ফালাম্মা-জাআত কীলা আহা-কাযা-‘আরশুকি ক-লাত কাআন্নাহূহুওয়া ওয়া ঊতীনাল ‘ইলমা মিন কাবলিহা-ওয়া কুন্না-মুছলিমীন।উচ্চারণ
রাণী যখন হাজির হলো, তাকে বলা হলো তোমার সিংহাসন কি এরূপই? সে বলতে লাগলো, “এ তো যেন সেটিই। ৫২ আমরা তো আগেই জেনেছিলাম এবং আমরা আনুগত্যের শির নত করে দিয়েছিলাম। (অথবা আমরা মুসলিম হয়ে গিয়েছিলাম। ) ” ৫৩ তাফহীমুল কুরআন
পরিশেষে সে যখন আসল, জিজ্ঞেস করা হল, তোমার সিংহাসনটি কি এ রকম? সে বলল, যেন এটি সেটিই। #%২১%# আমাদেরকে তো এর আগেই (আপনার সত্যতা সম্পর্কে) জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল এবং আপনার আনুগত্যও স্বীকার করেছিলাম। #%২২%#মুফতী তাকী উসমানী
ঐ নারী যখন এলো, তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলঃ তোমার সিংহাসন কি এইরূপই? সে বললঃ এটাতো যেন ওটাই; আমাদেরকে ইতোপূর্বেই প্রকৃত জ্ঞান দান করা হয়েছে এবং আমরা আত্মসমর্পনও করেছি।মুজিবুর রহমান
অতঃপর যখন বিলকীস এসে গেল, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তোমার সিংহাসন কি এরূপই? সে বলল, মনে হয় এটা সেটাই। আমরা পূর্বেই সমস্ত অবগত হয়েছি এবং আমরা আজ্ঞাবহও হয়ে গেছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সেই নারী যখন এলো, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তোমার সিংহাসন কি এইরূপই ?’ সে বলল, ‘এটা তো যেন ওটাই।’ আমাদেরকে ইতিপূর্বেই প্রকৃত জ্ঞান দান করা হয়েছে এবং আমরা আত্মসমর্পণও করেছি।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন সে আসল, তখন তাকে বলা হল; ‘এরূপই কি তোমার সিংহাসন’? সে বলল, ‘এটি যেন সেটিই’। আর বলল, ‘আমাদেরকে তার পূর্বেই জ্ঞান দান করা হয়েছিল এবং আমরা আত্মসমর্পণ করেছিলাম’।আল-বায়ান
যখন সে নারী আসল তখন তাকে বলা হল- ‘এটা কি তোমার সিংহাসন?’ সে বলল, ‘এটা যেন সেটাই, আমাদেরকে এর আগেই (আপনার সম্পর্কে) জ্ঞান দান করা হয়েছে আর আমরা আত্মসমর্পণ করেছি।তাইসিরুল
তারপর যখন সে এল তখন বলা হ’ল -- "তোমার সিংহাসন কি এই রকমের?" সে বললে, "এটিই যেন তাই।" "আর আমাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তার আগে, আর আমরা মুসলিম ছিলাম।"মাওলানা জহুরুল হক
৫২
এ থেকে তাদের চিন্তার ভ্রান্তিও প্রমাণিত হয়, যারা ঘটনাটিকে কিছুটা এভাবে চিত্রিত করেছেন যেন হযরত সুলাইমান তাঁর সম্মানীয় মেহমানের জন্য একটি সিংহাসন তৈরি করতে চাচ্ছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি টেন্ডার তলব করলেন। একজন বলিষ্ঠ সুঠামদেহী কারিগর কিছু বেশী সময় নিয়ে সিংহাসন তৈরি করে দেয়ার প্রস্তাব দিল। কিন্তু অন্য একজন পারদর্শী ওস্তাদ কারিগর বললো, আমি অতি দ্রুত অতি অল্প সময়ের মধ্যে দেখতে না দেখতেই তৈরি করে দিচ্ছি। একটি মাত্র কথাই এসব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে সক্ষম সেটি এই যে, হযরত সুলাইমানের (আ) নিজেই রাণীর সিংহাসনটিই আনার কথা বলেছিলেন। (أَيُّكُمْ يَأْتِينِي بِعَرْشِهَا অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসনটি আমার কাছে এনে দিতে পারে?) সিংহাসনটি নিয়ে আসার পর তিনি তারই সিংহাসন অপরিচিত পদ্ধতিতে তারই সামনে উপস্থাপিত করার জন্য কর্মচারীদেরকে হুকুম দিয়েছিলেন (نَكِّرُوا لَهَا عَرْشَهَا) তারপর যখন তিনি এলেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সিংহাসনটি কি এ রকম (أَهَكَذَا عَرْشُكِ) ? তিনি জবাবে বললেন, এটা যেন সেটাই (كَأَنَّهُ هُوَ) এ ধরণের সুস্পষ্ট বর্ণনার উপস্থিতিতে ঐসব জল্পনা-কল্পনার অবকাশ কোথায়? এরপরও যদি কারো সন্দেহ থাকে তাহলে পরবর্তী বাক্য তাঁকে নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট।
