ফালাম্মা-কাদা-মূছাল আজালা ওয়াছা-র বিআহলিহীআ-নাছা মিন জা-নিবিততুরি নারন ক-লা লিআহলিহিমকুছূদ্ম ইন্নীআ-নাছতুনা-রল্লা‘আললীআ-তীকুম মিন হাবিখাবারিন আও জাযওয়াতিম মিনান্না-রি লা‘আল্লাকুম তাসতালূন।উচ্চারণ
মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করে দিল। ৪০ এবং নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে চললো তখন তূর পাহাড়ের দিক থেকে একটি আগুন দেখতে পেলো। ৪১ সে তার পরিবারবর্গকে বললো, “থামো! আমি একটি আগুন দেখছি, হয়তো আমি সেখান থেকে কোন খবর আনতে পারি অথবা সেই আগুন থেকে কোন অংগারই নিয়ে আসতে পারি যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারো।” তাফহীমুল কুরআন
মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করল এবং নিজ স্ত্রীকে নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেল, #%২১%# তখন তিনি তূর পাহাড়ের দিকে এক আগুন দেখতে পেলেন। তিনি নিজ পরিবারবর্গকে বললেন, তোমরা অপেক্ষা কর। আমি এক আগুন দেখেছি, হয়ত আমি সেখান থেকে তোমাদের কাছে আনতে পারব কোন সংবাদ #%২২%# অথবা আগুনের একটা জ্বলন্ত কাঠ, যাতে তোমরা উত্তাপ গ্রহণ করতে পার।মুফতী তাকী উসমানী
মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করার পর স্বপরিবারে যাত্রা শুরু করল তখন সে তূর পর্বতের দিকে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিজনবর্গকে বললঃ তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবতঃ আমি সেথা হতে তোমাদের জন্য খবর আনতে পারি, অথবা এক খন্ড জ্বলন্ত কাষ্ঠ আনতে পারি যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।মুজিবুর রহমান
অতঃপর মূসা (আঃ) যখন সেই মেয়াদ পূর্ণ করল এবং সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তুর পর্বতের দিক থেকে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবারবর্গকে বলল, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি সেখান থেকে তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসতে পারি অথবা কোন জ্বলন্ত কাষ্ঠখন্ড আনতে পারি, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মূসা যখন তার মেয়াদ পূর্ণ করার পর সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তূর পর্বতের দিকে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিজনবর্গকে বলল, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবত আমি সেখান হতে তোমাদের জন্যে খবর আনতে পারি বা একখণ্ড জ্বলন্ত কাঠ আনতে পারি যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করল এবং সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তূর পর্বতের পাশে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবার পরিজনকে বলল, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখতে পেয়েছি, সম্ভবত আমি তা থেকে তোমাদের কাছে আনতে পারব কোন খবর, অথবা একটি জ্বলন্ত আঙ্গার; যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার’।আল-বায়ান
অতঃপর মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ ক’রে তার পরিবার নিয়ে যাত্রা করল, তখন সে তূর পর্বতের দিকে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবারবর্গকে বলল- ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি, আমি তোমাদের জন্য সেখান থেকে খবর আনতে পারি কিংবা জ্বলন্ত কাষ্ঠখন্ড আনতে পারি যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।’তাইসিরুল
তারপর মূসা যখন মিয়াদ পূর্ণ করেলন এবং তাঁর পরিবারবর্গসহ যাত্রা করলেন, তখন তিনি পাহাড়ের কিনার থেকে আগুনের আভাস পেলেন। তিনি তাঁর পরিজনদের বললেন -- "তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুনের আভাস পাচ্ছি, সম্ভবতঃ আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোনো খবর নিয়ে আসতে পারব অথবা আগুনের একটি আঙটা যাতে তোমরা নিজেদের গরম করতে পার।"মাওলানা জহুরুল হক
৪০
হযরত হাসান ইবনে আলী ইবনে আবু তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, মূসা (আ) আট বছরের জায়গায় দশ বছরের মেয়াদ পুরা করেছিলেন। ইবনে আব্বাসের বর্ণনা মতে এ বক্তব্যটি নবী ﷺ থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, قَضَى مُوسَى اتم الأَجَلَيْنِ وَأَطْيَبَهُمَا عَشْرَ سِنِينَ “মূসা আলাইহিস সালাম দু’টি মেয়াদের মধ্য থেকে যেটি বেশী পরিপূর্ণ এবং তাঁর শ্বশুরের জন্য বেশী সন্তোষজনক সেটি পূর্ণ করেছিলেন অর্থাৎ দশ বছর।”
৪১
এ সফরে হযরত মূসার তূর পাহাড়ের দিকে যাওয়া দেখে অনুমান করা যায় তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে সম্ভবত মিসরের দিকে যেতে চাচ্ছিলেন। কারণ মাদয়ান থেকে মিসরের দিকে যে পথটি গেছে তূর পাহাড় তার ওপর অবস্থিত। সম্ভবত হযরত মূসা মনে করে থাকবেন, দশটি বছর চলে গেছে, যে ফেরাউনের শাসনামলে তিনি মিসর থেকে বের হয়েছিলেন সে মারা গেছে, এখন যদি আমি নীরবে সেখানে চলে যাই এবং নিজের পরিবারের লোকজনদের সাথে অবস্থান করতে থাকি তাহলে হয়তো আমার কথা কেউ জানতেই পারবে না।
