۞قَالَ قَرِينُهُۥ رَبَّنَا مَآ أَطۡغَيۡتُهُۥ وَلَٰكِن كَانَ فِي ضَلَٰلِۭ بَعِيدٖ

ক-লা কারীনুহূরব্বানা-মাআতগাইতুহূওয়ালা-কিন ক-না ফী দালা-লিম বা‘ঈদ।উচ্চারণ

তার সহগামী আরয করলোঃ হে প্রভু, আমি তাকে বিদ্রোহী করিনি বরং সে নিজেই চরম গোমরাহীতে ডুবে ছিল। ৩৪ তাফহীমুল কুরআন

তার সঙ্গী বলবে, #%১৩%# হে আমাদের প্রতিপালক! আমি তাকে বিপথগামী করিনি; বরং সে নিজেই চরম বিভ্রান্তিতে নিপতিত ছিল।মুফতী তাকী উসমানী

তার সহচর শাইতান বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! আমি তাকে অবাধ্য হতে প্ররোচিত করিনি। বস্তুতঃ সে নিজেই ছিল ঘোর বিভ্রান্ত।মুজিবুর রহমান

তার সঙ্গী শয়তান বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমি তাকে অবাধ্যতায় লিপ্ত করিনি। বস্তুতঃ সে নিজেই ছিল সুদূর পথভ্রান্তিতে লিপ্ত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তার সহচর শয়তান বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমি তাকে অবাধ্য করি নাই। বস্তুত সে-ই ছিল ঘোর বিভ্রান্ত।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তার সঙ্গী (শয়তান) বলবে, ‘হে আমাদের ‘রব’, আমি তাকে বিদ্রোহী করে তুলিনি, বরং সে নিজেই ছিল সুদূর পথভ্রষ্টতার মধ্যে’।আল-বায়ান

তার সঙ্গী বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমি তাকে বিদ্রোহী বানাইনি বরং সে নিজেই ছিল সুদূর গুমরাহীর মধ্যে।’তাইসিরুল

আর তার সাঙ্গাত বলবে -- "আমাদের প্রভু! আমি তো তাকে বিদ্রোহী বানাই নি, কিন্ত সে নিজেই ছিল সুদূর বিভ্রান্তিতে।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৪

এখানে বক্তব্যের ধরন থেকে স্বতঃই প্রকাশ পাচ্ছে যে, ‘সাথী’ অর্থ শয়তান--যে পৃথিবীতে তার পেছনে লেগেছিলো। বক্তব্যের ধরণ থেকে একথারও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ঐ ব্যক্তি ও তার শয়তান উভয়ে আল্লাহর আদালতে পরস্পর ঝগড়া করছে। সে বলছে, জনাব, এ জালেম আমার পেছনে লেগেছিলো এবং শেষ পর্যন্ত সে-ই আমাকে পথভ্রষ্ট করে ক্ষান্ত হয়েছে। সুতরাং শাস্তি পাওয়া উচিত তার। শয়তান তার জবাবে বলছেঃ জনাব, আমার তো তার ওপরে কোন হাত ছিল না যে, সে বিদ্রোহী হতে না চাইলেও আমি জোর করে তাকে বিদ্রোহী বানিয়ে দিয়েছি। এ দুর্ভাগার তো নিজেরই সৎকাজের প্রতি ঘৃণা এবং মন্দকাজের প্রতি আসক্তি ছিলো। তাই নবী-রসূলদের কোন কথাই তার মনোপুত হয়নি এবং আমার প্ররোচনায় সে ক্রমাগত বিপথগামী হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এখানে ‘সঙ্গী’ বলে শয়তানকে বোঝানো হয়েছে। কেননা সেও মানুষকে বিপথগামী করার জন্য সর্বদা তার সঙ্গে লেগে থাকত। কাফেরগণ চাইবে তাদের প্রাপ্য শাস্তি যেন তাদের পরিবর্তে তাদের নেতৃবর্গ ও শয়তানকে দেওয়া হয় এবং এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলবে, আমাদেরকে তারাই বিপথগামী করেছিল। এর উত্তরে শয়তান বলবে, আমি বিপথগামী করিনি। কেননা তোমাদের উপর আমার এমন কোন আধিপত্য ছিল না যে, তোমাদেরকে ভ্রান্ত পথে চলতে বাধ্য করব। আমি বড়জোর তোমাদেরকে প্ররোচনা দিয়েছিলাম ও ভুল পথে চলতে উৎসাহ যুগিয়েছিলাম, কিন্তু সে পথে তোমরা চলেছিলে তো স্বেচ্ছায়। শয়তানের এ উত্তর বিস্তারিতভাবে সূরা ইবরাহীমে গত হয়েছে (১৪ : ২২)।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৭. তার সহচর শয়তান বলবে, হে আমাদের রব! আমি তাকে বিদ্রোহী করে তুলিনি। বস্তুত সেই ছিল ঘোর বিভ্ৰান্ত।(১)

(১) আলোচ্য আয়াতে قَرِيْنٌ বলে এই শয়তানই বোঝানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যখন জাহান্নামে নিক্ষেপ করার আদেশ হয়ে যাবে; তখন এই শয়তান বলবে, ‘আমি তাকে পথভ্রষ্ট করিনি; বরং সে নিজেই পথভ্রষ্টতা অবলম্বন করত’ এবং সদুপাদেশে কর্ণপাত করত না। (দেখুন: ফাতহুল কাদীর, বাগভী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৭) তার সহচর (শয়তান) বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমি তাকে অবাধ্য হতে প্ররোচিত করিনি। বস্তুতঃ সে নিজেই ছিল ঘোর বিভ্রান্ত।’ (1)

(1) এই জন্য সে সত্বর আমার কথা মেনে নিয়েছিল। সে যদি তোমার একনিষ্ঠ বান্দা হত, তবে সে আমার ফাঁদে পা দিত না। এখানে قَرِيْنٌ (সহচর) বলতে শয়তান।