ফালাম্মা-জাআ হুম বিলহাক্কিমিন ‘ইনদিনা-ক-লুকতুলূআবনাআল্লাযীনা আ-মানূ মা‘আহু ওয়াছতাহইঊ নিছাআহুম ওয়ামা-কাইদুল ক-ফিরীনা ইল্লা-ফী দালা-ল।উচ্চারণ
অতঃপর যখন সে আমার পক্ষ থেকে সত্য এনে হাজির করলো ৩৮ তখন তারা বললো, যারা ঈমান এনে তার সাথে সামিল হয়েছে তাদের ছেলেদের হত্যা করো এবং মেয়েদের জীবিত রাখো। ৩৯ কিন্তু কাফেরদের চক্রান্ত ব্যর্থই হয়ে গেল। ৪০ তাফহীমুল কুরআন
অতঃপর সে যখন আমার পক্ষ হতে সত্য নিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হল, তখন তারা বলল, তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্রদেরকে হত্যা কর এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রেখে দাও। অথচ কাফেরদের চক্রান্ত পরিণামে তো ব্যর্থই হয়।মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর যখন মূসা আমার নিকট হতে সত্য নিয়ে তাদের নিকট উপস্থিত হল তখন তারা বললঃ মূসার উপর যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং নারীদেরকে জীবিত রাখ। কিন্তু কাফিরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই।মুজিবুর রহমান
অতঃপর মূসা যখন আমার কাছ থেকে সত্যসহ তাদের কাছে পৌঁছাল; তখন তারা বলল, যারা তার সঙ্গী হয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর, আর তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ। কাফেরদের চক্রান্ত ব্যর্থই হয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরপর মূসা আমার নিকট হতে সত্য নিয়ে এদের নিকট উপস্থিত হলে এরা বলল, ‘মূসার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে, তাদের পুত্র-সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ।’ কিন্তু কাফিরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন মূসা আমার কাছ থেকে সত্য নিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হয়েছিল, তখন তারা বলল, ‘যারা তার সাথে ঈমান এনেছে তোমরা তাদের ছেলে-সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং তাদের মেয়ে-সন্তানদেরকে জীবিত রাখ’। আর কাফিরদের ষড়যন্ত্র কেবল ব্যর্থই হবে।আল-বায়ান
তারপর যখন মূসা তাদের কাছে আমার সত্যসহ আসল তখন তারা বলল- এর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা কর, আর তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ। কাফিরদের ষড়যন্ত্র অকার্যকর ছাড়া আর কিছুই না।তাইসিরুল
তারপর যখন তিনি আমাদের তরফ থেকে সত্য নিয়ে তাদের কাছে এলেন তখন তারা বলল, "তার সঙ্গে যারা বিশ্বাস করেছে তাদের ছেলেদের কোতল করো ও বাঁচতে দাও তাদের মেয়েদের।" বস্তুতঃ অবিশ্বাসীদের চক্তান্ত ব্যর্থ বৈ তো নয়।মাওলানা জহুরুল হক
৩৮
অর্থাৎ যখন হযরত মূসা (আ) একের পর এক মু’জিযা ও নিদর্শনসমূহ দেখিয়ে পুরোপুরি প্রমাণ করলেন যে, তিনি আল্লাহর প্রেরিত রসূল এবং মজবুত প্রমাণাদি দ্বারা তাঁর সত্য হওয়া সুস্পষ্ট করে দিলেন।
৩৯
পূর্বেই সূরা আ’রাফের ১২৭ আয়াতে একথা উল্লেখিত হয়েছে যে, ফেরাউনের দরবারের লোকজন তাকে বলেছিলো, মূসাকে এভাবে অবাধে তৎপরতা চালানোর অধিকার আর কতদিন দেয়া যাবে এবং তার জবাবে ফেরাউন বলেছিলো অচিরেই আমি বনী ইসরাঈলদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করার এবং কন্যা সন্তানদের জীবিত রাখার নির্দেশ দিতে যাচ্ছি। (তাফহীমুল কুরআন, আল আ’রাফ, টীকা ৯৩)। এ আয়াতটি থেকে জানা যাচ্ছে যে, ফেরাউনের পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত যে নির্দেশ জারী করা হয়েছে তার উদ্দেশ্য ছিল হযরত মূসা (আ) এবং তাঁর সহযোগী ও অনুসারীদের এতটা ভীত সন্ত্রস্ত করে দেয়া যে, তারা যেন ভয়ের চোটে তার পক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
৪০
