عَلَّمَ ٱلۡقُرۡءَانَ

‘আল্লামাল কুরআ-ন।উচ্চারণ

এ কুরআনের শিক্ষা দিয়েছেন। তাফহীমুল কুরআন

যিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেনমুফতী তাকী উসমানী

তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন।মুজিবুর রহমান

শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন,আল-বায়ান

তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন,তাইসিরুল

তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

অর্থাৎ এ কুরআনের শিক্ষা কোন মানুষের রচিত বা তৈরী নয়, বরং পরম দয়ালু আল্লাহ‌ নিজে এর শিক্ষা দাতা। আল্লাহ‌ তা’আলা কুরআনের এ শিক্ষা কাকে দিয়েছে এখানে সে কথা বলার প্রয়োজন ছিল না। কেননা, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ থেকেই মানুষ তা শুনছিলো। তাই অবস্থার দাবী অনুসারে আপনা থেকেই একথার প্রতিপাদ্য এই প্রকাশ পাচ্ছিল যে, এ শিক্ষা দেয়া হয়েছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে।

এ বাক্য দিয়ে সূচনা করার প্রথম উদ্দেশ্যই হচ্ছে একথা বলে দেয়া যে, নবী (সা.) নিজে এর রচয়িতা নন, এ শিক্ষা দানকারী স্বয়ং আল্লাহ‌ তা’আলা। তাছাড়া আরো একটি উদ্দেশ্য আছে। ‘রহমান’ শব্দটি সে দিকেই ইঙ্গিত করেছে। এটা নবীর ﷺ রচিত কোন শিক্ষা নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে শুধু এতটুকু কথা বলার প্রয়োজন হলে আল্লাহ‌ তা’আলার ‘যাত’বা মূল নাম ব্যবহার না করে গুণবাচক নাম ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না। তাছাড়া একান্তই গুণবাচক নাম ব্যবহার করার প্রয়োজন হলে শুধু এ বিষয়টি প্রকাশের জন্য আল্লাহর পবিত্র নামসমূহের মধ্য থেকে যে কোন একটি নাম গ্রহণ করা যেতে পারতো। কিন্তু যখন আল্লাহ, স্রষ্টা, বা রিযিকদাতা এ শিক্ষা দিয়েছেন বলার পরিবর্তে ‘রাহমান’ এ শিক্ষা দিয়েছেন বলা হয়েছে তখন আপনা থেকেই এ বিষয় প্রকাশ পায় যে, বান্দাদের হিদায়াতের জন্য কুরআন মজীদে নাযিল করা সরাসরি আল্লাহর রহমত। যেহেতু তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি অতীব দয়াবান; তাই তিনি তোমাদেরকে অন্ধকারে হাতড়িয়ে মরার জন্য ছেড়ে দেয়া পছন্দ করেননি। তিনি তাঁর রহমতের দাবী অনুসারে এ কুরআন পাঠিয়ে তোমাদেরকে এমন জ্ঞান দান করেছেন যার ওপরে পার্থিব জীবনে তোমাদের সত্যানুসরণ এবং আখেরাতের জীবনের সফলতা নির্ভরশীল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২. তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন(১),

(১) এখান থেকে সমগ্র সূরায় আল্লাহ তা'আলার দুনিয়া ও আখেরাতের অবদানসমূহের অব্যাহত বৰ্ণনা হয়েছে। প্রথমেই عَلَّم বাক্য দিয়ে সূচনা করার উদ্দেশ্য এটা হতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এর রচয়িতা নন, এ শিক্ষা দানকারী স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা। তারপর (عَلَّمَ الْقُرْآنَ) বলে সর্ববৃহৎ অবদান দ্বারা শুরু করা হয়েছে। কুরআন সর্ববৃহৎ অবদান। কেননা, এতে মানুষের দুনিয়া ও আখেরাত উভয় প্রকার কল্যাণ রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম কুরআনকে কায়মনোবাক্যে গ্ৰহণ করেছেন এবং এর প্রতি যথার্থ মর্যাদা প্রদর্শন করেছেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে আখেরাতের উচ্চ মর্যাদা ও নেয়ামত দ্বারা গৌরবান্বিত করেছেন এবং দুনিয়াতেও এমন উচ্চ আসন দান করেছেন; যা রাজা-বাদশাহরাও হাসিল করতে পারে না।

ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী عَلَّم ক্রিয়াপদের দুটি কর্ম থাকে - এক যা শিক্ষা দেয়া হয় এবং ‘দুই যাকে শিক্ষা দেয়া হয়। আয়াতে প্রথম কর্ম উল্লেখ করা হয়েছে অর্থাৎ কুরআন। কিন্তু দ্বিতীয় কর্ম অৰ্থাৎ কাকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তার উল্লেখ নেই। কোন কোন তফসীরবিদ বলেনঃ এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্দেশ্য। কেননা, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যক্ষভাবে তাকেই শিক্ষা দিয়েছেন। অতঃপর তার মধ্যস্থতায় সমগ্র সৃষ্টজীব এতে দাখিল রয়েছে। (আদওয়াউল বায়ান, আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২) তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন। (1)

(1) বলা হয় যে, এটা মক্কাবাসীদের সেই কথার উত্তর, যাতে তারা বলত যে, এই কুরআন মুহাম্মাদকে কোন মানুষ শিক্ষা দেয়। কেউ কেউ বলেছেন, এটা তাদের ‘রহমান আবার কি?’ কথার উত্তর। কুরআন শিখানোর অর্থঃ তা সহজ করে দিয়েছেন। অথবা আল্লাহ তাঁর নবীকে শিখিয়েছেন এবং নবী তাঁর উম্মতকে শিখিয়েছেন। এই সূরায় মহান আল্লাহ তাঁর বহু নিয়ামতের কথা বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই সমস্ত নিয়ামতের মধ্যে মান-মর্যাদা, গুরুত্ব ও উপকারিতার দিক দিয়ে কুরআনের শিক্ষাদান যেহেতু সর্বাধিক প্রকট, তাই প্রথমে এই নিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন। (ফাতহুল ক্বাদীর)