وَٱلۡبَحۡرِ ٱلۡمَسۡجُورِ

ওয়াল বাহরিল মাছজূর।উচ্চারণ

এবং তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ সমুদ্রের। তাফহীমুল কুরআন

এবং উত্তাল সাগরেরমুফতী তাকী উসমানী

এবং শপথ উদ্বেলিত সমুদ্রের।মুজিবুর রহমান

এবং উত্তাল সমুদ্রের,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং শপথ উদ্বেলিত সমুদ্রের- ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কসম তরঙ্গ-বিক্ষুব্ধ সাগরের,*আল-বায়ান

শপথ তরঙ্গায়িত সমুদ্রের,তাইসিরুল

আর উচ্ছলিত সমুদ্রের কথা,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

মূল আয়াতে الْبَحْرِ الْمَسْجُورِ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর কয়েকটি অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। কোন কোন মুফাস্সির একে ‘আগুনে ভর্তি’ অর্থে গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ একে শূন্য ও খালি অর্থে গ্রহণ করেন যার পানি মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ একে আবদ্ধ বা আটকিয়ে রাখা অর্থে গ্রহণ করেন। তাদের মতে এর অর্থ হচ্ছে, সমুদ্রকে আটিকিয়ে বা থামিয়ে রাখা হয়েছে যাতে তার পানি মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে হারিয়ে না যায় এবং স্থলভাগকে প্লাবিত করে না ফেলে এবং পৃথীবীর সব অধিবাসী তাতে ডুবে না মরে। কেউ কেউ একে মিশ্রিত অর্থে গ্রহণ করে থাকেন। অর্থাৎ এর মধ্যে মিঠা ও লবনাক্ত পানি এবং গরম ও ঠাণ্ডা সব রকম পানি এসে মিশ্রিত হয়। আর কেউ কেউ একে কানায় কানায় ভরা ও তরংগ বিক্ষুব্ধ অর্থে গ্রহণ করেন। এসব অর্থের মধ্যে প্রথম দু’টি অর্থের পরিবেশ ও অবস্থার সাথে কোন মিল নেই। সমুদ্রের এ দু’টি অবস্থা, অর্থাৎ এর তলদেশ ফেটে সমস্ত পানি মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং তা আগুনে পূর্ণ হয়ে যাবে---কিয়ামতের সময় প্রকাশ পাবে। যা সূরা তাকভীরের ৬ আয়াত এবং সূরা ইনফিতারের ৩ আয়াতেও বর্ণিত হয়েছে। এ অবস্থা এখন বর্তমান নেই, ভবিষ্যতে সংঘঠিত হবে। তাই এ ঘটনার শপথ করে বর্তমান কালের লোকজনকে আখেরাত সংঘটিত হওয়ার কথা কি করে বিশ্বাস করানো যেতে পারে? তাই এ দু’টি অর্থ বাতিল করে الْبَحْرِ الْمَسْجُورِ অর্থ আবদ্ধ, মিশ্রিত, পূর্ণ ও তরংগ বিক্ষুদ্ধ অর্থে গ্রহণ করা যেতে পারে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. শপথ উদ্বেলিত সাগরের(১)—

(১) مَسْجُورٌ শব্দটি سجر থেকে উদ্ভূত। এর কয়েকটি অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। কোন কোন মুফাসসির একে ‘আগুনে ভর্তি’ অর্থে গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ অর্থ করেছেন, অগ্নি প্ৰজ্বলিত করা। তখন আয়াতের অর্থ, সমুদ্রের কসম, যাকে অগ্নিতে পরিণত করা হবে। এথেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, কিয়ামতের দিন সকল সমুদ্র অগ্নিতে পরিণত হবে। অন্য এক আয়াতে আছেঃ (وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ) (সূরা আত-তাকভীর: ৬) কেউ কেউ একে শূন্য ও খালি অর্থে গ্রহণ করেন যার পানি মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। বা শপথ খালি সমুদ্রের যা পরিপূর্ণ হবে। কেউ কেউ একে আবদ্ধ বা আটকিয়ে রাখা বা বাধাপ্ৰাপ্ত হওয়ার অর্থে গ্ৰহণ করেন।

তাদের মতে এর অর্থ হচ্ছে, সমুদ্রকে আটকিয়ে বা থামিয়ে রাখা হয়েছে যাতে তার পানি মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে হারিয়ে না যায় এবং স্থলভাগকে প্লাবিত করে না ফেলে এবং পৃথিবীর সব অধিবাসী তাতে ডুবে না মরে। অথবা জলভাগকে স্থলভাগ গ্রাস করতে বাধা দিয়ে রাখা হয়েছে নতুবা তা অনেক আগেই গ্ৰাস করে ফেলত। কেউ কেউ একে মিশ্ৰিত অর্থে গ্রহণ করে থাকেন। অর্থাৎ এর মধ্যে মিঠা ও লবণাক্ত পানি এবং গরম ও ঠান্ডা সব রকম পানি এসে মিশ্রিত হয়। আর কেউ কেউ একে কানায় কানায় ভরা ও তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ অর্থে গ্রহণ করেন। কাতাদাহ্ রাহেমাহুল্লাহ প্রমুখ مَسْجُورٌ এর অর্থ করেছেন পানিতে পরিপূর্ণ। ইবন জারীর রাহেমাহুল্লাহ এই অর্থই পছন্দ করেছেন। (কুরতুবী)।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬) শপথ উদ্বেলিত (প্রজ্বালিত) সমুদ্রের,(1)

(1) مسجور এর অর্থ হল প্রজ্বালিত। কেউ কেউ বলেছেন, এ থেকে সেই পানি বুঝানো হয়েছে, যা আরশের নীচে অবস্থিত এবং যেখান থেকে কিয়ামতের দিন বৃষ্টিপাত হবে। আর এর দ্বারা মৃতদেহ সজীব হয়ে উঠবে। কেউ বলেছেন, এ থেকে সমুদ্র বুঝানো হয়েছে। এগুলোতে কিয়ামতের দিন অগ্নি প্রজ্বলিত হয়ে উঠবে। আল্লাহ বলেন, {وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَت} যখন সমুদ্রসমূহ প্রজ্বালিত হবে। ইমাম শাওকানী (রঃ) শেষোক্ত এই অর্থটিকেই সর্বাধিক সঠিক বলে গণ্য করেছেন। আবার কেউ কেউ مَسْجُوْرٌ এর অর্থ করেছেন, مَمْلُوْءٌ (পরিপূর্ণ)। অর্থাৎ, বর্তমানে সমুদ্রে আগুন নেই বটে, তবে তা পানিতে ভরে আছে। ইমাম ত্বাবারী (রঃ) এই অর্থকেই পছন্দ করেছেন। এর আরো কয়েকটি অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। (দেখুন তাফসীর ইবনে কাসীর) (এ ছাড়া সমুদ্রের নিচে লাভা প্রজ্বালিত হয়ে থাকে। এই হিসাবেও সমুদ্র প্রজ্বালিত। -সম্পাদক)