ফাছজূদূলিল্লা-হি ওয়া‘বুদূ(ছিজদাহ-১২)।উচ্চারণ
আল্লাহ্র সামনে মাথা নত কর এবং তাঁর ইবাদাত করতে থাকো। ৫৫ তাফহীমুল কুরআন
এখন (ও সময় আছে) আল্লাহর সামনে ঝুঁকে পড় এবং তাঁর বন্দেগীতে লিপ্ত হও। #%৩১%#মুফতী তাকী উসমানী
অতএব আল্লাহকে সাজদাহ কর এবং তাঁর ইবাদাত কর। [সাজদাহ] ۩মুজিবুর রহমান
অতএব আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
অতএব আল্লাহ্কে সিজ্দা কর এবং তাঁরই ‘ইবাদত কর।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সুতরাং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা কর এবং ইবাদাত কর। [সাজদাহ] ۩আল-বায়ান
তাই, আল্লাহর উদ্দেশে সাজদায় পতিত হও আর তাঁর বন্দেগী কর। [সাজদাহ] ۩তাইসিরুল
অতএব আল্লাহ্র প্রতি সিজদা করো এবং উপাসনা করো।মাওলানা জহুরুল হক
৫৫
ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী ও অধিকাংশ আলেমের মতে এ আয়াত পাঠ করে সিজদা করা অবশ্য কর্তব্য। ইমাম মালেক, এ আয়াত তিলাওয়াত করে যদিও সব সময় সিজদা করতেন (যেমন কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী আহকামূল কুরআন গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছে।) কিন্তু এখানে সিজদা করা জরুরী নয় বলে তিনি মত পোষন করতেন। তাঁর এ মতের ভিত্তি যায়েদ ইবনে সাবেতের এই বর্ণনা যে, “আমি রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সামনে সূরা নাজম পাঠ করলে তিনি সিজদা করেননি।” (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী)। কিন্তু উক্ত হাদীসটি এ আয়াত পাঠ করে সিজদা করার বাধ্যবাধকতা রহিত করে না। কারণ এক্ষেত্রে এরূপ সম্ভাবনা বিদ্যমান যে, কোন কারণে নবী ﷺ সে সময় সিজদা করেননি কিন্তু পরে করেছেন। এ বিষয়ে অন্য সব রেওয়ায়াত থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় যে, এ আয়াত পাঠ করে সব সময় অবশ্যই সিজদা করা হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ), ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও মুত্তালিব (রাঃ) ইবনে আবী ওয়াদা’আর সর্বসম্মত বর্ণনাসমূহ হচ্ছে, নবী ﷺ সর্বপ্রথম যখন হারাম শরীফে তিলাওয়াত করেন তখন তিনি সিজদা করেছিলেন। সে সময় মুসলমান ও কাফের সবাই তাঁর সাথে সিজদায় পড়ে গিয়েছিলো।” (বুখারী, আহমাদ, নাসায়ী)। ইবনে উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, “নবী ﷺ নামাযে সূরা নাজম তিলাওয়াত করে সিজদা করেছেন এবং অনেকক্ষণ পর্যন্ত সিজদায় থেকেছেন।” (বায়হাকী, ইবনে মারদুইয়া)। সাবুরাতুল জুহানী বলেনঃ হযরত উমর (রাঃ) ফজরের নামাযে সূরা নাজম পড়ে সিজদা করেছেন এবং তারপর উঠে সূরা যিলযাল পড়ে রুকূ’ করেছেন।” (সা’য়ীদ ইবনে মানসুর)। ইমাম মালেক নিজেও মুয়াত্তা গ্রন্থের مَا جَاءَ فِى سُجُودِ الْقُرْآنِ অনুচ্ছেদে হযরত উমরের এ আমলের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
এটা সিজদার আয়াত। যে ব্যক্তি আরবীতে এ আয়াত পড়বে বা শুনবে তার উপর সিজদা করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।
৬২. অতএব আল্লাহকে সিজদা কর এবং ইবাদাত কর।(১) (সাজদাহ) ۩
(১) এসব আয়াতের দাবি এই যে, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে বিনয় ও নম্রতা সহকারে নত হও এবং সেজদা কর ও একমাত্র তারই ইবাদত কর। (মুয়াসসার) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে যে, সূরা নাজমের এই আয়াত পাঠ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেজদা করলেন এবং তার সাথে সব মুসলিম, মুশরিক, জিন ও মানব সেজদা করল। (বুখারী: ৪৮৬২) অপর এক হাদীসে আবদুল্লাহ ইবনে মসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বৰ্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা নজম পাঠ করত তেলাওয়াতের সেজদা আদায় করলে তার সাথে উপস্থিত সকল মুমিন ও মুশরিক সেজদা করল, একজন কোরাইশী বৃদ্ধ ব্যতীত। সে একমুষ্টি মাটি তুলে নিয়ে কপালে স্পর্শ করে বললঃ আমার জন্য এটাই যথেষ্ট। (বুখারী: ১০৬৭, ১০৭০, মুসলিম: ৫৭৬) আবদুল্লাহ ইবনে-মসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এই ঘটনার পর আমি বৃদ্ধকে কাফের অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি। সে ছিল উমাইয়া ইবনে খালাফ৷ (বুখারী: ৪৮৬৩)
(৬২) অতএব তোমরা আল্লাহকে সিজদা কর এবং তাঁর ইবাদত কর। (1) (সাজদাহ) ۩
(1) মুশরিক ও (কুরআনকে) মিথ্যাজ্ঞানকারীদেরকে তিরস্কার করার জন্য এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তাদের আচরণ যখন এই যে, তারা কুরআনকে সত্য মানার পরিবর্তে তার মান খাটো ও তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছে এবং আমার নবীর উপদেশ ও নসীহতের কোন প্রভাব তাদের উপর পড়ছে না, তখন তোমরা হে মুসলিমগণ! আল্লাহর সমীপে নত হয়ে ও তাঁর দাসত্ব ও আনুগত্য প্রদর্শন করে পবিত্র কুরআনের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা কর। সুতরাং এই আদেশ পালন করার জন্য নবী করীম (সাঃ) এবং সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) সিজদা করেন। এমনকি সেখানে সভায় উপস্থিত কাফেররাও সিজদা করে। যে কথা বহু হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। (এই আয়াত পাঠ করার পর সিজদা করা মুস্তাহাব। সিজদার আহকাম জানতে সূরা আ’রাফের শেষ আয়াতের টীকা দেখুন।)