ওয়ামা-ইয়াছতাবিল আহইয়াউ ওয়ালাল আমওয়া-তু ইন্নাল্লা-হা ইউছমি‘উ মাইঁ ইয়াশাউ ওয়ামাআনতা বিমুছমি‘ইম মান ফিল কুবূর।উচ্চারণ
এবং না জীবিত ও মৃতরা সমান। ৪২ আল্লাহ যাকে চান শুনান কিন্তু (হে নবী!) তুমি তাদেরকে শুনাতে পারো না যারা কবরে শায়িত রয়েছে। ৪৩ তাফহীমুল কুরআন
এবং সমান হতে পারে না জীবিত ও মৃত। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কথা শুনিয়ে দেন। যারা কবরে আছে, তুমি তাদেরকে কথা শোনাতে পারবে না। মুফতী তাকী উসমানী
আর সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শ্রবণ করান। তুমি শোনাতে সমর্থ হবেনা যারা কাবরে রয়েছে তাদেরকে।মুজিবুর রহমান
আরও সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ শ্রবণ করান যাকে ইচ্ছা। আপনি কবরে শায়িতদেরকে শুনাতে সক্ষম নন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ্ই যাকে ইচ্ছা শোনান; তুমি শোনাতে সমর্থ হবে না যারা কবরে রয়েছে তাদেরকে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর জীবিতরা ও মৃতরা এক নয়;* নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শুনাতে পারেন, কিন্তু যে ব্যক্তি কবরে আছে তাকে তুমি শুনাতে পারবে না।আল-বায়ান
আর জীবিত ও মৃতও সমান নয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন শোনান; যারা ক্ববরে আছে তুমি তাদেরকে শোনাতে পার না।তাইসিরুল
আর জীবন্ত এবং মৃতও একসমান নয়। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে শুনিয়ে থাকেন, আর যারা কবরে রয়েছে তাদের তুমি শোনাতে সক্ষম নও।মাওলানা জহুরুল হক
৪২
উপমাগুলোতে মু’মিন ও কাফেরের বর্তমান ও ভবিষ্যতের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। এক ব্যক্তি প্রকৃত সত্য থেকে চোখ বন্ধ করে আছে। সে একবারও দেখছে না বিশ্ব-জাহানের সমগ্র ব্যবস্থা এবং এমনকি তার নিজের অস্তিত্ব কোন্ সত্যের প্রতি ইঙ্গিত করছে। অন্যদিকে আর এক ব্যক্তির চোখ খোলা আছে। সে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে, তার ভেতরের ও বাইরের প্রত্যেকটি জিনিস আল্লাহর একত্ব এবং তাঁর সামনে মানুষের জবাবাদিহির ওপর সাক্ষ্য দিচ্ছে। একদিকে এক ব্যক্তি জাহেলী কল্পনা ও ভাববাদ এবং ধারণা, আন্দাজ-অনুমানের অন্ধকারে হাতড়ে মরছে এবং নবীর জ্বালানো প্রদীপের কাছাকাছি ঘেসতেও রাজি নয়। অন্যদিকে অপর ব্যক্তির চোখ একদম খোলা। নবীর জ্বালানো আলোর সামনে আসতেই তার কাছে একথা একেবারেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, মুশরিক, কাফের ও নাস্তিক্যবাদীরা যেসব পথে চলছে সেগুলো ধ্বংসের দিকে চলে গেছে এবং সাফল্য ও মুক্তির পথ একমাত্র সেটিই যেটি আল্লাহ ও তাঁর রসূল দেখিয়েছন। এখন দুনিয়ায় এদের দু’জনের নীতি এক হবে এবং দু’জনে এক সাথে একই পথে চলতে পারবে, এটা কেমন করে সম্ভব? দু’জনের পরিণতি এক হবে, দু’জনই মরে খতম হয়ে যাবে, একজন তার কুপথগামিতার শাস্তি পাবে না এবং অন্যজন সৎপথে চলার জন্য কোন পুরস্কার পাবে না, এটাই বা কেমন করে সম্ভব? “শীতল ছায়া ও রোদের তাপ সমান নয়” ---এর মধ্যে এ পরিণতির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, একজন আল্লাহর রহমতের ছায়া আশ্রয় লাভকারী এবং জাহান্নামের