ওয়াসাদ্দাহা-মা-ক-নাত তা‘বুদুমিন দূ নিল্লা-হি ইন্নাহা-ক-নাত মিন কাওমিন কাফিরীন।উচ্চারণ
আল্লাহর পরিবর্তে যেসব উপাস্যের সে পূজা করতো তাদের পূজাই তাকে ঈমান আনা থেকে ঠেকিয়ে রেখেছিল। কারণ সে ছিল একটি কাফের জাতির অন্তর্ভুক্ত। ৫৪ তাফহীমুল কুরআন
সে আল্লাহর পরিবর্তে যার পূজা করত তাই তাকে (ঈমান আনা হতে) নিবৃত্ত রেখেছিল এবং সে ছিল এক কাফের সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ত। #%২৩%#মুফতী তাকী উসমানী
আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত তা’ই তাকে সত্য হতে নিবৃত করেছিল, সে ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।মুজিবুর রহমান
আল্লাহর পরিবর্তে সে যার এবাদত করত, সেই তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিল। নিশ্চয় সে কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আল্লাহ্ র পরিবর্তে সে যার পূজা করত তাই তাকে সত্য হতে নিবৃত্ত করেছে, সে ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে যার পূজা সে করত তা তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিল। নিশ্চয় সে ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।আল-বায়ান
আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত তাই তাকে সত্য পথে চলা থেকে বাধা দিয়ে রেখেছিল, সে নারী ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।তাইসিরুল
আর আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে সে যার পূজা করত তাই তাকে নিবৃত্ত করেছিল, নিঃসন্দেহ সে ছিল অবিশ্বাসী লোকদের মধ্যেকার।মাওলানা জহুরুল হক
৫৪
এ বাক্যাংশটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর অবস্থান সুস্পষ্ট করার জন্য বলা হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর মধ্যে জিদ ও একগুয়েমী ছিল না। শুধুমাত্র কাফের জাতির মধ্যে জন্ম নেয়ার কারণেই তিনি তখনো পর্যন্ত কাফের ছিলেন। সচেতন বুদ্ধিবৃত্তির অধিকারী হবার পর থেকেই যে জিনিসের সামনে সিজদাবনত হবার অভ্যাস তাঁর মধ্যে গড়ে উঠেছিল সেটিই ছিল তাঁর পথের প্রতিবন্ধক। সুলাইমানের (আ) মুখোমুখি হবার পর যখন তার চোখ খুলে তখন এ প্রতিবন্ধক দূর হতে এক মুহূর্তও দেরী হয়নি।
বিলকীস যে বলেছিলেন, ‘আমাদেরকে তো এর আগেই আপনার সত্যতা সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল’, এটা ছিল তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সত্যনিষ্ঠার পরিচায়ক। তাই আল্লাহ তাআলাও তাঁর প্রশংসা করছেন যে, বস্তুত সে এক বুদ্ধিমতি নারীই ছিল। তা সত্ত্বেও যে এ পর্যন্ত ঈমান আনেনি, সেটা ছিল পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রভাব। তার সম্প্রদায়ের সমস্ত মানুষ ছিল কাফের। এ রকম পরিবেশে থাকলে মানুষ কোন রকম চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই সকলের দেখাদেখি কাজ করে। সকলে সূর্যের পূজা করত, ব্যস সেও তাই করত। কিন্তু বুঝ-সমঝ যেহেতু ভালো ছিল, তাই যখন সত্যের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল, তখন আর দেরি করল না। পত্রপাঠ সত্য মেনে নিল।
৪৩. আর আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত সেটাই তাকে নিবৃত্ত করেছিল(১), সে তো ছিল কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
(১) বলা হয়েছেঃ ‘আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত সেটাই তাকে নিবৃত্ত করেছে’ এখানে যে অর্থ করা হয়েছে তার দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহর পরিবর্তে যে সমস্ত বস্তুর ইবাদত সে করত যেমন চাঁদ-সূর্য সেগুলিই তাকে ঈমান আনতে বাধ সাধছিল। কারণ, মানুষের মনে একবার কোন কিছুর মহব্বত গেথে গেলে সেটা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। সে জন্য সে হক জানার পরও ঈমান আনতে দেরী করছিল। এ অর্থানুসারে আলোচ্য বাক্যাংশটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার অবস্থান সুস্পষ্ট করার জন্য বলা হয়েছে। অর্থাৎ তার মধ্যে জিদ ও একগুয়েমী ছিল না। শুধুমাত্র কাফের জাতির মধ্যে জন্ম নেয়ার কারণেই তিনি তখনো পর্যন্ত কাফের ছিলেন।
সচেতন বুদ্ধিবৃত্তির অধিকারী হবার পর থেকেই যে জিনিসের সামনে সিজদাবনত হবার অভ্যাস তার মধ্যে গড়ে উঠেছিল সেটিই ছিল তার পথের প্রতিবন্ধক। সুলাইমান আলাইহিস সালামের মুখোমুখি হবার পর যখন তার চোখ খুলে তখন এ প্রতিবন্ধক দূর হতে এক মুহুৰ্তও দেরী হয় নি। আয়াতের আরেকটি অর্থ এও করা হয় যে, ‘আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত সে করত তা থেকে তাকে নিবৃত্ত করা হয়েছে’। তখন নিবৃত্তকারী স্বয়ং আল্লাহ হতে পারেন। কারণ তিনি তা হারাম ঘোষণা করেছেন। অথবা সুলাইমান আলাইহিস সালামও হতে পারেন। কারণ, ঈমান আনতে বাধ্য করার মাধ্যমে সুলাইমান আলাইহিসসালাম তাকে অন্য কিছুর ইবাদত ত্যাগ করতে বাধ্য করলেন। (দেখুন: তাবারী; কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)
(৪৩) আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত, তাই তাকে সত্য হতে নিবৃত্ত করেছিল, সে ছিল সত্য প্রত্যাখ্যানকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।(1)
(1) এটি আল্লাহর কথা। আর صَدَّها এর কর্তা مَا كَانَتْ تَعْبُد অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদতই তাকে আল্লাহর ইবাদত হতে দূরে রেখেছিল। আর তার কারণ, তার সম্পর্ক ছিল কাফের জাতির সঙ্গে। সেই জন্য তাওহীদের বাস্তবিকতা থেকে সে ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত। কেউ কেউ صَدَّها এর কর্তা মহান আল্লাহ আবার কেউ সুলাইমানকে বলেছেন। অর্থাৎ, মহান আল্লাহ অথবা আল্লাহর নির্দেশক্রমে সুলাইমান (আঃ) তাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে বাধা দিলেন। কিন্তু প্রথমোক্ত মতটি অধিক সঠিক। (ফাতহুল কাদীর)