وَٱتۡرُكِ ٱلۡبَحۡرَ رَهۡوًاۖ إِنَّهُمۡ جُندٞ مُّغۡرَقُونَ

ওয়াতরুকিল বাহর রহওয়া- ইন্নাহুম জনদুম মুগরকূন।উচ্চারণ

সমুদ্রকে আপন অবস্থায় উন্মুক্ত থাকতে দাও। এই পুরো সেনাবাহিনী নিমজ্জিত হবে। ২৩ তাফহীমুল কুরআন

তুমি সাগরকে স্থির থাকতে দাও। নিশ্চয়ই তারা এমন এক বাহিনী যা নিমজ্জিত হবে।মুফতী তাকী উসমানী

সমুদ্রকে স্থির থাকতে দাও, তারা এমন এক বাহিনী যারা নিমজ্জিত হবে।মুজিবুর রহমান

এবং সমুদ্রকে অচল থাকতে দাও। নিশ্চয় ওরা নিমজ্জত বাহিনী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সমুদ্রকে স্থির থাকতে দাও, এরা এমন এক বাহিনী যা নিমজ্জিত হবেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর সমুদ্রকে রেখে দাও শান্ত, নিশ্চয় তারা হবে এক ডুবন্ত বাহিনী’।আল-বায়ান

(মূসা বানী ইসরাঈলকে নিয়ে সমুদ্র পার হয়ে গিয়ে সমুদ্রকে আবার প্রবহমান করার জন্য স্বীয় লাঠি নিক্ষেপ করলে আল্লাহ বললেন) সমুদ্রকে স্থির থাকতে দাও, তারা (অর্থাৎ ফেরাউনী দল) এমন এক বাহিনী যারা নিমজ্জিত হবে।তাইসিরুল

আর সমুদ্রকে পেছনে রেখে যাও শান্ত অবস্থায়। নিঃসন্দেহ তারা হচ্ছে এমন এক বাহিনী যারা নিমজ্জিত হবে।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৩

এ নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো সেই সময় যখন হযরত মূসা তাঁর কাফেলাসহ সমুদ্র পার হয়ে গিয়েছেন এবং তিনি চাচ্ছিলেন সমুদ্রের মধ্য দিয়ে রাস্তা তৈরি হয়ে যাওয়ার আগে তা যেমন ছিল লাঠির আঘাতে পুনরায় তেমন করে দেবেন। যাতে মু’জিযার সাহায্যে যে রাস্তা তৈরী হয়েছে ফেরাউন ও তার সৈন্য-সামন্ত সেই রাস্তা ধরে এসে না পড়ে। সেই সময় বলা হয়েছিলো, তা যেন না করা হয়। সমুদ্রকে ঐভাবেই বিভক্ত থাকতে দাও, যাতে ফেরাউন তার সৈন্য-সামন্ত নিয়ে এই রাস্তায় নেমে আসে। তারপর সমুদ্রের পানি ছেড়ে দিয়ে এই গোটা সেনাবাহিনীকে ডুবিয়ে মারা হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ পথে তোমার সামনে যখন সাগর পড়বে, তখন আল্লাহ তাআলা সাগরকে থামিয়ে দেবেন এবং তোমার জন্য তার মধ্য দিয়ে পথ করে দেবেন। সাগর পার হয়ে যাওয়ার পর তোমার আর এই চিন্তা করার দরকার নেই যে, সাগরের সেই পথ তো ফির‘আউনের বাহিনীকেও উপকার দেবে এবং তা দিয়ে পার হয়ে তারা যথারীতি আমাদের পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকবে। বরং তুমি সাগরকে সেভাবেই স্থির থাকতে দাও। আল্লাহ তাআলা নিজেই তাদেরকে ডোবানোর জন্য সাগরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন। ফলে তারা সব ধ্বংস হবে। এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সূরা ইউনুস (১০ : ৯০-৯২) ও সূরা শুআরায় (২৬ : ৫৬-৬৭) গত হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৪. আর সমুদ্রকে স্থির থাকতে দিন(১), নিশ্চয় তারা হবে এক ডুবন্ত বাহিনী।

(১) মূসা আলাইহিস সালাম সঙ্গীগণসহ সমুদ্র পার হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে কামনা করবেন যে, সমুদ্র পুনরায় আসল অবস্থায় ফিরে যাক, যাতে ফিরআউনের বাহিনী পার হতে না পারে। তাই আল্লাহ তা'আলা তাকে বলে দিলেন, তোমরা পার হওয়ার পর সমুদ্রকে শান্ত ও আচল অবস্থায় থাকতে দাও এবং পুনরায় পানি চলমান হওয়ার চিন্তু করো না- যাতে ফিরআউন শুষ্ক ও তৈরী পথ দেখে সমুদ্রের মধ্যস্থলে প্রবেশ করে। তখন আমি সমুদ্রকে চলমান করে দেব এবং তারা নিমজ্জিত হবে। (দেখুন: তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৪) সমুদ্রকে শান্ত থাকতে দাও,(1) ওরা এমন এক বাহিনী যা ডুবে মরবে।

(1) رَهْوًا এর অর্থ স্থির, শান্ত অথবা শুষ্ক। অর্থাৎ, তোমার লাঠি মারলে সমুদ্র অলৌকিকভাবে স্থির বা শুকনো হয়ে যাবে এবং তাতে পথের সৃষ্টি হবে। অতঃপর তোমরা সমুদ্র পার হয়ে যাওয়ার পর তাকে ঐ অবস্থাতেই ছেড়ে দেবে, যাতে ফিরআউন ও তার সৈন্যরা সমুদ্র পার হওয়ার জন্য তাতে প্রবেশ করে এবং আমি তাদেরকে ওখানেই ডুবিয়ে দিই। আর হলও তাই; যার বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। (সূরা ক্বাস্বাস ৪০নং আয়াত দ্রঃ)