وَقِيلِهِۦ يَٰرَبِّ إِنَّ هَـٰٓؤُلَآءِ قَوۡمٞ لَّا يُؤۡمِنُونَ

ওয়া কীলিহী ইয়া-রব্বি ইন্না হাউলাই কাওমুল লা-ইউ’মিনূন।উচ্চারণ

রসূলের এই কথার শপথ, ‘হে রব, এরাই সেই সব লোক যারা মানছে না।’ ৭০ তাফহীমুল কুরআন

(আল্লাহ রাসূলের) একথা সম্পর্কেও অবগত যে, হে আমার রব্ব! এরা এমন সম্প্রদায়, যারা ঈমান আনবে না। #%২৮%#মুফতী তাকী উসমানী

আমি অবগত আছি রাসূলের এই উক্তি - হে আমার রাব্ব! এই সম্প্রদায়তো ঈমান আনবেনা।মুজিবুর রহমান

রসূলের এই উক্তির কসম, হে আমার পালনকর্তা, এ সম্প্রদায় তো বিশ্বাস স্থাপন করে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি অবগত আছি রাসূলের এই উক্তি : ‘হে আমার প্রতিপালক! এই সম্প্রদায় তো ঈমান আনবে না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তার (রাসূলের) বাণী ‘হে আমার রব, নিশ্চয় এরা এমন কওম যারা ঈমান আনবে না।’আল-বায়ান

রসূলের এ উক্তির শপথঃ ‘হে আমার প্রতিপালক! এ জাতির লোকেরা ঈমান আনবে না।’তাইসিরুল

আর তাঁর উক্তি -- "হে আমার প্রভু! তারা তো এক জাতি যারা ঈমান আনছে না।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭০

কুরআন মজীদের যেসব আয়াতে আরবী ব্যাকরণের অত্যন্ত জটিল প্রশ্ন দেখা দেয় এ আয়াতটি তার অন্যতম। এখানে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে যে, وقيله কথাটির মধ্যে واو কোন্ প্রকৃতির এবং ওপরের বক্তব্যের ধারাবাহিকতার মধ্যে কোন জিনিসটির সাথে এর সম্পর্ক? তাফসিরকারগণ এ সম্পর্কে বহু আলোচনা করেছেন। কিন্তু তাদের সেই সব আলোচনার মধ্যে আমি কোন সন্তোষজনক বিষয় পাইনি। শাহ আবদুল কাদের (র) সাহেবের অনুবাদ থেকে যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় সেইটিই আমার কাছে সর্বাধিক বিশুদ্ধ বলে মনে হয় অর্থাৎ এখানে واو ‘আতাফ’-এর (বাক্য সংযোজনের জন্য) জন্য ব্যবহৃত হয়নি, বরং শপথের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এবং তা فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ আয়াতাংশের সাথে সম্পর্কিত। আর قيله এর সর্বনাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। يَا رَبِّ إِنَّ هَؤُلَاءِ قَوْمٌ لَا يُؤْمِنُونَ (হে রব, এরাই সেই সব লোক যারা মানছে না) আয়াতাংশ যার প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত করছে। এক্ষেত্রে আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়ঃ

“রসূলের এই বাণীর শপথ যে, হে রব! এরাই সেই সব লোক যারা মানছে না” কী বিস্ময়কর এদের প্রতারিত হওয়া। এরা নিজেরাই স্বীকার করছে যে, এদের ও এদের উপাস্যদের স্রষ্টাও আল্লাহ। তা সত্ত্বেও স্রষ্টাকে বাদ দিয়ে সৃষ্টি উপাসনার জন্য গোঁ ধরে আছে।

রসূলের এই কথাটির শপথ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের এই আচরণ স্পষ্ট প্রমাণ করছিলো যে, তারা প্রকৃতই হঠকারী লোক। কারণ, তাদের নিজেদের স্বীকৃতি অনুসারে তাদের আচরণের অযৌক্তিকতা প্রকাশ পাচ্ছে। এ ধরনের অযৌক্তিকতা আচরণ শুধু সেই ব্যক্তিই করতে পারে যে, না মানার সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আছে। অন্য কথায় এ শপথের অর্থ হচ্ছে, রসূল অতীব সত্য কথাই বলেছেন। প্রকৃতই এরা মেনে নেয়ার মত লোক নয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ আয়াতটির দ্বারা স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, কাফেরদের উপর আল্লাহ তাআলার গযব নাযিল হওয়ার পক্ষে বড় বড় কারণ বর্তমান রয়েছে। একদিকে তো তাদের কঠিন-কঠিন অপরাধ, শাস্তি নাযিলের জন্য যার যে-কোন একটাই যথেষ্ট। অন্যদিকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এহেন অভিযোগ। যিনি রহমাতুল লিল আলামীন ও শাফিউল মুযনিবীন হয়ে জগতে এসেছেন, তিনিই যখন সুপারিশের বদলে অভিযোগ করছেন, তখন বোঝাই যাচ্ছে, তারা তাঁকে কী পরিমাণ দুঃখ-কষ্ট দিয়ে থাকবে। অন্যথায় দয়ার নবী কিছুতেই এমন ব্যথাতুর অভিযোগ করতেন না।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮৮. আর তাঁর (রাসূল) এ উক্তিঃ হে আমার রব! নিশ্চয় এরা এমন সম্প্রদায় যারা ঈমান আনবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮৮) আর রসূলের উক্তি,(1) ‘হে আমার প্রতিপালক! এরা তো সেই সম্প্রদায় যারা বিশ্বাস করবে না।’ (এর জ্ঞান কেবল তাঁরই আছে।)

(1) وَقِيْلِهِ এর সংযোগ হল وَعِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ এর সাথে। অর্থাৎ, وَعِلْمُ قِيْلِهِ আল্লাহরই কাছে রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান এবং স্বীয় পয়গম্বরের অভিযোগের জ্ঞান।