ক-লা ইন্নীউরীদুআন উনকিহাকা ইহদাব নাতাইইয়া হা-তাইনি ‘আলাআন তা’জুরনী ছামা-নিয়া হিজাজিন ফাইন আতমামতা ‘আশরন ফামিন ‘ইনদিকা ওয়ামাউরীদু আন আশুক্কা ‘আলাইকা ছাতাজিদুনীইন শাআল্লা-হু মিনাসসা-লিহীন।উচ্চারণ
তার পিতা (মূসাকে) বললো, ৩৮ ) “আমি আমার এ দু’মেয়ের মধ্য থেকে একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই। শর্ত হচ্ছে, তোমাকে আট বছর আমার এখানে চাকরি করতে হবে। আর যদি দশ বছর পুরো করে দাও, তাহলে তা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমার ওপর কড়াকড়ি করতে চাই না। তুমি ইনশাআল্লাহ আমাকে সৎলোক হিসেবেই পাবে। তাফহীমুল কুরআন
তার পিতা বলল, আমি আমার এই দুই মেয়ের একজনকে তোমার সাথে বিবাহ দিতে চাই, এই শর্তে যে তুমি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আট বছর আমার এখানে কাজ করবে #%২০%# আর যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, সেটা তোমার নিজ এখতিয়ার। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। ইনশাআল্লাহ তুমি আমাকে সচাদারীদের একজন পাবে।মুফতী তাকী উসমানী
সে মূসাকে বললঃ আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে, যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর সেটা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনা। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তুমি আমাকে সদাচারী পাবে।মুজিবুর রহমান
পিতা মূসাকে বললেন, আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিবাহে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার চাকুরী করবে, যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, তা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহ চাহেন তো তুমি আমাকে সৎকর্মপরায়ণ পাবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সে মূসাকে বলল, ‘আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সঙ্গে বিবাহ দিতে চাই, এই শর্তে যে, তুমি আট বৎসর আমার কাজ করবে, যদি তুমি দশ বৎসর পূর্ণ কর, সে তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তুমি আমাকে সদাচারী পাবে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলল, ‘আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার মজুরী করবে। আর যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, তবে সেটা তোমার পক্ষ থেকে (অতিরিক্ত)। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। তুমি ইনশাআল্লাহ আমাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত পাবে’।আল-বায়ান
সে বলল- ‘আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনের সঙ্গে তোমার বিয়ে দেয়ার আমি ইচ্ছে করেছি এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করে দেবে, আর যদি দশ বছর পূর্ণ কর সেটা তোমার ইচ্ছেধীন, আমি তোমাকে কষ্টে ফেলতে চাই না, আল্লাহ ইচ্ছে করলে তুমি আমাকে সৎকর্মপরায়ণ পাবে।’তাইসিরুল
