وَٱلنَّجۡمِ إِذَا هَوَىٰ

ওয়ান্নাজমি ইযা-হাওয়া-।উচ্চারণ

তারকারাজির শপথ যখন তা অস্তমিত হলো। তাফহীমুল কুরআন

কসম নক্ষত্রের, যখন তা পতিত হয়। মুফতী তাকী উসমানী

শপথ নক্ষত্রের, যখন ওটা হয় অস্তমিত,মুজিবুর রহমান

নক্ষত্রের কসম, যখন অস্তমিত হয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শপথ নক্ষত্রের, যখন তা হয় অস্তমিত, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কসম নক্ষত্রের, যখন তা অস্ত যায়।আল-বায়ান

শপথ তারকার যখন তা অস্ত যায়,তাইসিরুল

ভাবো তারকার কথা, যখন তা অস্ত যায়!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

মূল আয়াতে النجم শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ এবং সুফিয়ান সাওরী বলেন এর অর্থ সপ্তর্ষিমণ্ডল (Pleiades)। ইবনে জারীর ও যামাখশারী এ মতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ, আরবী ভাষায় শুধু النَّجْم শব্দ বলা হলে তা দ্বারা সাধারণত সপ্তর্ষিমণ্ডলকেই বুঝানো হয়ে থাকে। সুদ্দী বলেন, এর অর্থ শুক্রগ্রহ (Venus)। আবু উবায়দা নাহবীর বক্তব্য হলো, এখানে النَّجْم বলে সমস্ত তারকাকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ বলতে চাওয়া হয়েছে যখন সকাল হলো এবং সমস্ত তারকা অস্তমিত হলো। পরিবেশ ও স্থান-কাল-পাত্রের বিচারে আমাদের কাছে এ শেষ মতটিই অধিক অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

নক্ষত্রের পতন দ্বারা তার অস্ত যাওয়া বোঝানো হয়েছে। সূরার পরিচিতিতে বলা হয়েছে যে, এ সূরার মূল বিষয়বস্তু হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত। তাই সূরার শুরুতে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ওহী সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তা এক নির্ভরযোগ্য ফেরেশতা আসমান থেকে তাঁর কাছে নিয়ে আসেন। তার আগে নক্ষত্রের কসম দ্বারা ইশারা করা হয়েছে, নক্ষত্র যেমন আলো দান করে এবং তা দেখে আরবের লোক পথ চেনে, তেমনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মানুষের জন্য হেদায়াতের আলো। মানুষ তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার পথ চিনতে সক্ষম হবে। তাছাড়া নক্ষত্ররাজির চলার জন্য আল্লাহ তাআলা যে পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তারা সে পথ থেকে বিন্দু পরিমাণ এদিক-ওদিক যায় না এবং বিপথগামিতার শিকারও হয় না। তেমনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, তিনি পথ ভুলে যাননি এবং বিপথগামীও হননি। আবার নক্ষত্র যখন অস্ত যাওয়ার উপক্রম করে তখন তার দ্বারা পথ চেনা বেশি সহজ হয়, তাই অস্তগামী নক্ষত্রের কসম করা হয়েছে। তাছাড়া নক্ষত্রের অস্তগমন পথিকের জন্য একটি বার্তাও বটে। সে যেন ডেকে বলে, আমি বিদায় নিলাম। কাজেই আমার দ্বারা শীঘ্র পথ জেনে নাও। তেমনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ছিলেন এক অস্তগামী নক্ষত্রের মত। দুনিয়ায় তাঁর অবস্থান কাল দীর্ঘ ছিল না। যেন বলা হচ্ছে, তাঁর মাধ্যমে যারা হেদায়াত লাভ করতে চাও, শীঘ্র তা করে নাও। কালক্ষেপণের কিন্তু সময় নেই।

তাফসীরে জাকারিয়া

১. শপথ নক্ষত্রের, যখন তা হয় অস্তিমিত(১),

(১) নক্ষত্ৰমাত্রকেই نجم বলা হয় এবং বহুবচন نجوم (ইরাবুল কুরআন)। কখনও এই শব্দটি কয়েকটি নক্ষত্রের সমষ্টি সপ্তর্ষিমণ্ডলের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এই আয়াতেও কেউ কেউ নজমের তফসীর “সুরাইয়া” অর্থাৎ সপ্তর্ষিমণ্ডল দ্বারা করেছেন। সুদ্দী বলেন, এর অর্থ শুক্রগ্রহ (Venus)। (কুরতুবী)। هوى শব্দটি পতিত হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়। নক্ষত্রের পতিত হওয়ার মানে অস্তমিত হওয়া। এই আয়াতে আল্লাহ তা’আলা নক্ষত্রের কসম খেয়ে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওহী সত্য, বিশুদ্ধ ও সন্দেহ-সংশয়ের ঊর্ধ্বে। (আদওয়াউল বায়ান, সা'দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১) শপথ নক্ষত্রের, যখন তা অস্তমিত হয়। (1)

(1) মুফাসসিরদের কেউ কেউ ‘নক্ষত্র’ বলতে কৃত্তিকা নক্ষত্রকে বুঝিয়েছেন। আবার কেউ কেউ শুকতারাকে বুঝিয়েছেন। অন্যরা সমস্ত তারাকেই বুঝিয়েছেন। هَوَى উপর থেকে নীচে পড়া। অর্থাৎ, যখন তা রাতের শেষে ফজরের সময় পতিত (অদৃশ্য) হয়। অথবা শয়তানদেরকে মারার জন্য তাদের উপর পতিত হয়। অথবা অন্যদের উক্তি অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন পতিত হবে।