فَٱلتَّـٰلِيَٰتِ ذِكۡرًا

ফাত্তা-লিয়া-তি যিকর-।উচ্চারণ

তারপর তাদের কসম যারা উপদেশবাণী শুনায়, তাফহীমুল কুরআন

তারপর তাদের, যারা ‘যিকর’-এর তেলাওয়াত করে। মুফতী তাকী উসমানী

এবং যারা জিকর আবৃত্তিতে মশগুল।মুজিবুর রহমান

অতঃপর মুখস্থ আবৃত্তিকারীদের-মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং যারা ‘যিকির’ আবৃত্তিতে রত- ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর উপদেশ গ্রন্থ (আসমানী কিতাব) তিলাওয়াতকারীদের;আল-বায়ান

আর যারা (আল্লাহর) যিকর আবৃত্তিতে লিপ্ত,তাইসিরুল

আর যারা স্মারকগ্রন্থ পাঠ করে!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

মুফাসসিরদের অধিকাংশ এ ব্যাপারে একমত যে, এ তিনটি দলই হচ্ছে ফেরেশতাদের দল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), হযরত ইবনে আব্বাস (রা.), হযরত কাতাদাহ (রা.), মাসরূক, সাঈদ ইবনে জুবাইর, ইকরামা, মুজাহিদ, সুদ্দী, ইবনে যায়েদ ও রাবী’ ইবনে আনাস থেকেও এ একই তাফসীর উদ্ধৃত হয়েছে। কোন কোন তাফসীরকার এর অন্য ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে এ ব্যাখ্যাটিই বেশী সামঞ্জস্যশীল বলে মনে হয়।

এখানে “সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো”----এর মাধ্যমে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, বিশ্ব-জাহানের ব্যবস্থাপনার যেসব ফেরেশতা নিয়েজিত রয়েছে তারা আল্লাহর বান্দা ও গোলাম। তারা সারিবদ্ধভাবে তাঁর বন্দেগী ও আনুগত্য করছে এবং তাঁর হুকুম তামিল করার জন্য সর্বক্ষণ প্রস্তুত রয়েছে। সামনের দিকে গিয়ে ১৬৫ আয়াতে এ বিষয়বস্তুটির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। সেখানে ফেরেশতারা নিজেদের সম্পর্কে বলছেঃ

وَإِنَّا لَنَحْنُ الصَّافُّونَ

কোন কোন মুফাসসিরের মতে “ধমক ও অভিশাপ দেবার” অর্থ হচ্ছে, কিছু ফেরেশতা আছে তারা মেঘমালাকে তাড়িয়ে নিয়ে যায় এবং বৃষ্টির ব্যবস্থা করে। যদিও এ অর্থও ভুল নয়, কিন্তু সামনের দিকের বিষয়বস্তুর সাথে যে অর্থ বেশী মানানসই তা হচ্ছে এই যে, ঐ ফেরেশতাদের মধ্যে একটি দল নাফরমানদেরকে ও অপরাধীদেরকে অভিশাপ দিয়ে থাকে এবং তাদের এ অভিশাপ কেবল শাব্দিক হয় না বরং তা মানুষের ওপর বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঐতিহাসিক বিপদ মুসিবতের আকারে বর্ষিত হয়।

“উপদেশবাণী শুনবার” অর্থ হচ্ছে ঐ ফেরেশতাদের মধ্যে এমন ধরনের ফেরেশতাও আছে যারা মানুষকে সত্য বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য উপদেশ দেবার দায়িত্ব পালন করে। সে উপদেশ দুর্যোগ দুর্ঘটনাদির আকারেও হয়, যা থেকে শিক্ষা গ্রহণকারীরা শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। আবার তা এমন শিক্ষার আকারেও হয়, যা ঐ ফেরেশতাদের মাধ্যমে নবীদের ওপর নাযিল হয়। আবার কখনো তা হয় তাদের মাধ্যমে সৎকর্মশীল লোকদের ওপর নাযিলকৃত ইলহাম অর্থাৎ অভাবনীয় পন্থায় মানুষের মনে আল্লাহ‌ যে প্রেরণার সঞ্চার (Inspiration) করেন তার আকারেও।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা কুরআন মাজীদের তেলাওয়াতও বোঝানো হতে পারে এবং আল্লাহ তাআলার যিকিরে রত থাকাও। কুরআন মাজীদের এক নাম যিকর (উপদেশবাণী)। সূরার প্রথম তিন আয়াতে বর্ণিত গুণগুলি ফেরেশতাদের। এর ভেতর ইবাদত-বন্দেগীর সবগুলো পদ্ধতি এসে গেছে। অর্থাৎ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা, তাগুত ও শয়তানী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আল্লাহ তাআলার কালাম তেলাওয়াত করা ও তার যিকিরে মশগুল থাকা। এ সবের শপথ করে বলা হয়েছে, সত্য মাবুদ কেবলই আল্লাহ তাআলা। তাঁর কোন শরীক নেই এবং তাঁর সন্তান-সন্ততির কোন প্রয়োজন নেই। ফেরেশতাদের এসব গুণের শপথ করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তোমরা যদি ফেরেশতাদের এসব অবস্থার ভেতর চিন্তা কর তবে অবশ্যই বুঝতে পারবে তারা সকলে আল্লাহ তাআলার বন্দেগীতে লিপ্ত আছে। আল্লাহ তাআলার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পিতা-পুত্রীর নয়; বরং আবেদ ও মাবুদের।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩. আর যারা যিকর আবৃত্তিতে রত-(১)

(১) মুজাহিদ বলেন, এখানে তেলাওয়াতে রত বলে ফেরেশতাদেরকে বোঝানো হয়েছে। আর কাতাদাহ বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য, কুরআন থেকে মানুষের ঘটনাবলী ও পূর্ববর্তী উম্মতদের কাহিনী যা তোমাদের উপর তেলাওয়াত করে শোনানো হয়। (তাবারী) আল্লামা শানকীতী বলেন, এখানে কাতারবন্দী, কঠোর পরিচালক ও তেলাওয়াতকারী বলে ফেরেশতাদের কয়েকটি দলকে বুঝানো হয়েছে। কারণ, এ সূরারই অন্যত্র কাতারবন্দী থাকা ফেরেশতাদের গুণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, “আর আমরা তো সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান এবং আমরা অবশ্যই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণাকারী। (১৬৫–১৬৬)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩) এবং যারা কুরআন আবৃত্তিতে রত--