ইন্নাল্লাযীনা ইউজা-দিলূনা ফীআ-য়া-তিল্লা-হি বিগাইরি ছুলতা-নিন আতা-হুম ইন ফী সূদূ রিহিম ইল্লা-কিবরুম মা-হুম ব্বিা-লিগীহি ফাছতা‘ইযবিল্লা-হি ইন্নাহূহুওয়াছ ছামী‘উল বাসীর।উচ্চারণ
এবং সকাল সন্ধ্যা নিজের রবের প্রশংসার সাথে সাথে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকো। ৭৪ প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, যারা তাদের কাছে আসা যুক্তি-প্রমাণ ছাড়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে ঝগড়া করছে তাদের মন অহংকারে ভরা ৭৫ কিন্তু তারা যে বড়ত্বের অহংকার করে তারা তার ধারেও ঘেঁষতে পারবে না। ৭৬ তাই আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো ৭৭ তিনি সবকিছু দেখেন এবং শোনেন। তাফহীমুল কুরআন
নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক সৃষ্টি করে, অথচ তাদের কাছে (তাদের দাবির সপক্ষে) কোন প্রমাণ আসেনি, তাদের অন্তরে অহমিকা ছাড়া আর কিছুই নেই, যাতে তারা কখনও সফল হওয়ার নয়। #%২১%# সুতরাং তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।মুফতী তাকী উসমানী
যারা নিজেদের নিকট কোন দলীল না থাকলেও আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয় তাদের অন্তরে আছে শুধু অহংকার, যা সফল হবার নয়। অতএব আল্লাহর শরণাপন্ন হও, তিনিতো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।মুজিবুর রহমান
নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে তাদের কাছে আগত কোন দলীল ব্যতিরেকে, তাদের অন্তরে আছে কেবল আত্নম্ভরিতা, যা অর্জনে তারা সফল হবে না। অতএব, আপনি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা নিজেদের নিকট কোন দলীল না থাকলেও আল্লাহ্ র নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, এদের অন্তরে আছে কেবল অহংকার, যারা এই ব্যাপারে সফলকাম হবে না। অতএব আল্লাহ্ র শরণাপন্ন হও; তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় যারা তাদের নিকট আসা কোন দলীল- প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের অন্তরসমূহে আছে কেবল অহঙ্কার, তারা কিছুতেই সেখানে (সাফল্যের মনযিলে) পৌঁছবে না। কাজেই তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।আল-বায়ান
কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ না পেয়েই যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে তর্ক করে, তাদের বুকের ভিতর আছে কেবল অহংকার, কিন্তু তারা তা (অর্থাৎ প্রকৃত বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহর দয়া ছাড়া) কক্ষনো অর্জন করতে পারে না। কাজেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও, (কারণ) তিনি সব কিছু শোনেন, সব কিছু দেখেন।তাইসিরুল
নিঃসন্দহ যারা আল্লাহ্র বাণীসমূহ নিয়ে তর্কবিতর্ক করে তাদের কাছে কোনো দলিল-প্রমাণের আগমন ব্যতিরেকে, তাদের অন্তরে রয়েছে হামবড়াই বৈ তো নয়, যা তারা কখনো লাভ করতে পারবে না। সুতরাং আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাও। নিঃসন্দেহ তিনি স্বয়ং সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।মাওলানা জহুরুল হক
৭৪
অর্থাৎ এ প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করাই সে উপায় যার মাধ্যমে আল্লাহর পথের কর্মীরা আল্লাহর পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ানো দুঃখ-কষ্টের মোকাবিলা করার শক্তি অর্জন করে। সকাল ও সন্ধ্যায় ‘হামদ’ ও ‘তাসবীহ’ বা প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করার দু’টি অর্থ হতে পারে। এক, সদা সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো। দুই, এ নির্দিষ্ট সময় দু’টিতে নামায আদায় করো। দ্বিতীয় অর্থটি গ্রহণ করা হলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যা এ সূরা