ক-লাত ইহদা-হুমা-ইয়াআবাতিছ তা’জিরহু ইন্না খাইর মানিছতা’জারতাল কাবিইয়ুউল আমীন।উচ্চারণ
মেয়ে দু'জনের একজন তার পিতাকে বললো, “আব্বাজান! একে চাকরিতে নিয়োগ করো, কর্মচারী হিসেবে ব্যক্তিই উত্তম হতে পারে যে বলশালী ও আমানতদার।” ৩৭ তাফহীমুল কুরআন
নারীদ্বয়ের একজন বলল, আব্বাজী! আপনি একে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোন কাজ দিন। আপনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কারও থেকে কাজ নিতে চাইলে সেজন্য এমন ব্যক্তিই উত্তম, যে শক্তিশালী হবে এবং আমানতদারও। #%১৯%#মুফতী তাকী উসমানী
তাদের একজন বললঃ হে পিতা! আপনি একে মজুর নিযুক্ত করুন; কারণ আপনার মজুর হিসাবে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।মুজিবুর রহমান
বালিকাদ্বয়ের একজন বলল পিতাঃ তাকে চাকর নিযুক্ত করুন। কেননা, আপনার চাকর হিসেবে সে-ই উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এদের একজন বলল, ‘হে পিতা! তুমি এটাকে মজুর নিযুক্ত কর, কারণ তোমার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নারীদ্বয়ের একজন বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনি তাকে মজুর নিযুক্ত করুন। নিশ্চয় আপনি যাদেরকে মজুর নিযুক্ত করবেন তাদের মধ্যে সে উত্তম, যে শক্তিশালী বিশ্বস্ত’।আল-বায়ান
স্ত্রীলোক দু’টির একজন বলল- ‘হে পিতা! পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তাকে নিযুক্ত করুন, আপনি যাদেরকে মজুর নিযুক্ত করবেন তাদের মধ্যে উত্তম যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।’তাইসিরুল
মেয়ে দুজনের একজন বলল -- "হে আমার আব্বা! তুমি একে কর্মচারী ক’রে নাও, তুমি যাদের নিযুক্ত করতে পার তাদের মধ্যে সে-ই সব চাইতে ভাল যে বলবান, বিশ্বস্ত।"মাওলানা জহুরুল হক
৩৭
হযরত মূসার সাথে প্রথম সাক্ষাতের সময় মেয়েটি তার বাপকে একথা বলেছিল কিনা এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে বেশির ভাগ সম্ভাবনা এটাই যে, তার বাপ অপরিচিত মুসাফিরকে দু-একদিন নিজের কাছে রেখে থাকবেন এবং এ সময়ের মধ্যে কখনো মেয়ে তার বাপকে এ পরামর্শ দিয়ে থাকবে। এ পরামর্শের অর্থ ছিল, আপনার বার্ধক্যের কারণে বাধ্য হয়ে আমাদের মেয়েদের বিভিন্ন কাজে বাইরে বের হতে হয়। বাইরের কাজ করার জন্য আমাদের কোন ভাই নেই। আপনি এ ব্যক্তিকে কর্মচারী নিযুক্ত করুন। সুঠাম দেহের অধিকারী বলশালী লোক। সবরকমের পরিশ্রমের কাজ করতে পারবে। আবার নির্ভরযোগ্যও। নিছক নিজের ভদ্রতা ও আভিজাত্যের কারণে সে আমাদের মতো মেয়েদেরকে অসহায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমাদের সাহায্য করেছে এবং আমাদের দিকে কখনো চোখ তুলে তাকায়ওনি।
ইনি হযরত শুআইব আলাইহিস সালামের সেই কন্যা, যিনি হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে ডাকতে গিয়েছিলেন। তাঁর নাম ছিল সাফুরা। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে তাঁরই বিবাহ হয়েছিল। বাইরের কাজকর্ম দেখাশুনার জন্য হযরত শুআইব আলাইহিস সালামের পরিবারে একজন পুরুষের দরকার ছিল, যাতে মেষ চরানো ও তাদেরকে পানি পান করানোর জন্য ঘরের মেয়েদের বাইরে যেতে না হয়। এজন্যই হযরত সাফুরা (রাযি.) তার পিতার কাছে প্রস্তাব দিলেন, যেন তিনি এই যুবককে কাজে নিযুক্ত করেন এবং যথারীতি তার পারিশ্রমিকও ধার্য করে দেন। তিনি যে বললেন, আপনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কারও থেকে কাজ নিতে চাইলে সেজন্য এমন ব্যক্তিই উত্তম, যে শক্তিশালী হবে এবং বিশ্বস্তও’এটা তার গভীর বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। আল্লাহ তাআলা তার এ বাক্যটি বিবৃত করে ‘কর্মচারী নিয়োগদান’ সংক্রান্ত চমৎকার মাপকাঠি দিয়ে দিয়েছেন। আমরা এর দ্বারা জানতে পারি, যে-কোন কাজে যাকে নিয়োগ দান করা হবে, মৌলিকভাবে তার মধ্যে দু’টি গুণ থাকতে হবে। (ক) যে দায়িত্ব তার উপর অর্পণ করা হবে, তা আঞ্জাম দেওয়ার মত দৈহিক ও মানসিক শক্তি এবং (খ) আমানতদারী। