ফাবাশশারনা-হু বিগুলা-মিন হালীম।উচ্চারণ
(এ দোয়ার জবাবে) আমি তাঁকে একটি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। ৫৭ তাফহীমুল কুরআন
সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। #%২০%#মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর আমি তাকে এক স্থির বুদ্ধিসম্পন্ন পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।মুজিবুর রহমান
সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরপর আমি তাকে এক স্থিরবুদ্ধি পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর তাকে আমি পরম ধৈর্যশীল একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলাম।আল-বায়ান
অতঃপর আমি তাকে এক অতি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।তাইসিরুল
সেজন্য আমরা তাঁকে সুসংবাদ দিলাম এক অমায়িক পুত্রসন্তানের।মাওলানা জহুরুল হক
৫৭
দোয়া করতে করতেই সুসংবাদ দেয়া হয়েছে, এ থেকে একথা মনে করার কোন কারণ নেই। কুরআন মজীদেরই অন্যস্থানে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এ উক্তি উদ্ধৃত হয়েছেঃ
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ
“আল্লাহর শোকর, তিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমাইল ও ইসহাক দান করেছেন। (ইবরাহীম, ৩৯)
এ থেকে প্রমাণ হয়, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দেয়া এবং এ সুসংবাদের মধ্যে বহু বছরের ব্যবধান ছিল। বাইবেল বর্ণনা করছে, হযরত ইসমাঈলের (আ) জন্মের সময় হযরত ইবরাহীমের (আ) বয়স ছিল ৮৬ বছর। (আদি পুস্তক ১৬: ১৬) অন্যদিকে হযরত ইসহাকের জন্মের সময় তাঁর বয়স ছিল একশত বছর (৫: ২১)
এর দ্বারা হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে। [এখান থেকে পরবর্তী আয়াতসমূহ দ্বারা জানা যায়, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম পুত্র সন্তানের জন্য দুআ করেছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করেছিলেন এবং সে পুত্রকেই কুরবানীর জন্য পেশ করা হয়েছিল। বর্তমান তাওরাত দ্বারাও প্রমাণ হয় হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দুআর ফলে যে পুত্র জন্ম নিয়েছিলেন, তিনি হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম। দুআর ফসল হওয়ার কারণেই তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ইসমাঈল। কেননা ইসমাঈল দু’টি শব্দের যৌগিক রূপ। সামা‘ ও ‘ঈল’। ‘সামা’ অর্থ ‘শোনা’ ও ‘ঈল’ অর্থ ‘আল্লাহ’। অর্থাৎ আল্লাহ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দুআ শুনলেন। তাওরাতে আছে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে বললেন, ইসমাঈলের ব্যাপারে আমি তোমার কথা শুনলাম। সুতরাং এ আয়াতসমূহে তাঁর যে পুত্রের কথা বলা হচ্ছে তিনি হযরত ইসহাক নন; বরং হযরত ইসমাঈল। তাছাড়া যবাহর বৃত্তান্ত বর্ণনা করার পর হযরত ইসহাক আলাইহিস সালামের জন্মের সুসংবাদ স্বতন্ত্রভাবে দেওয়া হয়েছে, যেমন সামনে এ সূরাতেই ইরশাদ হয়েছে ‘এবং আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের, যে হবে একজন নবী-নেককারদের অন্তর্ভুক্ত’ (আয়াত-১১২)। এটা নির্দেশ করে ‘আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম একজন সহনশীল পুত্রের’ (আয়াত-১০১)-এর দ্বারা যে পুত্রের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তিনি ইসহাক ছাড়া অন্য কেউ। তাছাড়া হযরত ইসহাক সম্পর্কে সুসংবাদ দানকালে তাকে নবী বানানোরও সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে এবং সূরা হুদে সেই সঙ্গে পৌত্র হযরত ইয়াকুবের জন্মেরও সুসংবাদ রয়েছে। এ অবস্থায় কী করে ধারণা করা যায় যে, যাবীহ (যাকে যবাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, তিনি) ছিলেন ইসহাক? তাহলে তো তার অর্থ দাঁড়ায় নবী বানানো ও ইয়াকুবের পিতা হওয়ার আগেই তাকে যবাহ করে দেওয়া হবে। কাজেই এটা অনস্বীকার্য যে, যাবীহ হযরত ইসমাঈল (আ.)-ই, অন্য কেউ নন, যার জন্মের সুসংবাদ দানের সাথে নবী বানানো ও সন্তান দানের সুসংবাদ দেওয়া হয়নি, যদিও পরবর্তীকালে তিনি উভয়ই লাভ করেছিলেন। আর যাবীহ যেহেতু ছিলেন তিনি সে কারণেই তাঁর কুরবানীর স্মারকরূপে কুরবানী দানের প্রথা বরাবর তাঁরই বংশধরদের মধ্যে চলে আসছে এবং আজও এ প্রথা তাঁর রূহানী সন্তান তথা মুসলিমগণই পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান তাওরাতে স্পষ্ট আছে, কুরবানীর স্থান ছিল মূরা বা ‘মুরয়া’। ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ টেনে কষে এর বিভিন্ন সম্ভাবনা বের করার চেষ্টা করেছে, অথচ এটা অতি পরিষ্কার যে, শব্দটি পবিত্র কাবা সংলগ্ন ‘মারওয়া’কেই নির্দেশ করে...। তাওরাতে আরও আছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তিনি যেন তার একমাত্র পুত্রকে যবাহ করেন। দু’ পুত্রের মধ্যে হযরত ইসমাঈল ছিলেন বড়, ইসহাক ছোট। হযরত ইসমাঈলের বর্তমানে হযরত ইসহাক একমাত্র পুত্র নন যে, আমরা তাকে যাবীহ সাব্যস্ত করব। যবাহকালে হযরত ইসমাঈল ছিলেন হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর একমাত্র পুত্র। সুতরাং সর্ব বিচারে তিনিই যাবীহ -অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী অবলম্বনে]।
১০১. অতঃপর আমরা তাকে এক সহিষ্ণু পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।(১)
(১) এখান থেকে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বড় সন্তান ইসমাঈলের কাহিনী বর্ণিত হচ্ছে। এখানে আরও আছে ইসমাঈলের যবেহ ও তার বিনিময় দেয়ার আলোচনা। এ সূরা আস-সাফফাত ব্যতীত আর কোথাও এ ঘটনা আলোচিত হয় নি। (আত-তাফসীরুস সহীহ)
(১০১) সুতরাং আমি তাকে এক ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। (1)
(1) حَلِيْمٌ (ধৈর্যশীল) বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এ ছেলে বড় হয়ে ধৈর্যশীল হবে।