ফাক-না ক-বা কাওছাইনি আও আদনা-।উচ্চারণ
অতঃপর তাদের মাঝে মুখোমুখি দু’টি ধনুকের জ্যা-এর মত কিংবা তার চেয়ে কিছু কম ব্যবধান রাইলো। ৮ তাফহীমুল কুরআন
এমনকি দুই ধনুকের দূরত্ব পরিমাণ কাছে এসে গেল, বরং তার চেয়েও বেশি নিকটে।মুফতী তাকী উসমানী
ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল, অথবা তারও কম।মুজিবুর রহমান
তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল বা এরও কম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তখন সে নৈকট্য ছিল দু’ ধনুকের পরিমাণ, অথবা তারও কম।আল-বায়ান
ফলে [নবী (সাঃ) ও জিবরাঈলের মাঝে] দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা আরো কম।তাইসিরুল
তখন তিনি দুই ধনুকের ব্যবধানে রইলেন, অথবা আরও কাছে।মাওলানা জহুরুল হক
৮
অর্থাৎ আসমানের পূর্ব দিগন্তের উপরের দিকে আবির্ভূত হওয়ার পর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর দিকে অগ্রসর হতে থাকলেন এবং অগ্রসর হতে হতে তাঁর কাছে এসে উপর দিকে শূন্যে ঝুলে থাকলেন। এরপর তিনি তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং এতটা নিকটবর্তী হলেন যে, তাঁর এবং রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর মধ্যে মুখোমুখি দু’টি ধনুকের জ্যা পরিমাণ কিংবা তার চেয়েও কিছু কম ব্যবধান রইলো। সাধারণভাবে মুফাসসিরগণ قَابَ قَوْسَيْنِ অর্থ দুই ধনুক পরিমাণই বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) قوس শব্দের অর্থ করেছেন হাত এবং كَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ অর্থ করেছেন এই যে, উভয়ের মাঝে তখন দুই হাত পরিমাণ ব্যবধান ছিল মুখোমুখি লাগানো দু’টি ধনুকের মধ্যবর্তী ব্যবধানের সমান কিংবা তার চেয়ে কিছু কম ব্যবধান ছিল বলার অর্থ এই নয় যে, দুরত্বের পরিমাণ নির্ণয়ের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলার কোন সন্দেহ হয়েছে, (নাউযুবিল্লাহ্)। এ ধরনের বাচনভঙ্গী গ্রহণের কারণ হলে সব ধনুক একই পরিমাপের হয় না। সূতরাং ঐ হিসেব অনুসারে যদি কোন কোন দূরত্ব বর্ণনা করা হয় তাহলে দূরত্বের পরিমাণে অবশ্যই কম বেশী হবে।
এটি আরবী ভাষার একটি বাগধারা। যখন দু’জন লোক পরস্পরে মৈত্রী চুক্তি করত তখন উভয়ে তাদের ধনুক দু’টি মিলিয়ে দিত। এরই থেকে অতি নৈকট্য প্রকাশ করার জন্য বলা হয়ে থাকে, তারা দুই ধনুকের দূরত্ব পরিমাণ নিকটবর্তী হয়ে গেল।
৯. ফলে তাদের মধ্যে দু ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা তারও কম।(১)
(১) دَنَا শব্দের অর্থ নিকটবর্তী হল এবং فَتَدَلَّىٰ শব্দের অর্থ বুলে গেল। অর্থাৎ ঝুঁকে পড়ে নিকটবর্তী হল। ধনুকের কাঠ এবং এর বিপরীতে ধনুকের সুতার মধ্যবর্তী ব্যাবধানকে قاب বলা হয়। এই ব্যবধান আনুমানিক একহাত হয়ে থাকে। (কুরতুবী) আলোচ্য আয়াতসমূহে জিবরীল আলাইহিস সালাম-এর অধিকতর নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করার কারণ এদিকে ইঙ্গিত করা যে, তিনি যে ওহী পৌঁছিয়েছেন তা শ্রবণে কোন সন্দেহ ও সংশয়ের অবকাশ নেই। (দেখুন: কুরতুবী)
(৯) ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা তারও কম। (1)
(1) কেউ কেউ অনুবাদ করেছেন দুই হাত পরিমাণ। এখানে নবী করীম (সাঃ) এবং জিবরীল (আঃ)-এর পারস্পরিক নিকটবর্তিতার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। মহান আল্লাহ এবং নবী করীম (সাঃ)-এর কাছাকাছি হওয়ার কথা বলা হচ্ছে না। যেমন কেউ কেউ এটাই বুঝাতে চেষ্টা করেন। আয়াতগুলোর প্রাসঙ্গিক আলোচনা থেকে একথা স্পষ্ট যে, এতে কেবল জিবরীল এবং নবী করীম (সাঃ)-এর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এই নিকটবর্তিতার সময়ই নবী করীম (সাঃ) জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেন। আর এটা হল নবুঅত প্রাপ্তির প্রথম দিকের সেই ঘটনা, যার আলোচনা এই আয়াতগুলোতে করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার আসল আকৃতিতে দর্শন করেন মি’রাজের রাতে।