৫৩
অর্থাৎ এ মু’জিযা দেখার আগেই সুলাইমান আলাইহিস সালামের যেসব গুণাবলী ও বিবরণ আমরা জেনেছিলাম তার ভিত্তিতে আমাদের বিশ্বাস জন্মে গিয়েছিল যে, তিনি নিছক একটি রাজ্যের শাসনকর্তা নন বরং আলাহর একজন নবী। যদি এটা মনে করে নেয়া হয় যে, হযরত সুলাইমান (আ) তাঁর জন্য একটি সিংহাসন তৈরি করে রেখে দিয়েছিলেন, তাহলে সিংহাসন দেখার এবং “যেন এটা সেটাই” বলার পর এ বাক্যটি জুড়ে দেয়ার কি সার্থকতা থাকে? ধরে নেয়া যাক, যদি রাণীর সিংহাসনের অনুরূপ ঐ সিংহাসনটি তৈরি করা হয়ে থাকে তাহলেও তার মধ্যে এমন কি মাহাত্ম ছিল যার ফলে একজন সূর্য পূজারিনী রাণী তা দেখে বলে উঠলেনَأُأُوتِينَا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ “আমাদের আগেই এ জ্ঞানলাভের সৌভাগ্য হয়েছিল এবং আমরা মুসলিম হয়ে গিয়েছিলাম।”
বিলকীস বুঝে ফেললেন সিংহাসনটির আকৃতিতে কিছুটা রদবদল করা হয়েছে। তাই এক দিকে তো তিনি নিশ্চিত করে বলেননি যে, ‘এটি সেটিই’; বরং ‘যেন’ শব্দ ব্যবহার করে এক মাত্রার সন্দেহ রেখে দিয়েছেন। অপর দিকে বাকভঙ্গি অবলম্বন করেছেন এমন, যা দ্বারা বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি সিংহাসনটি ঠিকই চিনতে পেরেছেন।
৪২. অতঃপর সে নারী যখন আসল, তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, তোমার সিংহাসন কি এরূপই? সে বলল, মনে হয় এটা সেটাই। আর আমাদেরকে ইতিপূর্বেই প্রকৃত জ্ঞান দান করা হয়েছে এবং আমরা আজ্ঞাবহও হয়ে গেছি।(১)
(১) আয়াতের শেষাংশ অর্থাৎ ‘আমাদেরকে ইতিপূর্বেই প্রকৃত জ্ঞান দান করা হয়েছে এবং আমরা আজ্ঞাবহও হয়ে গেছি।’ এটা কার কথা তা নির্ধারণে দুটি মত রয়েছেঃ এক. এটা সাবার রাণীর বক্তব্য। সুতরাং তখন অর্থ হবে, আমাদের কাছে আপনার নবুওয়ত ও ঐশ্বর্যের জ্ঞান আগেই এসেছে তাই আমরা পূর্ব থেকেই আনুগত্য প্রকাশ করে নিয়েছি। এর আরেক অর্থ এটাও হতে পারে যে, অর্থাৎ এ মু'জিযা দেখার আগেই সুলাইমান আলাইহিস সালামের যেসব গুণাবলী ও বিবরণ আমরা জেনেছিলাম তার ভিত্তিতে আমাদের বিশ্বাস জন্মে গিয়েছিল যে, তিনি নিছক একটি রাজ্যের শাসনকর্তা নন বরং আল্লাহর একজন নবী। দুই. এটা সুলাইমান আলাইহিস সালামের কথা। তখন অর্থ হবে, আমরা আগে থেকেই আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকায় তাঁর উপর ঈমান এনেছি। বা আমরা আগে থেকেই জানতাম যে, আপনি আনুগত্য করবেন অথবা আপনার আগমনের পূর্বেই আমাদের জানা ছিল যে, আপনি ইসলাম গ্ৰহণ করেছেন এবং আপনি অনুগত হয়ে আসছেন। (ফাতহুল কাদীর)
(৪২) (বিলকীস) যখন পৌঁছল, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তোমার সিংহাসন কি এরূপই?’ সে বলল, ‘এটা যেন সেটাই!(1) আমরা ইতিপূর্বেই সমস্ত কিছুই অবগত হয়েছি এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলমান) হয়েছি।’ (2)
(1) পরিবর্তনের পর যেহেতু তার আকৃতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসে গিয়েছিল, সেহেতু তিনি পরিষ্কার ভাষায় আমার বলে দাবীও করলেন না। আবার পরিবর্তনের পরেও যেহেতু মানুষ তার নিজের জিনিস চিনতে পারে বলে তিনি ‘আমার নয় বলে’ খন্ডনও করলেন না। তিনি বললেন, বোধ হয় ঐটিই। এতে দাবী ও খন্ডন কোনটিই নেই; বরং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে উত্তর দেওয়া হয়েছে।
(2) অর্থাৎ, এখানে আসার পূর্বেই আমি জানতে পেরেছিলাম যে, আপনি আল্লাহর নবী এবং আমি আপনার অনুগত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ইমাম ইবনে কাসীর ও শওকানী (রঃ) উক্ত বাক্যকে সুলাইমানের উক্তি বলে ব্যক্ত করেছেন যে, আমাকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, সাবার রাণী অনুগত হয়ে উপস্থিত হবে।