إِلَّا مَن ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسۡنَۢا بَعۡدَ سُوٓءٖ فَإِنِّي غَفُورٞ رَّحِيمٞ

ইল্লা-মান জালামা ছুম্মা বাদ্দালা হুছনাম বা‘দা ছূইন ফাইন্নী গাফূরুর রহীম।উচ্চারণ

তবে হ্যাঁ, যদি কেউ ভুল-ত্রুটি করে বসে। ১৪ তারপর যদি সে দুষ্কৃতির পরে সুকৃতি দিয়ে (নিজের কাজ) পরিবর্তিত করে নেয় তাহলে আমি ক্ষমাশীল ও করুণাময়। ১৫ তাফহীমুল কুরআন

তবে কেউ কোন সীমালঙ্ঘন করলে, তারপর মন্দ কাজের পর তার বদলে ভালো কাজ করলে, আমি তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।মুফতী তাকী উসমানী

তবে যারা যুল্‌ম করার পর মন্দ কাজের পরিবর্তে সৎ কাজ করে তাদের প্রতি আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।মুজিবুর রহমান

তবে যে বাড়াবাড়ি করে এরপর মন্দ কর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে। নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘তবে যারা জুলুম করার পর মন্দ কর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে, তাদের প্রতি আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তবে যে যুল্‌ম করে। তারপর অসৎকাজের পরিবর্তে সৎকাজ করে, তবে অবশ্যই আমি অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।আল-বায়ান

তবে যে অত্যাচার করে অতঃপর মন্দ কাজের পরিবর্তে সৎ কাজ করে, তাহলে নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।তাইসিরুল

"সে ব্যতীত যে অন্যায় করেছে তারপর মন্দ কাজের পরে বদলা করে ভাল কাজ, তাহলে আমি নিশ্চয়ই পরিত্রাণ কারী, অফুরন্ত ফলদাতা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৪

আরবী ব্যাকরণের সূত্র অনুসারে এ বাক্যাংশের দু’রকম অর্থ হতে পারে। প্রথম অর্থ হলো, ভয়ের কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ যদি থাকে তাহলে তা হচ্ছে এই যে, রসূল কোন ভুল করেছেন। আর দ্বিতীয় অর্থ হলো, যতক্ষণ কেউ ভুল না করে ততক্ষণ আমার কাছে তার কোন ভয় নেই।

১৫

অর্থাৎ অপরাধকারীও যদি তওবা করে নিজের নীতি সংশোধন করে নেয় এবং খারাপ কাজের জায়গায় ভাল কাজ করতে থাকে, তাহলে আমার কাছে তার জন্য উপেক্ষা ও ক্ষমা করার দরজা খোলাই আছে। প্রসঙ্গক্রমে একথা বলার উদ্দেশ্য ছিল একদিকে সতর্ক করা এবং অন্যদিকে সুসংবাদ দেয়াও। হযরত মূসা আলাইহিমুস সালাম অজ্ঞতাবশত একজন কিবতীকে হত্যা করে মিসর থেকে বের হয়েছিলেন। এটি ছিল একটি ত্রুটি। এদিকে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত করা হয়। এ ত্রুটিটি যখন অনিচ্ছাকৃতভাবে তাঁর দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল তখন তিনি পরক্ষণেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন এই বলেঃ

رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي

“হে আমার রব! আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমাকে মাফ করে দাও।”

আল্লাহ সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে মাফ করে দিয়েছিলেনঃ فغفرله আল্লাহ‌ তাঁকে মাফ করে দিলেন। (আল কাসাস, ১৬) এখানে সেই ক্ষমার সুসংবাদ তাঁকে দেয়া হয়। অর্থাৎ এ ভাষণের মর্ম যেন এই দাঁড়ালোঃ হে মূসা! আমার সামনে তোমার ভয় পাওয়ার একটি কারণ তো অবশ্যই ছিল। কারণ তুমি একটি ভুল করেছিলে। কিন্তু তুমি যখন সেই দুষ্কৃতিকে সুকৃতিতে পরিবর্তিত করেছো তখন আমার কাছে তোমার জন্য মাগফিরাত ও রহমত ছাড়া আর কিছুই নেই। এখন আমি তোমাকে কোন শাস্তি দেবার জন্য ডেকে পাঠাইনি বরং বড় বড় মু’জিযা সহকারে তোমাকে এখন আমি একটি মহান দায়িত্ব সম্পাদনে পাঠাবো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার সমীপে কোন নবীর কোন রকম ক্ষতি হতে পারে, এমন আশঙ্কা থাকে না। অবশ্য কারও দ্বারা যদি কোন ত্রুটি ঘটে যায়, তবে তার জন্য ভয় রয়েছে হয়ত আল্লাহ তাআলা নারাজ হয়ে যাবেন। কিন্তু সেই ব্যক্তিও যদি অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে, ক্ষমা চায় ও নিজের ইসলাহ করে নেয়, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

১১. তবে যে যুলুম করে(১), তারপর মন্দ কাজের পরিবর্তে সৎকাজ করে, তাহলে নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

(১) এখানে বলা হয়েছে, “তবে যে যুলুম করে” অর্থাৎ যে যুলুম করে সে আল্লাহর কাছ থেকে নিরাপত্তা পেতে পারে না। অধিকাংশ মুফাসসির বলেন, এখানে পূর্ববর্তী আয়াতে যাদের বলা হয়েছে অর্থাৎ নবী-রাসূলদের কথা, তাদের ব্যাপারে কথা হচ্ছে না। পূর্ববর্তী আয়াতে নবী-রাসূলদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বিধানের পর কারা নিরাপত্তা পাবে না তাদের আলোচনা করা হচ্ছে। কারণ, নবীগণ নিষ্পাপ। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১১) তবে যে সীমালংঘন করে,(1) অতঃপর মন্দ কাজের পরিবর্তে ভালো কাজ করে; নিশ্চয় (তার প্রতি) আমি চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (2)

(1) অর্থাৎ, অত্যাচারীর এই ভয় থাকা উচিত যে, আল্লাহ যেন তাকে পাকড়াও না করে বসেন।

(2) অর্থাৎ, আমি অত্যাচারীর তওবাও কবুল করে থাকি।