وَلَقَد تَّرَكۡنَٰهَآ ءَايَةٗ فَهَلۡ مِن مُّدَّكِرٖ

ওয়া লাকাদ তারকনা-হাআ-য়াতান ফাহাল মিম মুদ্দাকির।উচ্চারণ

সে নৌকাকে আমি একটি নিদর্শন বানিয়ে দিয়েছি। ১৪ এমতাবস্থায় উপদেশগ্রহণকারী কেউ আছো কি? তাফহীমুল কুরআন

আমি একে বানিয়ে দিয়েছি এক নিদর্শন। আছে কি কেউ যে উপদেশ গ্রহণ করবে?মুফতী তাকী উসমানী

আমি এটাকে রেখে দিয়েছি এক নিদর্শনরূপে; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছে কি?মুজিবুর রহমান

আমি একে এক নিদর্শনরূপে রেখে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তো এটাকে রেখে দিয়েছি এক নিদর্শনরূপে; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি তাকে নিদর্শন হিসেবে রেখেছি। অতএব কোন উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?আল-বায়ান

এ (ঘটনা) টিকে আমি (চিরকালের জন্য) নিদর্শন হিসেবে রেখে দিলাম, অতএব উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি?তাইসিরুল

আর আমরা অবশ্য এটিকে রেখে দিয়েছি এক নিদর্শনরূপে। কিন্তু কেউ কি রয়েছে উপদেশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৪

এ অর্থও হতে পারে যে, আমরা এ আযাবকে শিক্ষণীয় নিদর্শন বানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমাদের মতে সর্বাধিক অগ্রধিকার যোগ্য অর্থ হচ্ছে, সে জাহাজকে শিক্ষণীয় নিদর্শন বানিয়ে দেয়া হয়েছে। একটি সুউচ্চ পর্বতের ওপরে তার অস্তিত্ব টিকে থাকা হাজার হাজার বছর ধরে মানুষকে আল্লাহ‌র গযব সম্পর্কে সাবধান করে আসছে। তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, এ ভূ-খণ্ডে আল্লাহ‌র নাফরমানদের জন্য কি দুর্ভাগ্য নেমে এসেছিল এবং ঈমান গ্রহণকারীদের কিভাবে রক্ষা করা হয়েছিল। ইমাম বুখারী, ইবনে আবী হাতেম, আবদুর রাযযাক ও ইবনে জারীর, কাতাদা থেকে যেসব হাদীস বর্ণনা করেছেন তা থেকে জানা যায় যে, মুসলমানদের ইরাক ও আল-জাযিরা বিজয়ের যুগে এ জাহাজ জুদী পাহাড়ের ওপর (অন্য একটি রেওয়ায়াত অনুসারে “বা-কিরদা” নামক জনপদের সন্নিকটে) বর্তমান ছিল এবং প্রাথমিক যুগের মুসলমানগণ তা দেখেছিলেন। বর্তমান যুগেও বিমান ভ্রমনের সময় কেউ কেউ এ এলাকার একটি পর্বত শীর্ষে জাহাজের মত বস্তু পড়ে থাকতে দেখেছেন। সেটিকে নূহের জাহাজ বলে সন্দেহ করা হয়। আর এ কারণেই তা অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে মাঝে মধ্যে অভিযাত্রী দল অভিযান পরিচালনা করে আসছে। (আরো বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, আল আ’রাফ, টীকা-৪৭, হূদ, টীকা-৪৬; আল আনকাবূত, টীকা-২৫)।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫. আর অবশ্যই আমরা এটাকে রেখে দিয়েছি। এক নিদর্শনরূপে(১); অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?

(১) আয়াতের এ অর্থও হতে পারে যে, আমরা এ আযাবকে শিক্ষণীয় নির্দশন বানিয়ে দিয়েছি। তবে অগ্ৰাধিকার যোগ্য অর্থ হচ্ছে, সে জাহাজকে শিক্ষণীয় নিদর্শন বানিয়ে দেয়া হয়েছে। একটি সুউচ্চ পর্বতের ওপরে তার অস্তিত্ব টিকে থাকা হাজার হাজার বছর ধরে মানুষকে আল্লাহ্‌র গযব সম্পর্কে সাবধান করে আসছে। তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, এ ভূ-খণ্ডে আল্লাহর নাফরমানদের জন্য কি দুর্ভাগ্য নেমে এসেছিল এবং ঈমান গ্রহণকারীদের কিভাবে রক্ষা করা হয়েছিল। (দেখুন: কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৫) আমি এটাকে এক নিদর্শনরূপে রেখে দিয়েছি;(1) অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি? (2)

(1) تَرَكْنَاهَا এর মধ্যে ها (এটা) সর্বনামের লক্ষ্য হল سَفِيْنَةٌ (নৌযান)। অথবা فِعْلَةٌ (উক্ত কর্ম)। অর্থাৎ, আমি এই নৌযান বা কর্মকে এক নিদর্শনরূপে রেখে দিয়েছি।

(2) مُدَّكٍرٍ এর প্রকৃত রূপ ছিল تا।  مَذْتَكِرٍ ‘তা’ অক্ষরটিকে د ‘দাল’ অক্ষর দ্বারা পরিবর্তন করা হয় এবং ذ ‘যাল’ অক্ষরকে د ‘দাল’ বানিয়ে দালকে দালের মধ্যে সন্ধি ঘটানো হয়। অর্থ হল, শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণকারী। (ফাতহুল ক্বাদীর)