إِلَىٰ فِرۡعَوۡنَ وَهَٰمَٰنَ وَقَٰرُونَ فَقَالُواْ سَٰحِرٞ كَذَّابٞ

ইলা-ফির‘আওনা ওয়া হা-মা-না ওয়া ক-রূনা ফাক-লূছা-হিরুন কাযযা-ব।উচ্চারণ

আমার পক্ষ থেকে আদিষ্ট হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ ৩৭ সহ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বললোঃ জাদুকর, মিথ্যাবাদী। তাফহীমুল কুরআন

ফির‘আউন, হামান ও কারূনের কাছে কিন্তু তারা বলল, সে তো একজন যাদুকর ঘোর মিথ্যাবাদী।মুফতী তাকী উসমানী

ফির‘আউন, হামান ও কারূণের নিকট; কিন্তু তারা বলেছিলঃ এতো এক যাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী।মুজিবুর রহমান

ফেরাউন, হামান ও কারুণের কাছে, অতঃপর তারা বলল, সে তো জাদুকর, মিথ্যাবাদী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফির‘আওন, হামান ও কারূনের নিকট কিন্তু এরা বলেছিল, ‘এই লোকটা তো এক জাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আউন, হামান ও কারূনের প্রতি। অতঃপর তারা বলল, ‘সে এক যাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী’।আল-বায়ান

ফেরাউন, হামান ও কারূনের কাছে। কিন্তু তারা বলল (এ লোকটা) এক যাদুকর, ঘোর মিথ্যুক।তাইসিরুল

ফিরআউন ও হামান ও ক্কারূনের কাছে, কিন্ত তারা বলল -- "একজন জাদুকর, মিথ্যাবাদী।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৭

অর্থাৎ এমন স্পষ্ট নিদর্শনসহ যা দেখে এ বিষয়ে আর কোন সন্দেহ থাকতো না যে, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত আর তাঁর পক্ষে আছে বিশ্ব-জাহানের পালনকর্তা মহান আল্লাহ‌র শক্তি। যে নিদর্শনগুলোকে এখানে আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত মূসার (আ) আদিষ্ট হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে সেগুলো কি কুরআন মজীদে হযরত মূসার (আ) কাহিনীর যে বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে সে দিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করলে তা বুঝা যায়। প্রথমত, এটা একটা বিস্ময়কর ব্যাপার যে কয়েক বছর আগে যে ব্যক্তি ফেরাউনের কওমের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো এবং যার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ছিল, সে একখানা লাঠি হাতে হঠাৎ সোজা ফেরাউনের ভরা দরবারে নির্ভীক ও নিশষ্কচিত্তে হাজির হচ্ছে এবং সাহসিকতার সাথে বাদশাহ ও তার সভাসদদের সম্বোধন করে আহবান জানাচ্ছেন যে, তারা যেন তাঁকে আল্লাহ‌ রব্বুল আলামীনের প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নেয় এবং তাঁর নির্দেশনা অনুসারে কাজ করে। কিন্তু তার গায়ে হাত তোলার সাহস কারো হচ্ছে না। অথচ মূসা (আ) যে কওমের লোক তার এমন নিদারুনভাবে গোলামীর যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিলো যে, হত্যার অভিযোগে যদি তৎক্ষণাৎ তাকে গ্রেফতার করা হতো তাহলে তার কওমের বিদ্রোহ করা তো দূরের কথা প্রতিবাদের জন্য মূখ খোলারও কোন আশংখা ছিল না। এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, লাঠি ও “ইয়াদে বায়দা”র (শ্বেত-শুভ্র হাত) মু’জিযা দেখারও পূর্বে ফেরাউন এবং তার সভাসদরা হযরত মূসার (আ) আগমনেই ভীত হয়ে পড়েছিলো। প্রথম দর্শনেই তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিলো যে, এ ব্যক্তি অন্য কোন শক্তির ভরসায় এখানে এসেছে। অতঃপর তার হাতে একের পর এক বিস্ময়কর যেসব মু’জিযা সংঘটিত হলো তার প্রত্যেকটি এ বিশ্বাস দৃঢ়মূল করার জন্য যথেষ্ট ছিল যে, এটা জাদুশক্তি নয়, বরং খোদায়ী শক্তির বিস্ময়কর প্রকাশ। এমন কোন জাদু আছে যার জোরে লাঠি সত্যিকার আজদাহায় রূপান্তরিত হতে পারে? কিংবা গোটা একটা দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হতে পারে? কিংবা একটি নোটিশ দেয়ার সাথে সাথে লক্ষ লক্ষ বর্গ মাইল বিস্তৃত একটি এলাকায় নানা ধরনের ঝড় তুফান আসতে পারে এবং আরেকটি নোটিশে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে? কুরআন মজীদের বর্ণনা অনুসারে এ কারণে ফেরাউন ও তার দায়িত্বশীল লোকজন মুখে যত অস্বীকার করুক না কেন, মন তাদের পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পেরেছিলো যে, হযরত মূসা (আ) সত্যিই আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট। (বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, আল আ’রাফ, টীকা ৮৬ থেকে ৮৯ ; ত্বা-হা, টীকা ২৯ থেকে ৫৩ ; আশ শু’আরা, টীকা ২২ থেকে ৪১ ; আন নামল, টীকা ১৬)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২৪. ফিরআউন, হামান ও কারূনের কাছে। অতঃপর তারা বলল, জাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৪) ফিরআউন, হামান ও কারূনের নিকট। কিন্তু ওরা বলেছিল, ‘এ তো এক ভন্ড যাদুকর।’(1)

(1) ফিরআউন মিসরে বসবাসকারী ক্বিবতীদের বাদশাহ ছিল। বড় অত্যাচারী ও যালেম এবং সর্বোচ্চ রব হওয়ার দাবীদার ছিল। সে মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায় বানী-ইস্রাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছিল এবং তাদের উপর নানানভাবে কঠোর নির্যাতন চালাত। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এর বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। হামান ছিল ফিরআউনের মন্ত্রী ও তার প্রধান উপদেষ্টা। কারূন তার যুগের বিরাট বিত্তশালী ব্যক্তি ছিল। এরা সকলেই পূর্বের লোকদের মত মূসা (আঃ)-কে মিথ্যাজ্ঞান করল এবং তাঁকে যাদুকর ও মিথ্যুক বলে আখ্যায়িত করল। যেমন, অন্যত্র বলা হয়েছে, كَذَلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ* أَتَوَاصَوْا بِهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ অর্থাৎ, এমনিভাবে, তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রসূল আগমন করেছে, তখনই তারা বলেছে, যাদুকর, না হয় উন্মাদ। তারা কি একে অপরকে এই উপদেশই দিয়ে গেছে? বস্তুতঃ ওরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’’ (সূরা যারিয়াতঃ ৫২-৫৩)