ফাসবির ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়াছতাগফির লিযামবিকা ওয়া ছাব্বিহ বিহামদি রব্বিকা বিল‘আশিইয়ি ওয়াল ইবক-র।উচ্চারণ
অতএব, হে নবী, ধৈর্যধারণ করো। ৭১ আল্লাহর ওয়াদা সত্য, ৭২ নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য মাফ চাও ৭৩ তাফহীমুল কুরআন
সুতরাং (হে রাসূল!) সবর অবলম্বন কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং নিজ ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর #%২০%# এবং সকাল ও সন্ধ্যায় নিজ প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাসবীহ পাঠ করতে থাক।মুফতী তাকী উসমানী
অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর; নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।মুজিবুর রহমান
অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর ; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ র প্রতিশ্রুতি সত্য, তুমি তোমার ত্রুটির জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সকাল ও সন্ধ্যায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কাজেই তুমি ধৈর্য ধারণ কর, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আর তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং সকাল- সন্ধ্যায় তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ কর।আল-বায়ান
কাজেই তুমি ধৈর্য ধারণ কর, (তুমি দেখতে পাবে) আল্লাহর ও‘য়াদা সত্য। তুমি তোমার ভুল-ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর সকাল-সন্ধ্যা তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা বর্ণনা কর।তাইসিরুল
সুতরাং তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, নিঃসন্দেহ আল্লাহ্র ওয়াদা ধ্রুবসত্য। আর তুমি তোমার দোষত্রুটির জন্য পরিত্রাণ খুঁজো এবং তোমার প্রভুর প্রশংসার সাথে রাত্রি ও প্রভাতে জপতপ করো।মাওলানা জহুরুল হক
৭১
অর্থাৎ তুমি যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছো তা অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে প্রশান্ত মনে বরদাশত করতে থাকো।
৭২
“আমি এ পার্থিব জীবনেও আমার রসূল ও ঈমানদারদের অবশ্যই সাহায্য করি।” একটু আগেই ওপরে বর্ণিত এ বাক্যাংশের প্রতিশ্রুতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৭৩
যে প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করলে স্পষ্ট বুঝা যায়, এক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি দ্বারা বুঝানো হয়েছে ধৈর্যহীনতার সে পরিস্থিতিকে যখন চরম বিরোধিতার সে পরিবেশে বিশেষ করে তাঁর সঙ্গী সাথীদেরকে ক্রমাগত নির্যাতিত হতে দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছিলো। তিনি চাচ্ছিলেন শীঘ্রই এমন মু’জিযা দেখিয়ে দিতে যা দেখে কাফেররা স্বীকার করে নেবে কিংবা আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে এমন কিছু প্রকাশ পাক যা দেখে বিরোধিতার এ আগুন নিভে যায়। এ ধরনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ কোন গোনাহ ছিল না যে, সেজন্য তাওবা ও ইসতিগফারের প্রয়োজন পড়তো। তবে আল্লাহ তা’আলা নবীকে ﷺ যে উচ্চ আসনে সমাসীন করেছিলেন এবং সে পদমর্যাদ যে উচ্চ ও মহত সংকল্পের দাবী করে সে দিকের বিচারে এ যৎসামান্য ধৈর্যচ্যুতি ও আল্লাহর কাছে তাঁর মর্যাদর চেয়ে অনেক নীচু মনে হয়েছে। তাই বলা হয়েছে, এ দুর্বলতার জন্য তোমার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং পাথরের মত অটল হয়ে স্বীয় ভূমিকায় এমন অবিচল থাকো যেমনটি তোমার মত মহত মর্যাদার লোকদের হওয়া প্রয়োজন।
আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গুনাহ থেকে পবিত্র বানিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি অত্যধিক ইস্তিগফার করতেন। কুরআন মাজীদেও তাঁকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে ইস্তিগফার করতে বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য উম্মতকে শিক্ষা দেওয়া যে, যখন মাছুম হওয়া সত্ত্বেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের এমন সব কাজের জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, যা প্রকৃতপক্ষে গুনাহ নয়, বরং তিনি নিজ সমুচ্চ মর্যাদার কারণে তাকে গুনাহ বা অন্যায় মনে করতেন, তখন যারা মাছুম নয়, তাদের তো অনেক বেশি ইস্তিগফার করা উচিত।
৫৫. অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন; নিশ্চয় আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি সত্য। আর আপনি আপনার ক্রটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং আপনার রবের সপ্ৰশংস পবিত্রতা-মহিমা ঘোষণা করুন সন্ধ্যা ও সকালে।
(৫৫) অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর; নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর তুমি তোমার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর(1) এবং সকাল-সন্ধ্যায় তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। (2)
(1) এখানে ‘পাপ’ বলতে এমন ছোট-খাটো ভুল-চুক যা মানবীয় দুর্বলতা অনুযায়ী ঘটে যায় এবং যেগুলোর সংশোধনও মহান আল্লাহর পক্ষ হতে করে দেওয়া হয়। অথবা ইস্তিগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা)ও একটি ইবাদত। নেকী ও সওয়াব বৃদ্ধির জন্য নবী (সাঃ)-কে ইস্তিগফার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিংবা উদ্দেশ্য হল উম্মতের দিক নির্দেশনা যে, তারা যেন ইস্তিগফারের অমুখাপেক্ষী না হয়।
(2) عَشِيٌّ হল দিনের শেষ এবং রাতের প্রথম অংশ। আর أَبْكَارٌ হল, রাতের শেষ এবং দিনের প্রথম অংশ।