يَوۡمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ ٱمۡتَلَأۡتِ وَتَقُولُ هَلۡ مِن مَّزِيدٖ

ইয়াওমা নাকূলুলিজাহান্নামা হালিম তালা’তি ওয়া তাকূলুহাল মিম্মাঝীদ।উচ্চারণ

সেদিনের কথা স্মরণ করো, যখন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করবো যে, তোমার পেট কি ভরেছে? সে বলবে, “আরো কিছু আছে নাকি?” ৩৮ তাফহীমুল কুরআন

সেই সময় স্মরণ রাখ, যখন আমি জাহান্নামকে বলব, তুমি কি ভরে গেছ? সে বলবে, আরও কিছু আছে কি? #%১৫%#মুফতী তাকী উসমানী

সেই দিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করবঃ তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? জাহান্নাম বলবেঃ আরও আছে কি?মুজিবুর রহমান

যেদিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞাসা করব; তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? সে বলবেঃ আরও আছে কি?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সেদিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞাসা করব, ‘তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছো ?’ জাহান্নাম বলবে, ‘আরও আছে কি ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেদিন আমি জাহান্নামকে বলব, ‘তুমি কি পরিপূর্ণ হয়েছ’? আর সে বলবে, ‘আরো বেশি আছে কি’?আল-বায়ান

সে দিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করব, ‘তুমি কি পরিপূর্ণ হয়েছ’? সে বলবে, ‘আরো বেশি আছে কি?’তাইসিরুল

সেইদিন আমরা জাহান্নামকে বলব -- "তুমি কি পূর্ণ হয়ে গিয়েছ?" আর সে বলবে -- "আরো বেশি আছে কি?"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৮

এর দু’টি অর্থ হতে পারে। একটি হচ্ছে, এখন আমার মধ্যে আর অধিক মানুষের স্থান সংকুলানের অবকাশ নেই। অপরটি হচ্ছে, আরো যত অপরাধী আছে তাদের নিয়ে আসুন। প্রথম অর্থ গ্রহণ করলে একথা থেকে যে ধারণা পাওয়া যায় তাহলো অপরাধীদেরকে এমন গাদাগাদি করে জাহান্নামে ভরা হয়েছে যে, সেখানে একটি সুঁচ পরিমাণ স্থানও আর অবশিষ্ট নেই। তাই জাহান্নামকে যখন জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তোমার উদর কি পূর্ণ হয়েছে? তখন সে বিব্রত হয়ে জবাব দিচ্ছে এখনো কি আরো মানুষ আছে? দ্বিতীয় অর্থ গ্রহণ করলে মনে এরূপ একটি ধারণা সৃষ্টি হয় যে, সে সময় জাহান্নাম অপরাধীদের প্রতি এমন ভীষণভাবে রুষ্ট থাকবে যে, সে ‘আরো কেউ আছে কি’ বলে চাইতে থাকবে এবং সেদিন যেন কোন অপরাধী রেহাই না পায় তাই কামনা করবে।

এখানে একটি প্রশ্ন দেখা দেয় যে, আল্লাহ তা’আলার এ প্রশ্ন এবং জাহান্নামের এ জবাবের ধরণ কি হবে? এটা কি শুধু রূপক বর্ণনা? না কি বাস্তবে জাহান্নাম প্রাণ সত্তাধারী বাকশক্তি সম্পন্ন কোন বস্তু যাকে সম্বোধন করা যেতে পারে এবং সে-ও কথার জবাব দিতে পারে? প্রকৃতপক্ষে এ ব্যাপারে অকাট্যভাবে কোন কিছু বলা যেতে পারে না। হতে পারে এটা একটা রূপক কথা। পরিস্থিতির সঠিক চিত্র তুলে ধরার জন্য প্রশ্নোত্তর আকারে জাহান্নামের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন কোন লোক যদি বলে, আমি গাড়ীকে বললাম, তুমি চলছো না কেন? সে জবাব দিল, আমার মধ্যে পেট্রোল নেই। তবে এটাও পুরোপুরি সম্ভব যে, কথাটি বাস্তব ভিত্তিকই হবে। কারণ, পৃথিবীর যেসব জিনিস আমাদের কাছে অচেতন জড় পদার্থ এবং বাকশক্তিহীন যেসব জিনিস সম্পর্কে আমাদের এ ধারণা পোষণ করা ঠিক নয় যে, তা আল্লাহর কাছেও অবশ্যই তদ্রুপ অচেতন জড় ও বাকশক্তিহীন পদার্থ হবে। স্রষ্টা তাঁর প্রতিটি সৃষ্টির সাথে কথা বলতে পারেন এবং তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি তাঁর কথার জবাবও দিতে পারে। তার ভাষা আমাদের কাছে যতই দুর্বোধ্য হোক না কেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ জাহান্নাম বলবে, আমি আরও মানুষ গ্রাস করতে প্রস্তুত আছি।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩০. সেদিন আমরা জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করব, তুমি কি পূর্ণ হয়েছ? জাহান্নাম বলবে, আরো বেশী আছে কি?(১)

(১) হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জাহান্নামে ফেলা হবে শেষ পর্যন্ত জাহান্নাম বলবে, আরো বেশীর অবকাশ আছে কি? অবশেষে মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র পা জাহান্নামে রাখবেন, তখন জাহান্নাম বলবে, ক্বাত, ক্বাত বা পূর্ণ হয়ে গেছি। (বুখারী ৪৮৪৮, ৭৪৪৯, মুসলিম ২৮৪৬)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩০) সেদিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করব, ‘তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ?’ জাহান্নাম বলবে, ‘আরো আছে কি?’(1)

(1) মহান আল্লাহ বলেছেন, {لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ} ‘‘আমি অবশ্যই জাহান্নামকে মানুষ ও জ্বিন দিয়ে ভর্তি করব।’’ (সূরা সাজদাহ ১৩ আয়াত) এই প্রতিশ্রুতি যখন পূরণ করা হবে এবং মহান আল্লাহ কাফের জ্বিন ও মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে দেবেন, তখন তিনি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করবেন, তুই ভরে গেছিস, না ভরিস নি? সে উত্তর করবে, আরো আছে কি? অর্থাৎ, যদিও আমি ভরে গেছি, কিন্তু হে আল্লাহ! তোমার শত্রুদের জন্য আমার উদরে আরো ঢুকার মত স্থান আছে। জাহান্নামের সাথে আল্লাহর এই কথোপকথন এবং জাহান্নামের উত্তর প্রদান আল্লাহর ক্ষমতার কাছে মোটেই কোন (অসম্ভব) ব্যাপার নয়। হাদীসেও এসেছে যে, ‘‘আগুনে মানুষদেরকে নিক্ষেপ করা হবে, আর জাহান্নাম বলবে যে, (هَلْ مِن مَّزِيْدٍ) (আরো আছে কি?) এমন কি জাহান্নামে মহান আল্লাহ তাঁর পা রেখে দেবেন, ফলে জাহান্নাম বলবে, قَط قَط (বাস্ বাস্)। (বুখারীঃ তাফসীর সূরা ক্বা-ফ) পক্ষান্তরে জান্নাত সম্পর্কে এসেছে যে, সেখানে তখনও স্থান খালি থাকবে। তাই তার জন্য আল্লাহ নতুন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যার দ্বারা তিনি তা পূর্ণ করবেন। (মুসলিমঃ জান্নাত অধ্যায়)