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম যে এ উভয় গুণের অধিকারী সে অভিজ্ঞতা শুআইব-তনয়া লাভ করেছিলেন। পানি পান করানোর জন্য তিনি যে কাজ করেছিলেন তা তার দৈহিক ও মানসিক কর্মক্ষমতার পরিচায়ক ছিল। রাখালেরা কখন পানি খাওয়ানো শেষ করবে সেই প্রতীক্ষাজনিত পীড়া হতে নারীদ্বয়কে মুক্তিদানের জন্য তিনি পৃথক একটি কুয়ায় চলে যান এবং তার মুখে পড়ে থাকা বিশাল পাথর খণ্ডটিকে কারও সাহায্য ছাড়া একাই সরিয়ে ফেলেন। তার এ বুদ্ধি ও শক্তি তারা প্রত্যক্ষ করেছিল। আর তিনি যে একজন বিশ্বস্ত লোক তার পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল এভাবে যে, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম যখন শুআইব-তনয়ার সাথে তাদের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাকে বলেছিলেন, আপনি আমার পেছনে থাকুন এবং কোন দিকে যেতে হবে তা বলে দিন। এভাবে তিনি সে মহিয়সীর লজ্জাশীলতা, পবিত্রতা ও চরিত্রবত্তার প্রতি সম্মান দেখালেন। এ জাতীয় আমানতদারী যেহেতু কদাচ নজরে পড়ে, তাই তিনি উপলব্ধি করলেন, আমানতদারী ও বিশ্বস্ততা এই ব্যক্তির একটি বিশেষ গুণ।
২৬. নারীদ্বয়ের একজন বলল, হে আমার পিতা! আপনি একে মজুর নিযুক্ত করুন, কারণ আপনার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সে ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।(১)
(১) এ পরামর্শের অর্থ ছিল, আপনার বার্ধক্যের কারণে বাধ্য হয়ে আমাদের মেয়েদের বিভিন্ন কাজে বাইরে বের হতে হয়। বাইরের কাজ করার জন্য আমাদের কোন ভাই নেই। আপনি এ ব্যক্তিকে কর্মচারী নিযুক্ত করুন। সুঠাম দেহের অধিকারী বলশালী লোক। সবরকমের পরিশ্রমের কাজ করতে পারবে। আবার নির্ভরযোগ্যও। সে আমাদের মতো মেয়েদেরকে অসহায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমাদের সাহায্য করেছে এবং আমাদের দিকে কখনো চোখ তুলে তাকায়ওনি। (দেখুন: কুরতুবী)
(২৬) ওদের একজন বলল, ‘হে আব্বা! আপনি এঁকে মজুর নিযুক্ত করুন, কারণ আপনার মজুর হিসাবে নিশ্চয় সে (ব্যক্তি) উত্তম হবে, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।’ (1)
(1) কোন কোন মুফাসসির লিখেছেন যে, পিতা মেয়েদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কিভাবে জানলে যে, লোকটি শক্তিশালী ও আমানতদার?’ উত্তরে মেয়েরা বলল, ‘তিনি যে কুয়া হতে আমাদের পশুদেরকে পানি পান করালেন সেই কুয়াটি এমন একটি বড় পাথর দিয়ে ঢাকা, যা দশজনের পক্ষে উঠানো সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা দেখেছি যে, তিনি একাই সেই পাথরটিকে সরিয়েছেন এবং পরে ঢাকাও দিয়েছেন একাই। অনুরূপ আমি যখন তাঁকে এখানে আসার জন্য ডাকতে গিয়েছিলাম, রাস্তা যেহেতু আমারই জানা, সেই জন্য আমি আগে আগে চলতে শুরু করলাম আর তিনি পিছনে। কিন্তু বাতাসে আমার চাদর উড়তে থাকে, ফলে তিনি আমাকে তাঁর পিছনে চলতে বললেন; যাতে আমার দেহের কোন অংশ তাঁর দৃষ্টিতে না পড়ে। আর রাস্তা ভুল হলে পাথর ছুঁড়ে জানিয়ে দিতে বলেন।’ এ সব কথার সত্যতা আল্লাহই ভাল জানেন। (ইবনে কাসীর)