উত্তাপে ঝলসানো ব্যক্তি। তোমরা কোন্ উদ্ভট চিন্তায় মেতে আছো, এরা দু’জনা কি একই পরিণাম ভোগ করবে? শেষে মু’মিনকে জীবিতের সাথে এবং হঠকারী কাফেরদেরকে মৃতদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ মু’মিন হচ্ছে এমন ব্যক্তি যার মধ্যে অনুভূতি, উপলব্ধি, বিবেচনা, জ্ঞান, বুঝ ও চেতনা আছে এবং তার বিবেক তাকে ভালো ও মন্দের মধ্যকার পার্থক্য থেকে সবসময় সজাগ করছে। এর বিপরীত যে ব্যক্তি কুফরীর অন্ধতায় পুরোপুরি ডুবে গেছে তার অবস্থা এমন অন্ধের চেয়েও খারাপ যে অন্ধকারে পথ হারিয়েছে। তার অবস্থা এমন মৃতের মতো যার মধ্যে কোন অনুভূতিই নেই।
৪৩
অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছার ব্যাপার তো ভিন্ন। তিনি চাইলে পাথরকেও শ্রবণশক্তি দান করেন। কিন্তু যাদের বক্ষদেশে বিবেকের কবর রচিত হয়েছে তাদের হৃদয়ে নিজের কথা বদ্ধমূল করে দিতে পারা এবং যারা কথা শুনতেই চায় না তাদের বধির কর্ণকূহরে সত্যের ধ্বনি পৌঁছিয়ে দেবার সাধ্য রসূলের নেই। তিনি তো কেবলমাত্র তাদেরকেই শুনাতে পারেন যারা যুক্তিসঙ্গত কথা শুনতে চায়।
যারা জিদ ও হঠকারিতার দ্বারা নিজেদের জন্য সত্য গ্রহণের সকল দুয়ার বন্ধ করে রেখেছে, তাদেরকে প্রথমত অন্ধের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং তাদের কুফরীকে অন্ধকারের সাথে। এর শাস্তি স্বরূপ তাদেরকে জাহান্নামের যে শাস্তি ভোগ করতে হবে তাকে তুলনা করা হয়েছে রোদের সাথে। এর বিপরীতে সত্যের অনুসারীদেরকে চক্ষুষ্মানের সাথে, তাদের দীনকে আলোর সাথে এবং জান্নাতে তারা যে নি‘আমত লাভ করবে তাকে ছায়ার দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। তারপর বলা হয়েছে, যারা সত্য গ্রহণের যোগ্যতা খতম করে ফেলেছে তারা তো মৃততুল্য। মৃতদেরকে আপনি নিজ এখতিয়ারে কিছু শোনাতে পারবেন না। এভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা সত্য কবুল না করলে আপনি সেজন্য আক্ষেপ করবেন না। তাছাড়া তাদের দ্বারা কবুল করানোর কোন দায়িত্বও আপনার উপর অর্পিত হয়নি।
২২. এবং সমান নয় জীবিত ও মৃত। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছে শোনান; আর আপনি শোনাতে পারবেন না যারা কবরে রয়েছে তাদেরকে।
(২২) এবং সমান নয় জীবিত ও মৃত।(1) আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শ্রবণ করান; (2) আর তুমি মৃতকে শোনাতে পার না। (3)
(1) أحياء থেকে উদ্দেশ্য হল ঈমানদার মানুষ এবং أموات থেকে উদ্দেশ্য হল কাফের ও অবিশ্বাসী মানুষ অথবা আলেম ও জাহেল অথবা জ্ঞানী ও অজ্ঞ মানুষ।
(2) অর্থাৎ, আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করতে চান এবং জান্নাত যার ভাগ্যে থাকে, তাকে দলীল শ্রবণ ও তা গ্রহণ করার সুমতি দান করেন।
(3) অর্থাৎ, যেরূপ কবরে মৃত ব্যক্তিকে কোন কথা শুনানো যায় না, অনুরূপ কুফরী ও অবিশ্বাস যাদের অন্তরকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছে, হে নবী! তুমি তাদেরকে সত্যের বাণী শুনাতে পারবে না। উদ্দেশ্য এই যে, যেমন মৃত্যু ও কবরে দাফন হওয়ার পর মৃতব্যক্তি কোন উপকার লাভ করতে পারে না, তেমনি কাফের ও মুশরিক; যাদের জীবনে দুর্ভাগ্য লিপিবদ্ধ আছে, দাওয়াত ও তবলীগ দ্বারা তাদের কোন উপকার হয় না।