ঘটনার বিন্যাসের দিক দিয়ে বাইবেলের বর্ণনা এখানে কুরআন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বাইবেল বলে, হযরত মূসা তাঁর শশুরের ছাগল চরাতে চরাতে “প্রান্তরের পশ্চাদ্ভাগে মেষপালক লইয়া গিয়া হোরেবে ঈশ্বরের পর্বতে” চলে গিয়েছিলেন। তারপর তিনি নিজের শশুরের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন। এবং তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিজের সন্তান-সন্ততি সহকারে মিসরের পথে যাত্রা করেছিলেন। (যাত্রা পুস্তক ৩:১ এবং ৪:১৮) অপরদিকে কুরআন বলে, হযরত মূসা মেয়াদ পুরা করার পর নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে মাদয়ান থেকে রওয়ানা হয়েছিলেন এবং এ সফরে আল্লাহর সাথে কথাবার্তা এবং নবুওয়াতের দায়িত্ব লাভ করার ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলেন।
বাইবেল ও তালমূদের সম্মিলিত বর্ণনা হচ্ছে, যে ফেরাউনের পরিবারের হযরত মূসা প্রতিপালিত হয়েছিলেন তাঁর মাদয়ানে অবস্থানকালে সে মারা গিয়েছিল এবং তারপর অন্য একজন ফেরাউন ছিল মিসরের শাসক।
মুফাসসিরগণ বলেন, রাতটা ছিল শীতের। তিনি পথও হারিয়ে ফেলেছিলেন। প্রচণ্ড বাতাসে তার সঙ্গে আনা মেষপালও বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছিল। এদিকে স্ত্রীর প্রসববেদনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। এসব কারণে তখন আগুনের বড় প্রয়োজন ছিল। কাজেই তিনি দূরে আগুন দেখতে পেয়ে স্ত্রী ও খাদেমকে (কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী সঙ্গে দু’জন পুত্রও ছিল) বললেন, তোমরা এখানে অপেক্ষা কর। ওই যে আগুন দেখা যাচ্ছে ওখানে হয়ত মানুষজন আছে। আমি ওখানে যাই। হয়ত তারা আামকে পথ বলে দিতে পারবে। অন্ততপক্ষে আগুন তো নিয়ে আসতে পারব, যা তোমাদের অনেক কাজে লাগবে। -অনুবাদক
২৯. অতঃপর মূসা যখন তার মেয়াদ পূর্ণ করার পর(১) সপরিবারে যাত্রা করলেন(২), তখন তিনি তুর পর্বতের দিকে আগুন দেখতে পেলেন। তিনি তার পরিজনবৰ্গকে বললেন, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবত আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য খবর আনতে পারি অথবা একখণ্ড জলন্ত কাঠ আনতে পারি যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।
(১) অর্থাৎ মূসা আলাইহিস সালাম চাকুরীর নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ করলেন। এখানে প্রশ্ন হয় যে, মূসা আলাইহিস সালাম আট বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন নাকি দশ বছরের? এ ব্যাপারে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেন যে, অধিক মেয়াদ অর্থাৎ দশ বছর মেয়াদকাল তিনি পূর্ণ করেছিলেন। নবীগণ যা বলেন তা পূর্ণ করেন। (বুখারীঃ ২৫৩৮) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও প্রাপককে তার প্রাপ্যের চাইতে বেশী দিতেন এবং তিনি উম্মতকেও নির্দেশ দিয়েছেন যে, চাকুরী, পারিশ্রমিক ও কেনাবেচার ক্ষেত্রে ত্যাগ স্বীকার করতে।
(২) এর থেকে প্রমাণ হয় যে, একজন মানুষ তার পরিবারের উপর কর্তৃত্বশীল। সে তাদেরকে নিয়ে যেখানে ইচ্ছা যাওয়ার অধিকার রাখে। (কুরতুবী) এ সফরে মূসার তুর পাহাড়ের দিকে যাওয়া দেখে অনুমান করা যায় তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে সম্ভবত মিসরের দিকে যেতে চাচ্ছিলেন। কারণ মাদইয়ান থেকে মিসরের দিকে যে পথটি গেছে তুর পাহাড় তার উপর অবস্থিত। সম্ভবত মূসা মনে করে থাকবেন, দশটি বছর চলে গেছে, এখন যদি আমি নীরবে সেখানে চলে যাই এবং নিজের পরিবারের লোকজনদের সাথে অবস্থান করতে থাকি তাহলে হয়তো আমার কথা কেউ জানতেই পারবে না। (দেখুন: ইবন কাসীর)
(২৯) মূসা যখন তার মেয়াদ(1) পূর্ণ করার পর সপরিবারে যাত্রা করল,(2) তখন সে তূর পাহাড়ের দিকে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিজনবর্গকে বলল, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবতঃ আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোন খবর আনতে পারব অথবা একখন্ড জ্বলন্ত আঙ্গার আনতে পারব, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।’
(1) ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর এখানে মেয়াদ বলতে দশ বছরের মেয়াদ অর্থ নিয়েছেন। কারণ, এই মেয়াদই মূসা (আঃ)-এর শ্বশুরের কাছে কাঙ্ক্ষিত ছিল। আর মূসা (আঃ)-এর সুন্দর চরিত্র-ব্যবহার নিজ বৃদ্ধ শ্বশুরের ইচ্ছার বিপরীত করতে পছন্দ করল না।
(2) এখান থেকে প্রমাণিত হল যে, স্বামী নিজ স্ত্রীকে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যেতে পারে।