فَلَمَّآ أَسۡلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلۡجَبِينِ

ফালাম্মাআছলামা-ওয়া তাল্লাহূলিলজাবীন।উচ্চারণ

শেষ পর্যন্ত যখন এরা দু’জন আনুগত্যের শির নত করে দিল এবং ইবরাহীম পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিল। ৬১ তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং (সেটা ছিল এক বিস্ময়কর দৃশ্য) যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং পিতা পুত্রকে কাত করে শুইয়ে দিল। #%২২%#মুফতী তাকী উসমানী

যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহীম তার পুত্রকে কাত করে শায়িত করল –মুজিবুর রহমান

যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তার পুত্রকে কাত করে শায়িত করল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে* কাত করে শুইয়ে দিলআল-বায়ান

দু’জনেই যখন আনুগত্যে মাথা নুইয়ে দিল। আর ইবরাহীম তাকে উপুড় ক’রে শুইয়ে দিল।তাইসিরুল

সুতরাং তাঁরা উভয়ে যখন আ‌ত্মসমর্পণ করলেন এবং তিনি তাঁকে ভূপাতিত করলেন কপালের জন্য,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬১

অর্থাৎ হযরত ইবরাহীম (আ) যবেহ করার জন্য পুত্রকে চিৎ করে শোয়াননি বরং উপুড় করে শুইয়ে দিয়েছেন, যাতে যবেহ করার সময় পুত্রের মুখ দেখে কোন প্রকার স্নেহ-মমতার বসে তাঁর হাত কেঁপে না যায়। তাই তিনি নিচের দিক থেকে হাত রেখে ছুরি চালাতে চাচ্ছিলেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

পিতা-পুত্র উভয়ে তো নিজেদের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলার হুকুম তামিল প্রসঙ্গে এটাই ধরে নিয়েছিলেন যে, পিতা পুত্রকে যবাহ করবেন। তাই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম পুত্রকে কাত করে শোয়ালেন, যাতে ছুরি চালানোর সময় চেহারা নজরে না পড়ে, পাছে পুত্র বাৎসল্যে মন টলে যায়।

তাফসীরে জাকারিয়া

১০৩. অতঃপর যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলেন(১) এবং ইবরাহীম তার পুত্রকে উপুড় করে শায়িত করলেন,

(১) কাতাদাহ বলেন, যখন ইসমাঈল তার আত্মাকে আল্লাহর জন্য সোপর্দ করলেন, আর ইবরাহীম তার ছেলেকে আল্লাহর জন্য সমর্পন করলেন। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০৩) অতঃপর পিতা-পুত্র উভয়েই যখন আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্য অধোমুখে(1) শায়িত করল,

(1) সকল মানুষের মুখমন্ডলের (ডানে ও বামে) দুটো جَبِين (কপালের দুই পার্শ্ব) থাকে এবং মাঝে থাকে جَبهَة (কপাল)। অতএব আয়াতের সঠিক অর্থ হবে ‘কাত করে শায়িত করল।’ অর্থাৎ এমনভাবে কাত করে শুইয়ে দিলেন, যেমন পশুকে যবেহ করার সময় ক্বিবলা মুখে কাত করে শোয়ানো হয়। কপাল বা মুখমন্ডলের উপর (অধোমুখে) শোয়ানোর অর্থ করার কারণ হল, প্রসিদ্ধি আছে যে, ইসমাঈল (আঃ) নিজেই কাত করে শোয়ানোর জন্য বলেছিলেন। যাতে তাঁর মুখমন্ডল আব্বার সামনে না থাকে এবং পিতৃস্নেহ আল্লাহর আদেশের উপর প্রাধান্য পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।