সে বলল -- "আমি তো চাইছি আমার এই দুই মেয়ের একটিকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে এই শর্তে যে তুমি আমার জন্য চাকরি করবে আট হজ, আর যদি তুমি দশ পূর্ণ কর তাহলে সে তোমার ইচ্ছা, আর আমি চাই না যে আমি তোমার উপরে কঠোর হব। তুমি শীঘ্রই, ইন-শা-আল্লাহ্, আমাকে দেখতে পাবে ন্যায়পরায়ণদের একজন।"মাওলানা জহুরুল হক
৩৮
একথাও জরুরী নয় যে, মেয়ের কথা শুনেই বাপ সঙ্গে সঙ্গেই হযরত মূসাকে এ কথা বলে থাকবেন। সম্ভবত তিনি মেয়ের পরামর্শ সম্পর্কে ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা করার পর এই মত স্থির করেছিলেন যে, লোকটি ভদ্র ও অভিজাত, একথা ঠিক। কিন্তু ঘরে যেখানে জোয়ান মেয়ে রয়েছে সেখানে একজন জোয়ান, সুস্থ্য, সবল লোককে এমনি কর্মচারী হিসেবে রাখা ঠিক নয়। এ ব্যক্তি যখন ভদ্র, শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান ও অভিজাত বংশীয় (যেমন হযরত মূসার মুখে তাঁর কাহিনী শুনে তিনি মনে করে থাকবেন) তখন একে জামাতা করেই ঘরে রাখা হোক। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর কোন উপযুক্ত সময়ে তিনি হযরত মূসাকে এ কথা বলে থাকবেন।
এখানে দেখুন বনী ইসরাঈলের আর একটি কীর্তি। তারা তাদের মহান মর্যাদাসম্পন্ন নবী এবং নিজেদের সবচেয়ে বড় হিতকারী ও জাতীয় হিরোর কী দুর্গতি করেছে। তালমূদে বলা হয়েছে, “মূসা রূয়েলের বাড়িতে অবস্থান করতে থাকেন। তিনি নিজের মেজবানের মেয়ে সাফুরার প্রতি অনুগ্রহ দৃষ্টি দিচ্ছিলেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে বিয়ে করলেন।” আর একটি ইহুদী বর্ণনা জুয়িশ ইনসাইক্লোপিডিয়ায় উদ্ধৃত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, “হযরত মূসা যখন যিথ্রোকে সমস্ত ঘটনা শুনালেন তখন তিনি বুঝতে পারলেন এ ব্যক্তির হাতেই ফেরাউনের রাজ্য ধ্বংস হবার ভবিষ্যতবানী করা হয়েছিল। তাই তিনি সঙ্গে সঙ্গেই হযরত মূসাকে বন্দী করে ফেললেন, যাতে তাঁকে ফেরাউনের হাতে সোপর্দ করে দিয়ে পুরস্কার লাভ করতে পারেন। সাত বা দশ বছর পর্যন্ত তিনি তার বন্দীশালায় থাকলেন। ভূ-গর্ভস্থ একটি অন্ধকার কুঠুরীতে তিনি বন্দী ছিলেন। কিন্তু যিথ্রোর মেয়ে যাফূরা (বা সাফূরা), যার সাথে কূয়ার পাড়ে তাঁর প্রথম সাক্ষাত হয়েছিল, চুপি চুপি তার সাথে কারাগৃহে সাক্ষাত করতে থাকে। সে তাঁকে খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করতো। তাদের দু’জনের মধ্যে বিয়ের গোপন চুক্তি হয়ে গিয়েছিল। সাত বা দশ বছর পর যাফূরা তার বাপকে বললো এত দীর্ঘকাল হয়ে গেল আপনি এক ব্যক্তিকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তারপর তার কোন খবরও নেননি। এতদিন তার মরে যাবারই কথা। কিন্তু যদি জীবিত থাকে তাহলে নিশ্চয়ই সে কোন আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তি। যিথ্রো তার একথা শুনে কারাগারে গেলেন। সেখানে হযরত মূসাকে জীবিত থাকতে দেখে তার মনে বিশ্বাস জন্মালো অলৌকিকতার মাধ্যমে এ ব্যক্তি জীবিত আছে। তখন তিনি যাফূরার সাথে তার বিয়ে দিয়ে দিলেন।”
যেসব পাশ্চাত্য প্রাচ্যবিদ কুরআনী কাহিনীগুলোর উৎস খুঁজে বেড়ান, কুরআনী বর্ণনা ও ইসরাঈলী বর্ণনার মধ্যে এই যে সুস্পষ্ট পার্থক্য এখানে দেখা যাচ্ছে তা কি কখনো তাদের চোখে পড়ে?