নাযিল হওয়ার কিছুদিন পর সমস্ত ঈমানদারদের জন্য ফরয করে দেয়া হয়েছিল। কারণ, আরবী ভাষায় عشى শব্দটি সূর্য মাথার ওপর থেকে হেলে পড়ার সময় থেকে রাতের প্রথম অংশ পর্যন্ত সময় বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এ সময়ের মধ্যে যোহর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত চার ওয়াক্ত নামায অন্তর্ভুক্ত। আর ابكار শব্দটি ভোর বেলার ঊষার আলো প্রকাশ পাওয়ার সময় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়কে অর্থাৎ ফজরের নামাযের ওয়াক্তকে বলা হয়। (অধিক বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, আল বাকারা, টীকা ৫, ৫৯, ৬০, ২৬৩; হূদ, টীকা ১১৩; আল হিজর, টীকা ৫৩; বনী ইসরাঈল ভূমিকা এবং টীকা ১, ৯১ থেকে ৯৮; ত্বা-হা, টীকা ১১১ ; আন নূর, টীকা ৮৪ থেকে ৮৯; আল আনকাবূত, টীকা ৭৬ থেকে ৭৯; আর রূম, টীকা ২৪, ৫০)।
৭৫
অর্থাৎ এসব লোকের যুক্তি-প্রমাণহীন বিরোধিতা এবং যুক্তিহীন কূট তর্কের মূল কারণ এ নয় যে, আল্লাহর আয়াতসমূহে যেসব সত্য এবং কল্যাণের কথা তাদের সামনে পেশ করা হচ্ছে তা তাদের বোধগম্য হয় না। সুতরাং তারা তা বুঝার জন্য সৎ নিয়তে তর্কে লিপ্ত হয়। বরং তাদের এহেন আচরণের মূল কারণ হচ্ছে, তাদের মনে গর্ব ও অহংকার একথা মেনে নিতে প্রস্তুত নয় যে, তারা থাকতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্ব ও দিকনিদের্শনা মেনে নেয়া হবে এবং একদিন তাদের নিজেদেরকেও এ ব্যক্তি নেতৃত্ব মেনে নিতে হবে, যার তুলনায় নিজেদেরকেই তারা নেতৃত্বের অধিক উপযুক্ত মনে করে। তাই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লামের নেতৃত্ব যাতে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে সেজন্য তারা সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে। এ উদ্দেশ্য সাধনের জন জঘন্য থেকে জঘন্যতর কোন কৌশল কাজে লাগাতেও তারা দ্বিধান্বিত নয়।
৭৬
অন্য কথায় এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ যাকে বড় বানিয়েছেন সে-ই বড় হয়ে থাকবে এবং এসব ছোট লোক নিজেদের বড়ত্ব কায়েম রাখার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা করছে তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
৭৭
অর্থাৎ ফেরাউনের হুমকির মুখে মহাপরাক্রমশালী একমাত্র আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে মূসা (আ) যেমন চিন্তা মুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন তেমনি কুরাইশ নেতাদের হুমকি ও ষড়যন্ত্রের মুখে তুমিও তাঁর আশ্রয় নাও এবং চিন্তামুক্ত হয়ে তাঁর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাও।
অর্থাৎ নিজের সম্পর্কে তাদের ধারণা তারা অনেক উচু মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ গলত। বর্তমানেও যেমন তারা বিশেষ কোন মর্যাদার অধিকারী নয়, তেমনি ভবিষ্যতেও তারা কখনও বিশেষ মর্যাদা লাভে সফল হবে না।
৫৬. নিশ্চয় যারা নিজেদের কাছে কোন দলীল না থাকলেও আল্লাহ্র নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের অন্তরে আছে শুধু অহংকার, তারা এ ব্যাপারে সফলকাম হবে না। অতএব আপনি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চান; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্ৰষ্টা।
(৫৬) যারা নিজেদের নিকট আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, ওদের অন্তরে আছে কেবল অহংকার যা সফল হওয়ার নয়।(1) অতএব তুমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর; নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
(1) অর্থাৎ, যারা আল্লাহ-প্রদত্ত কোন দলীল ছাড়াই তর্ক-বিতর্ক ও হুজ্জত করে। এরা কেবল অহংকারবশতঃ এ রকম করে। তবে এ থেকে তাদের যে বাতিলকে সবল ও হককে দুর্বল করার উদ্দেশ্য, তা তারা অর্জন করতে পারবে না।