مَا يُبَدَّلُ ٱلۡقَوۡلُ لَدَيَّ وَمَآ أَنَا۠ بِظَلَّـٰمٖ لِّلۡعَبِيدِ

মা-ইউবাদ্দালুল কাওলুলাদাইয়া ওয়ামাআনা-বিজাল্লা-মিলিলল‘আবীদ।উচ্চারণ

আমার কথার কোন রদবদল হয় না। ৩৬ আর আমি আমার বান্দাদের জন্য অত্যাচারী নই। ৩৭ তাফহীমুল কুরআন

আমার সামনে কথার কোন রদবদল হতে পারে না #%১৪%# এবং আমি বান্দাদের প্রতি জুলুম করি না।মুফতী তাকী উসমানী

আমার কথার রদ বদল হয়না এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোন অবিচার করিনা।মুজিবুর রহমান

আমার কাছে কথা রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নই।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘আমার কথার রদবদল হয় না এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোন অবিচার করি না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমার কাছে কথা রদবদল হয় না, আর আমি বান্দার প্রতি যুলমকারীও নই’।আল-বায়ান

আমার কথা কক্ষনো বদলে না, আর আমি আমার বান্দাহদের প্রতি যুলমকারীও নই।তাইসিরুল

আমার কাছে কথার রদবদল হয় না, এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি আদৌ অন্যায়াচারী নই।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৬

অর্থাৎ আমার কাছে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোন নিয়ম নেই। তোমাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপের যে নির্দেশ আমি দিয়েছি তা এখন প্রত্যাহার করা যেতে পারে না। তাছাড়া বিপথগামী করার ও বিপথগামী হওয়ার শাস্তি আখেরাতে কি হবে সে বিষয়ে আমি পৃথিবীতে যে নিয়মের ঘোষণা দিয়েছিলাম তাও আর এখন পরিবর্তন করা যেতে পারে না।

৩৭

মূল আয়াতে ظَلَّامٍ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ চরম অত্যাচারী। একথার অর্থ এ নয় যে, আমি আমার বান্দার ব্যাপারে চরম অত্যাচারী নই বরং অত্যাচারী। এর অর্থ বরং এই যে, সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা হয়ে যদি আমি আমার প্রতিপালিত সৃষ্টির ওপরে জুলুম করি সেক্ষেত্রে আমি হবো চরম জালেম। তাই আমি আমার বান্দার ওপরে আদৌ কোন জুলুম করি না। যে শাস্তি তোমাকে আমি দিচ্ছি তা ঠিক ততখানি যার উপযুক্ত তুমি নিজেই নিজেকে বানিয়েছো। তোমার প্রাপ্য শাস্তির চাইতে সামান্য অধিক শাস্তিও তোমাকে দেয়া হচ্ছে না। আমার আদালত নির্ভেজাল ও পক্ষপাতিহীন ইনসাফের আদালত। কোন ব্যক্তি এখানে এমন কোন শাস্তি পেতে পারে না আসলেই সে যার উপযুক্ত নয় এবং নিশ্চিত সাক্ষ্য দ্বারা যা প্রমাণ করা হয়নি।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ সতর্কবাণীতে ব্যক্ত এই কথা যে, কুফর অবলম্বনকারী ও তার উৎসাহদাতা উভয়েই জাহান্নামের উপযুক্ত। এর কোন পরিবর্তন নেই।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৯. আমার কাছে কথা রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি যুলুমকারীও নই।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৯) আমার কথার রদ-বদল হয় না(1) এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোন অবিচার করি না।’ (2)

(1) অর্থাৎ, যে সব অঙ্গীকার আমি করেছি, তার বিপরীত কিছুই হবে না, বরং তা সর্বাবস্থায় পূর্ণ হবেই এবং এই নীতি অনুসারে তোমাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে শাস্তির ফায়সালা হয়েছে, যাতে কোন পরিবর্তন হতে পারে না।

(2) অর্থাৎ, এ রকম হতেই পারে না যে, বিনা অপরাধে যা তারা করেনি এবং বিনা পাপে যা তাদের দ্বারা সম্পাদিত হয়নি, আমি তাদেরকে শাস্তি দিয়ে দেব। (আর আমি বান্দাদের প্রতি যালেম নই।) ظلاَّم (বড় যালেম) এখানে ظالم (যালেম) অর্থে ব্যবহার হয়েছে; যা প্রচলিত কথা হিসাবে বলা হয়েছে। যেমন সাধারণতঃ বলা হয় যে, অমুক ব্যক্তি তার চাকরদের উপর খুব যুলুম কর। অমুক ব্যক্তি বড় যালেম। এ কথাগুলোর উদ্দেশ্য ‘মুবালাগা’ (আধিক্য) প্রমাণ করা হয় না, বরং তার পক্ষ হতে যে যুলুম হয়, তারই প্রকাশ ঘটানো হয়। অথবা উদ্দেশ্য হল نفي (নেতিবাচক বাক্য)-তে ‘মুবালাগা’ (আধিক্য প্রকাশ) করা। অর্থাৎ, আমি বান্দাদের উপর সামান্য পরিমাণও যুলুম করব না।