একথা বলার সময় হযরত শুআইব আলাইহিস সালাম যদিও নির্দিষ্ট করেননি কোন মেয়েকে তাঁর সাথে বিবাহ দেবেন, কিন্তু যখন বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়, তখন যথারীতি নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করার দ্বারা বকরী চরানোর কাজ বোঝানো হয়েছে। অনেক ফকীহ ও মুফাসসিরের মতে হযরত শুআইব আলাইহিস সালাম ছাগল চরানোকে কন্যার মোহরানা স্থির করেছিলেন। কিন্তু এর উপর প্রশ্ন আসে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর কোন কাজ করে দেওয়াটা কি তার মোহরানা হিসেবে গ্রাহ্য হতে পারে? এ মাসআলায় ফুকাহায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ আছে। তদুপরি এ ঘটনায় চুক্তি তো স্ত্রীর কাজ নয়; বরং স্ত্রীর পিতার কাজ করা সম্পর্কে হয়েছিল। যারা এটাকে মোহরানা সাব্যস্ত করতে চান, তারা এর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বটে, কিন্তু লক্ষ্য করলে ধরা পড়ে সে চেষ্টায় জবরদস্তির ছাপ স্পষ্ট। এর বিপরীতে কোন কোন মুফাসসির ও ফকীহের অভিমত হল, আসলে এখানে বিষয় ছিল দুটো। হযরত শুআইব আলাইহিস সালাম হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সাথে সে দুটো বিষয়েই সিদ্ধান্ত স্থির করতে চেয়েছিলেন। একটি তো এই যে, তিনি চাচ্ছিলেন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তার মেষপাল চরাবেন এবং সেজন্য আলাদাভাবে মজুরি ধার্য করা হবে আর দ্বিতীয়টি হল, মূসা আলাইহিস সালাম তার কন্যাকে বিবাহও করুন, যার জন্য নিয়ম মাফিক মোহরানা স্থির করা হবে। উভয়টির ব্যাপারে তিনি হযরত মূসা আলাইহিস সালামের মর্জি জানতে চাচ্ছিলেন এবং সে উদ্দেশ্যে উভয়টিই আলোচনায় এনেছিলেন, যদি উভয়টিতে তিনি সম্মত থাকেন, তবে প্রত্যেকটি তার আপন-আপন রীতি অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে। বিবাহের ক্ষেত্রে কন্যা কোনটি তা স্থির করা হবে, সাক্ষী রাখা হবে এবং মোহরানাও ধার্য করা হবে। আর চাকুরির ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হবে এবং তার জন্য স্বতন্ত্র মজুরি ধার্য করা হবে। উভয় চুক্তি অনুষ্ঠিত হবে তো পরে, তবে এই মুহূর্তে তার জন্য উভয় পক্ষ হতে ওয়াদা হয়ে যাক। এই শেষোক্ত ব্যাখ্যাটি খুবই যুক্তিযুক্ত। এ অবস্থায় একটি চুক্তিকে আরেকটি চুক্তির সাথে শর্তযুক্ত করার প্রশ্নও আসে না। আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (রহ.) ‘উমদাতুল কারী’ গ্রন্থে এ ব্যাখ্যাই অবলম্বন করেছেন (দ্রষ্টব্য উক্ত গ্রন্থ কিতাবুল ইজারাত, ১২ খণ্ড, ৮৫ পৃষ্ঠা)।
২৭. তিনি মূসাকে বললেন, আমি আমার এ কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই, এ শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে, আর যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, সে তোমার ইচ্ছে। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহ ইচ্ছে করলে তুমি আমাকে সদাচারী পাবে।
(২৭) সে মূসাকে বলল, ‘আমি আমার এ কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সঙ্গে বিবাহ দিতে চাই(1) এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার মজুরি খাটবে;(2) অতঃপর যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, তবে সে তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না।(3) ইন শাআল্লাহ (আল্লাহর ইচ্ছায়) তুমি আমাকে সদাচারী পাবে।’ (4)
(1) আমাদের দেশে কন্যা পক্ষ হতে বিবাহের পয়গাম দেওয়া লজ্জার ব্যাপার মনে করা হয়। কিন্তু আল্লাহর শরীয়তে তা নিন্দনীয় নয়। সুন্দর চরিত্রবান যুবকের সন্ধান মিললে সরাসরি তার সাথে বা তার পরিবারের কারো সাথে নিজ কন্যার বিবাহের ব্যাপারে কথা-বার্তা বলা দোষের নয়; বরং তা প্রশংসনীয়। নবী (সাঃ) ও সাহাবা (রাঃ)-দের যুগেও এই প্রথাই প্রচলিত ছিল।
(2) এখান থেকে উলামাগণ মজদুরী ও মজুরীর বৈধতা প্রমাণ করেছেন। অর্থাৎ, মজুরী বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোন পুরুষ দ্বারা কাজ নেওয়া বৈধ।
(3) অতিরিক্ত দু’ বছর কাজ করা যদি কষ্টকর মনে হয়, তাহলে আট বছর পর যাওয়ার অনুমতি থাকবে।
(4) ঝগড়া-বিবাদ করব না, কোন কষ্টও দেব না এবং তোমার প্রতি কঠোরও হব না।