লাহুম মা-ইয়াশাঊনা ফীহা-ওয়ালাদাইনা-মাঝীদ।উচ্চারণ
সেখানে তাদের জন্য যা চাইবে তাই থাকবে। আর আমার কাছে আরো কিছু অতিরিক্ত জিনিসও থাকবে। ৪৫ তাফহীমুল কুরআন
এবং তারা (অর্থাৎ জান্নাতবাসীগণ) তাতে পাবে এমন সবকিছু, যা তারা চাবে এবং আমার কাছে আছে আরও বেশি কিছু। #%১৭%#মুফতী তাকী উসমানী
সেখানে তারা যা কামনা করবে তা’ই পাবে এবং আমার নিকট রয়েছে তারও অধিক।মুজিবুর রহমান
তারা তথায় যা চাইবে, তাই পাবে এবং আমার কাছে রয়েছে আরও অধিক।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এখানে তারা যা কামনা করবে তাই পাবে এবং আমার নিকট রয়েছে তারও অধিক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা যা চাইবে, সেখানে তাদের জন্য তাই থাকবে এবং আমার কাছে রয়েছে আরও অধিক।আল-বায়ান
সেখানে তাদের জন্য তা-ই আছে যা তারা ইচ্ছে করবে, আর আমার কাছে (তাছাড়াও) আরো বেশি আছে।তাইসিরুল
এদের জন্য থাকবে তারা সেখানে যা চাইবে তাই, তার আমাদের কাছে রয়েছে আরো বেশি।মাওলানা জহুরুল হক
৪৫
অর্থাৎ তারা যা চাইবে তাতো পাবেই। কিন্তু আমি তাদেরকে আরো এমন কিছু দেব যা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা তো দূরের কথা তাদের মন-মগজে তার কল্পনা পর্যন্ত উদিত হয়নি।
আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদের বিভিন্ন স্থানে জান্নাতের নি‘আমতরাজি সম্পর্কে মোটামুটিভাবে আলোকপাত করেছেন। তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার অবকাশ এ সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে নেই। কেননা অনন্ত বসবাসের সে জান্নাতে আল্লাহ তাআলা যে অফুরান নি‘আমতের ব্যবস্থা রেখেছেন একটি ‘হাদীসে কুদসী’তে তার দিকে এভাবে ইশারা করা হয়েছে যে, ‘আল্লাহ তাআলা জান্নাতে এমন সব নি‘আমত প্রস্তুত করে রেখেছেন, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন ব্যক্তির অন্তর তা কল্পনাও করেনি, এ আয়াতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষায় আল্লাহ তাআলা সেসব নি‘আমতের প্রতি ইশারা করছেন যে, ‘আমার কাছে আছে আরও বেশি কিছু’। সেই নি‘আমতসমূহের মধ্যে এক বিরাট নি‘আমত হল আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভ। আরও দেখুন সূরা ইউনুস (১০ : ২৬)।
৩৫. এখানে তারা যা কামনা করবে তা-ই থাকবে(১) এবং আমার কাছে রয়েছে তারও বেশী।(২)
(১) অর্থাৎ জান্নাতীরা জান্নাতে যা চাইবে, তাই পাবে। চাওয়া মাত্রই তা সামনে উপস্থিত দেখতে পাবে। বিলম্ব ও অপেক্ষার বিড়ম্বনা সইতে হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জান্নাতে কারও সন্তানের বাসনা হলে গর্ভধারণ, প্রসব ও সন্তানের কায়িক বৃদ্ধি এগুলো সব এক মুহুর্তের মধ্যে নিষ্পন্ন হয়ে যাবে। (মুসনাদে আহমাদ ৩/৯, তিরমিযী ২৫৬৩, ইবনে মাজাহ ৪৩৩৮)
(২) অর্থাৎ তারা যা চাইবে তাতো পাবেই। কিন্তু আমি তাদেরকে আরো এমন কিছু দেব যা পাওয়ার আকাংখা পোষণ করা তো দুরের কথা তাদের মন-মগজে তার কল্পনা পর্যন্ত উদিত হয়নি। কারণ, আমার কাছে এমন নেয়ামতও আছে, যার কল্পনাও মানুষ করতে পারে না। ফলে তারা এগুলোর আকাঙ্খা ও করতে পারবে না। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি আমার বান্দাদের জন্য এমন কিছু রেখেছি যা কোন চক্ষু কোনদিনে দেখেনি, কোন কান কোনোদিন শুনেনি এমনকি কোন মানুষের অন্তরেও উদিত হয়নি। (মুসলিম: ২৮২৪)
তবে আনাস ও জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, এই বাড়তি নেয়ামত হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার দর্শন ও সাক্ষাত, যা জান্নাতীরা লাভ করবে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন মহান আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি বর্ধিত কিছু চাও? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারা শুভ্র করে দেননি? আপনি কি আমাদেরকে জান্নাতে প্ৰবেশ করাননি? এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? রাসূল বলেন, তখন পর্দাঁ খুলে দেয়া হবে, তখন তারা বুঝতে পারবে তাদেরকে তাদের রব আল্লাহ্র দিকে তাকানোর নেয়ামতের চেয়ে বড় কোনো নেয়ামত দেয়া হয়নি। আর এটাই হলো, বর্ধিত বা বাড়তি নেয়ামত। (মুসলিমঃ ১৮১)
(৩৫) সেখানে তারা যা কামনা করবে তাই পাবে এবং আমার নিকট রয়েছে তারও অধিক (আল্লাহর দর্শন)।(1)
(1) এ থেকে মহান প্রতিপালকের সেই দর্শন (দীদার) লাভ বুঝানো হয়েছে, যা জান্নাতীদের ভাগ্যে জুটবে। যেমন, সূরা ইউনুসের ২৬নং আয়াত {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} এর ব্যাখ্যায় এসেছে।