وَحِفۡظٗا مِّن كُلِّ شَيۡطَٰنٖ مَّارِدٖ

ওয়া হিফজাম মিন কুল্লি শাইতা-নিম মা-রিদ।উচ্চারণ

এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে তাকে সুরক্ষিত রেখেছি। তাফহীমুল কুরআন

এবং প্রত্যেক দুষ্ট (শয়তান) থেকে হেফাজতের মাধ্যম বানিয়েছি।মুফতী তাকী উসমানী

এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শাইতান হতে।মুজিবুর রহমান

এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান হতে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে হিফাযত করেছি।আল-বায়ান

আর (এটা করেছি) প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়ত্বান থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে।তাইসিরুল

আর প্রতিরক্ষা প্রত্যেক বিদ্রোহাচারী শয়তান থেকে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

অর্থাৎ ঊর্ধ্বজগত নিছক মহাশূন্য নয়। যে কেউ চাইলেই তার মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। বরং এর বাঁধন অত্যন্ত মজবুত। এর বিভিন্ন অংশকে এমন সুদৃঢ় সীমান্ত দ্বারা পরিবেষ্টিত করা হয়েছে যার ফলে কোন বিদ্রোহী শয়তানের পক্ষে সে সীমানাগুলো অতিক্রম করা সম্ভব নয়। বিশ্ব-জাহানের প্রত্যেকটি গ্রহ নক্ষত্রের নিজস্ব একটি কক্ষপথ ও আকাশ (Sphere) আছে। তার মধ্যে থেকে কারো বের হয়ে আসা যেমন অত্যন্ত কঠিন তেমনি বাইর থেকে কারো তার মধ্যে প্রবেশ করাও সহজ নয়। বাইরের দৃষ্টি দিয়ে দেখলে নিছক মহাশূন্য ছাড়া সেখানে আর কিছুই দেখা যায় না। কিন্তু আসলে সে মহাশূন্যের মধ্যে অসংখ্য ও অগণিত অংশকে এমন শক্তিশালী ও সুদৃঢ় সীমানা দিয়ে সংরক্ষিত করা হয়েছে যার মোকাবিলায় লৌহ প্রাচীর কিছুই নয়। মানুষের কাছের প্রতিবেশী চাঁদে পৌঁছতে মানুষকে যেসব বিচিত্র সমস্যা ও বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তা থেকে এ ব্যাপারে কিছুটা অনুমান করা যেতে পারে। পৃথিবীর অন্যান্য জীব অর্থাৎ জিনদের ঊর্ধ্বজগতে প্রবেশ করার পথেও এমনি বাধা-প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৭. এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে।(১)

(১) অনুরূপ দেখুন, সূরা আল-হিজর: ১৭–১৮।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭) এবং একে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান হতে রক্ষা করেছি।(1)

(1) অর্থাৎ, পৃথিবীর নিকটতম আকাশে, সৌন্দর্য ছাড়াও তারকারাজি সৃষ্টির আরও একটি উদ্দেশ্য এই যে, বিদ্রোহী শয়তানদল থেকে তার হিফাযত। শয়তান আকাশে (অহীর) কোন কথাবার্তা শোনার জন্য উপস্থিত হয়, তখন তাদের উপর তারকা (উল্কা) নিক্ষেপ করা হয়, যাতে অধিকাংশ সময়ে অনেক শয়তান পুড়ে যায়। যেমন এ কথা পরবর্তী আয়াতে এবং হাদীসে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তারকারাজি সৃষ্টির তৃতীয় উদ্দেশ্য রাত্রের অন্ধকারে পথ প্রদর্শনও; যেমন কুরআনের অন্য স্থানে বর্ণনা করা হয়েছে। উক্ত তিন প্রকার উদ্দেশ্য ছাড়া তারকারাজির অন্য আর কোন উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়নি।