয়। মহান আল্লাহ বলেন, “সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে পুরু রেশমের আস্তর বিশিষ্ট ফারাশে, দুই উদ্যানের ফল হবে কাছাকাছি।” (সূরা আর-রাহমান: ৫৫) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “সন্নিহিত গাছের ছায়া তাদের উপর থাকবে এবং তার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করা হবে।” (সূরা আল-ইনসান: ১৪) এছাড়া জান্নাতের গাছের ছায়া; তা তো বলার অপেক্ষা রাখেনা; মহান আল্লাহ বলেন, “যারা ঈমান আনে এবং ভাল কাজ করে তাদেরকে প্রবেশ করাব জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে, সেখানে তাদের জন্য পবিত্র স্ত্রী থাকবে এবং তাদেরকে চিরস্নিগ্ধ ছায়ায় প্রবেশ করব।” (সূরা আন-নিসা: ৫৬) “সম্প্রসারিত ছায়া” (সূরা আল-ওয়াকি'আহ: ৩০) “মুত্তাকীরা থাকবে ছায়ায় ও প্রস্রবণ বহুল স্থানে” (সূরা আল-মুরসালাত: ৪১)

তাছাড়া এ সমস্ত গাছের আরও কিছু বর্ণনা রাসূলের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন হাদীসে এসেছে যে, “জান্নাতের কোন কোন গাছ এমন হবে যে, যার নীচে দিয়ে সফরকারী তার সর্বশক্তি দিয়ে সফর করলেও তা অতিক্রম করতে একশত বছর লাগবে, তারপরও সে তা শেষ করতে পারবে না” (বুখারী: ৩২৫১, মুসলিম: ২৮২৮) অন্য হাদীসে এসেছে, “জান্নাতের গাছের কাণ্ড হবে স্বর্ণের”। (তিরমিযী: ২৫২৫) জান্নাতের গাছ বৃদ্ধি করার উপায় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ইসরার রাত্রিতে আমি ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! তোমার উম্মতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে তারপর তাদের জানাবে যে, জান্নাতের মাটি অতি উত্তম। পানি অতি মিষ্ট। আর এটা হচ্ছে গাছবিহীন ভূমি। এখানকার গাছ হলো, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার” (তিরমিযী: ৩৪৬২)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২০) এবং তাদের পছন্দ মত ফলমূল