ক-লা যা-লিকা বাইনি ওয়া বাইনাকা আইইয়ামাল আজালাইনি কাদাইতুফালা‘উদওয়া-না ‘আলাইইয়া ওয়াল্লা-হু ‘আলা-মা-নাকূলুওয়াকীল।উচ্চারণ
মূসা জবাব দিল, “আমার ও আপনার মধ্যে একথা স্থিরীকৃত হয়ে গেলো, এ দু’টি মেয়াদের মধ্য থেকে যেটাই আমি পূরণ করে দেবো তারপর আমার ওপর যেন কোন চাপ দেয়া না হয়। আর যা কিছু দাবী ও অঙ্গীকার আমরা করছি আল্লাহ তার তত্বাবধায়ক।” ৩৯ তাফহীমুল কুরআন
মূসা বলল, আমার ও আপনার মধ্যে এ বিষয়টা স্থির হয়ে গেল। আমি দুই মেয়াদের যেটিই পূর্ণ করি তাতে আমার প্রতি কোন বাড়াবাড়ি চলবে না। আর আমরা যে কথা বলছি, আল্লাহই তার রক্ষাকর্তা।মুফতী তাকী উসমানী
মূসা বললঃ আপনার ও আমার মধ্যে এই চুক্তিই রইল। এ দু’টি মেয়াদের কোন একটি আমি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবেনা। আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি আল্লাহ তার স্বাক্ষী।মুজিবুর রহমান
মূসা বললেন, আমার ও আপনার মধ্যে এই চুক্তি স্থির হল। দু’টি মেয়াদের মধ্য থেকে যে কোন একটি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না। আমরা যা বলছি, তাতে আল্লাহর উপর ভরসা।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মূসা বলল, ‘আমার ও আপনার মধ্যে এই চুক্তিই রইল। এই দুইটি মেয়াদের কোন একটি আমি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না। আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি আল্লাহ্ তার সাক্ষী।’ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মূসা বলল, ‘এ চুক্তি আমার ও আপনার মধ্যে রইল। দু’টি মেয়াদের যেটিই আমি পূরণ করি না কেন, তাতে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকবে না। আর আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি, আল্লাহ তার সাক্ষী’।আল-বায়ান
মূসা বলল- আমার ও আপনার মধ্যে এই চুক্তি রইল, আমি দু’টি মেয়াদের যেটিই পূর্ণ করি না কেন, আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করা হবে না, আমরা যে কথা বলছি, আল্লাহ তার সাক্ষী।তাইসিরুল
তিনি বললেন -- "এই-ই আমার মধ্যে ও আপনার মধ্যে রইল। এ দুটি মিয়াদের যে কোনোটি আমি যদি পূর্ণ করি তাহলে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকবে না। আর আমরা যা কথা বলছি তার উপরে আল্লাহ্ কার্যনির্বাহক রইলেন।"মাওলানা জহুরুল হক
৩৯
কেউ কেউ হযরত মূসার সাথে মেয়ের বাপের এ কথাবার্তাকে বিয়ের ইজাব কবুল মনে করে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা এ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন যে, বাপের সেবা মেয়ের বিয়ের মোহরানা হিসেবে গণ্য হতে পারে কিনা? এবং বিয়ে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরণের বাইরের শর্ত শামিল হতে পারে কি? অথচ আলোচ্য আয়াতের ভাষ্য থেকে স্বতস্ফূর্তভাবে একথা প্রমাণিত হচ্ছে যে, এটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল না। বরং এটি ছিলো প্রাথমিক কথাবার্তা, বিয়ের পূর্বে বিয়ের প্রস্তাব আসার পর সাধারণভাবে দুনিয়ায় যে ধরণের কথাবার্তা হয়ে থাকে। এটা কেমন করে বিয়ের ইজাব কবুল হতে পারে যখন একথাই স্থিরীকৃত হয়নি দু’টি মেয়ের মধ্য থেকে কোনটির সাথে বিয়ে দেয়া হচ্ছে? কথাবার্তা শুধূ এতটুকু হয়েছিল যেঃ “আমার মেয়েদের মধ্য থেকে একটির সাথে আমি তোমার বিয়ে দিতে চাই। তবে শর্ত হচ্ছে, তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, আট দশ বছর আমার এখানে থেকে আমার কাজে সাহায্য করতে হবে। কারণ এ আত্মীয়তা সম্পর্ক স্থাপনের পেছনে আমার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমি বৃদ্ধ লোক কোন ছেলে সন্তান আমার নেই, যে আমার সম্পত্তি দেখাশুনা ও ব্যবস্থাপনা করতে পারে। আমার আছে মেয়ে। বাধ্য হয়ে তাদেরকে আমি বাইরে পাঠাই। আমি চাই আমার জামাতা আমার দক্ষিণ হস্ত হয়ে থাকবে। এ দায়িত্ব যদি তুমি পালন করতে পারো এবং বিয়ের পরেই স্ত্রীকে নিয়ে চলে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকে তাহলে আমার মেয়ের বিয়ে আমি তোমার সাথে দেবো। হযরত মূসা নিজেই এসময় একটি আশ্রয়ের সন্ধানে ছিলেন। তিনি এ প্রস্তাব মেনে নিলেন। বলা নিষ্প্রয়োজন, বিয়ের পূর্বে বর পক্ষ ও কনে পক্ষের মধ্যে যেসব চুক্তি হয়ে থাকে এটি ছিলো সে ধরনের একটি চুক্তি। এরপর যথারীতি আসল বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকবে এবং তাতে মোহরানাও নির্ধারিত হয়ে থাকবে। সে বিয়েতে সেবা কর্মের কোন শর্ত শামিল হওয়ার কোন কারণ ছিল না।
২৮. মূসা বললেন, আমার ও আপনার মধ্যে এ চুক্তিই রইল। এ দুটি মেয়াদের কোন একটি আমি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না। আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি আল্লাহ তার কর্মবিধায়ক।
(২৮) মূসা বলল, ‘আপনার ও আমার মধ্যে এ চুক্তিই রইল। এ দুটি মেয়াদের কোন একটি আমি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না।(1) আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি আল্লাহ তার সাক্ষী।’ (2)
(1) অর্থাৎ, আট বছর বা দশ বছর পর আমি যেতে চাইলে অধিক থাকার দাবী করা যাবে না।
(2) কেউ কেউ বলেন, এটি শুআইব বা শুআইবের ভাইপোর উক্তি। আবার কেউ বলেন, এটি মূসা (আঃ)-এর কথা। হয়তো বা উভয়ের কথা; যেহেতু বহুবচন শব্দ ব্যবহার হয়েছে। মনে হয় এ ব্যাপারে দুজনেই আল্লাহকে সাক্ষী রাখলেন। আর এই কথার সাথে সাথেই তাঁর কন্যা ও মূসা (আঃ)-এর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে গেল। মহান আল্লাহ অন্য কথা বিস্তারিত আলোচনা করেননি। ইসলামী শরীয়তে উভয় পক্ষের সম্মতির সাথে সাথে বিবাহ-বন্ধনের সময় দু’জন মুসলমান সাক্ষী থাকা আবশ্যক।