وَفِي ثَمُودَ إِذۡ قِيلَ لَهُمۡ تَمَتَّعُواْ حَتَّىٰ حِينٖ

ওয়া ফী ছামূদা ইযকীলা লাহুম তামাত্তা‘ঊ হাত্তা-হীন।উচ্চারণ

তাছাড়া (তোমাদের জন্য নিদর্শন আছে) সামূদ জাতির মধ্যে। যখন তাদের বলা হয়েছিলো যে, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মজা লুটে নাও। ৪০ তাফহীমুল কুরআন

এবং ছামুদ জাতির মধ্যেও (অনুরূপ নিদর্শন রেখেছিলাম), যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, কিছু কালের জন্য মজা লুটে নাও (এর মধ্যে নিজেদের না শোধরালে শাস্তি ভোগ করতে হবে)।মুফতী তাকী উসমানী

আরও নিদর্শন রয়েছে সামূদের বৃত্তান্তে, যখন তাদেরকে বলা হলঃ ভোগ করে নাও স্বল্পকাল,মুজিবুর রহমান

আরও নিদর্শন রয়েছে সামূদের ঘটনায়; যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, কিছুকাল মজা লুটে নাও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আরও নিদর্শন রয়েছে সামূদের বৃত্তান্তে, যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘ভোগ করে নাও স্বল্পকাল।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর সামূদ জাতির ঘটনায়ও (নিদর্শন রয়েছে)। যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত ভোগ করে নাও’।আল-বায়ান

আর সামূদের ঘটনাতেও (নিদর্শন আছে) যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভোগ করে লও।’তাইসিরুল

আর ছামুদ-জাতির ক্ষেত্রেও। দেখো! তাদের বলা হয়েছিল -- "কিছুকাল উপভোগ করে নাও।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪০

এখানে কোন্ অবকাশ বুঝানো হয়েছে সে ব্যাপারে মুফাসসিরদের মধ্যে মতভেদ আছে। হযরত কাতাদা বলেন, এর দ্বারা সূরা হূদের সে আয়াতটির বিষয়বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যাতে বলা হয়েছে সামূদ জাতির লোকেরা হযরত সালেহর (আ) উটনীকে হত্যা করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয় যে, তোমরা তিন দিন পর্যন্ত ফূর্তি করে নাও। এরপরই তোমাদের ওপর আযাব আসবে। অপর দিকে হযরত হাসান বাসরী মনে করেন, একথা হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম দাওয়াতের প্রথম দিকেই তাঁর কওমকে বলেছিলেন। এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, যদি তোমরা তওবা ও ঈমানের পথ অবলম্বন করো তাহলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সুযোগ লাভ করবে এবং এরপরেই কেবল তোমাদের দুর্দিন আসবে। এ দু’টির ব্যাখ্যার মধ্যে দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটিই অধিক বিশুদ্ধ বলে মনে হয়। কারণ পরবর্তী আয়াত فَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ (এরপর তারা তাদের রবের নির্দেশ লংঘন করলো) থেকে বুঝা যায় যে, এখানে যে অবকাশের কথা বলা হচ্ছে তা সীমালংঘনের পূর্বে দেয়া হয়েছিলো। আর তারা সীমালঙ্ঘন করেছিল এ সতর্ক বাণীর পরে। অন্যদিকে সূরা হূদের আয়াতে তিন দিনের যে অবকাশের উল্লেখ করা হয়েছে তা ঐ সব অপরাধীর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তকর সীমালঙ্ঘন হয়ে যাওয়ার পরে দেয়া হয়েছিলো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৩. আরও নিদর্শন রয়েছে সামূদের বৃত্তান্তেও, যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, ভোগ করে নাও একটি নির্দিষ্ট কাল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৩) আরো (নিদর্শন রয়েছে) সামূদের বৃত্তান্তে, যখন তাদেরকে বলা হল, তোমরা ভোগ করে নাও স্বল্পকাল। (1)

(1) অর্থাৎ, যখন তারা তাদের দাবী করা অলৌকিক উষ্ট্রীকে হত্যা করে দিল, তখন তাদেরকে বলা হল যে, ‘আরো তিন দিন তোমরা পৃথিবীর সুখ ভোগ করে নাও। তিন দিন পর তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’ এই ঘটনার প্রতিই আয়াতে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেউ কেউ এটাকে সালেহ (আঃ)-এর নবী হওয়ার প্রথম দিকের কথা গণ্য করেছেন। শব্দগুলো এই অর্থও বহন করে। বরং আলোচনার প্রসঙ্গ থেকে এই অর্থই বেশী নিকটতর।