ইযক-লা রব্বুকা লিল মালাইকাতি ইন্নী খা-লিকুম বাশারম মিন তীন।উচ্চারণ
যখন তোমার রব ফেরশ্তাদেরকে বললো, ৫৯ “আমি মাটি দিয়ে একটি মানুষ তৈরি করবো। ৬০ তাফহীমুল কুরআন
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন, আমি কাদা দ্বারা এক মানুষ সৃষ্টি করতে চাই।মুফতী তাকী উসমানী
স্মরণ কর, তোমার রাব্ব মালাইকা/ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেনঃ আমি মানুষ সৃষ্টি করছি কর্দম হতে।মুজিবুর রহমান
যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাগণকে বললেন, আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেন, ‘আমি মানুষ সৃষ্টি করছি কর্দম হতে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করব।’আল-বায়ান
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন- আমি কাদা থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।তাইসিরুল
স্মরণ করো! তোমার প্রভু ফিরিশ্তাদের বললেন -- "আমি নিশ্চয়ই কাদা থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।মাওলানা জহুরুল হক
৫৯
ওপরের আয়াতে যে বিরোধের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে এ হচ্ছে তার বিস্তারিত বিবরণ। এ বিরোধ বলতে আল্লাহর সাথে শয়তানের বিরোধ বুঝানো হয়েছে যেমন সামনের আলোচনা থেকে প্রকাশ হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে একথা মনে রাখতে হবে যে, “ঊর্ধ্বজগত” বলতে ফেরেশতাদেরকে বুঝানো হয়েছে। কাজেই কারো এ ভুল ধারণা হওয়া উচিত নয় যে, আল্লাহও ঊর্ধ্বজগতের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এখানে যে কাহিনী বর্ণনা করা হচ্ছে, তা ইতিপূর্বে নিম্নোক্ত স্থানসমূহে বর্ণনা করা হয়েছেঃ তাফহীমুল কুরআন, আল বাকারাহ, ৩৫-৫৩; আ’রাফ, ১০-১৫; আল হিজর, ১৭ ১৯ ; বনী ইসরাঈল ৭১-৮২ ; আল কাহফ, ৪৬-৪৮ ; এবং ত্বা-হা, ৯২-১০৬ টীকাসমূহ।
৬০
মূল শব্দ হচ্ছে بَشَر (বাশারা)। এর আভিধানিক অর্থ “স্থূলদেহ”, যার বাইরের অংশ কোন জিনিসে আবৃত নয়। মানুষ সৃষ্টির পর এ শব্দটি বরাবর মানুষের জন্যই ব্যবহৃত হতে থেকেছে। কিন্তু মানুষ সৃষ্টির আগে তার জন্য ‘বাশার’ শব্দ ব্যবহার করা এবং তাকে মাটি দিয়ে তৈরি করার পরিষ্কার অর্থ হচ্ছে এই যে, “আমি মাটির একটি পুতুল বানাতে চাই। তার ডানা ও পালক থাকবে না। অর্থাৎ তার ত্বক অন্যান্য প্রাণীর মতো উল, পশম, লোম ও পালকে ঢাকা থাকবে না।”
৭১. স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেন, আমি মানুষ সৃষ্টি করছি কাদা থেকে,
(৭১) স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফিরিশতাদেরকে বলেছিলেন,(1) ‘নিশ্চয় আমি মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করব। (2)
(1) এ ঘটনাটি ইতিপূর্বে সূরা বাক্বারা ৩০-৩৪, আ’রাফ ১১, হিজর ২৮-৩১, বানী ইস্রাঈল ৬১ ও কাহফ ৫০নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। এখানেও তা সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
(2) অর্থাৎ, একটি মানুষ সৃষ্টি করব। بَشَر মানে স্পর্শ করা, মিলানো। সর্বদা ভূপৃষ্ঠের সাথে মিলিত হয়ে থাকার জন্য মানুষকে ‘বাশার’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ পৃথিবীর সাথেই তার সমস্ত সম্পর্ক এবং সব কিছুই সে পৃথিবীতেই করে থাকে। অথবা মানুষ হল بادى البشرة অর্থাৎ, তার দেহ বা মুখমন্ডল প্রকাশ হয়ে থাকে।