মূল আয়াতাংশ হচ্ছে وَمَا كَيْدُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ । এ আয়তাংশের আরেকটি অর্থ হতে পারে এই যে, ঐ কাফেরদের চক্রান্ত ছিল গোমরাহী, জুলুম-নির্যাতন এবং ন্যায় ও সত্যের বিরোধিতার খাতিরে। অর্থাৎ ন্যায় ও সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়া এবং মনে মনে তার সমর্থক হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও নিজেদের জিদ ও হঠকারিতা বৃদ্ধিই পেয়েছে এবং সত্যকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য তারা জঘন্য থেকে জঘন্যতম পন্থা অবলম্বন করতেও দ্বিধান্বিত হয়নি।
অর্থাৎ যখন তিনি সত্য দীনের ডাক নিয়ে জনসাধারণের কাছে গেলেন এবং বহু লোক তাঁর প্রতি ঈমান আনল, তখন ফির‘আউনের লোকজন প্রস্তাব রাখল, যেসব পুরুষ লোক ঈমান এনেছে তাদের পুত্রদেরকে হত্যা করে ফেল আর নারীদেরকে জীবিত রাখ, যাতে দাসী হিসেবে তাদেরকে ব্যবহার করা যায়। এ রকম একটা নির্দেশ হযরত মুসা আলাইহিস সালামের জন্মের আগেও দেওয়া হয়েছিল, যা বিস্তারিতভাবে সূরা ‘তোয়া-হা’ ও সূরা ‘কাসাস’-এ বর্ণিত হয়েছে। সে নির্দেশের কারণ ছিল এক জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী। জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, বনী ইসরাঈলে এমন একটি শিশুর জন্ম হবে, বড় হওয়ার পর যার হাতে ফির‘আউনের সিংহাসন উল্টে যাবে। তাই ফির‘আউন ফরমান জারি করেছিল, এখন থেকে বনী ইসরাঈলে যত পুত্র সন্তান জন্ম নেবে তাদেরকে হত্যা করা হোক। তার পক্ষ হতে দ্বিতীয়বার এরূপ ফরমান জারি হয়েছিল হযরত মুসা আলাইহিস সালামের নবুওয়াত লাভের পর, যখন মানুষ তাঁর প্রতি ঈমান আনতে শুরু করে। পুত্রদেরকে হত্যা করার লক্ষ্য ছিল যাতে মুমিনদের বংশ বিস্তার হতে না পারে। তাছাড়া এর দ্বারা মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করাও উদ্দেশ্য ছিল। কেননা মানুষ সাধারণত পুত্র হত্যার ফলে বেশি দুঃখ পেয়ে থাকে। কাজেই পুত্রদেরকে হত্যা করা শুরু হলে কেউ আর ভয়ে ঈমান আনবে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সামনে ইরশাদ করেছেন, কাফেরদের এ জাতীয় ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাআলা যা ফায়সালা করেন সেটাই প্রবল থাকে। সুতরাং তাই হল। শেষ পর্যন্ত ফির‘আউন সাগরে ডুবে মরল এবং বনী ইসরাঈল জয়লাভ করল।
২৫. অতঃপর মূসা আমাদের নিকট থেকে সত্য নিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হলে তারা বলল, মূসার সাথে যারা ঈমান এনেছে, তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ। আর কাফিরদের ষড়যন্ত্র কেবল ব্যর্থই হবে।
(২৫) অতঃপর মূসা আমার নিকট হতে সত্য নিয়ে ওদের নিকট উপস্থিত হলে ওরা বলল, ‘মূসার সাথে যারা বিশ্বাস করেছে, তাদের পুত্র-সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ।’(1) কিন্তু অবিশ্বাসীদের ষড়যন্ত্র তো ভ্রষ্টতাপূর্ণই। (2)
(1) ফিরআউন এ কাজ পূর্বেও করেছে, যাতে সেই শিশুর যেন জন্ম না হয়, যে শিশু ছিল জ্যোতিষীদের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তার রাজত্বের জন্য আশঙ্কাজনক। এখানে মূসা (আঃ)-এর অবমাননা ও তাঁর লাঞ্ছনার জন্য পুনরায় একই নির্দেশ দিল। অনুরূপ এ জন্যও (এ নির্দেশ দিল) যে, যাতে বানী-ইস্রাঈল মূসা (আঃ)-এর অস্তিত্বকে নিজেদের জন্য মসীবত ও অমঙ্গলের (অশুভ) কারণ মনে করে। যেমন, সত্যিকারেই তারা বলল যে, قَالُوا أُوذِينَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا ‘‘হে মূসা! তোমার আগমনের পূর্বেও আমরা কষ্টে জর্জরিত ছিলাম এবং তোমার আগমনের পরও আমাদের সেই একই অবস্থা।’’ (সূরা আরাফঃ ১২৯)
(2) অর্থাৎ, এ থেকে তার যে উদ্দেশ্য ছিল যে, বনী-ইস্রাঈলের শক্তি যেন বৃদ্ধি না পায় এবং তার সম্মানে যেন ঘাটতি না আসে, তা কিন্তু সে অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। বরং আল্লাহ ফিরআউন ও তার দলবলকে ডুবিয়ে (ধ্বংস করে) দিলেন এবং বানী-ইস্রাঈলকে বরকতময় ভূমির উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিলেন।