ইযক-লা মূছা-লিআহলিহী ইন্নীআ-নাছতুনা-রন ছাআ-তীকুম মিনহাবিখাবারিন আও আ-তীকুম বিশিহা-বিন কাবাছিল লা‘আল্লাকুম তাসতালূন।উচ্চারণ
(তাদেরকে সেই সময়ের কথা শুনাও) যখন মূসা তাঁর পরিবারবর্গকে বললো ৮ “আমি আগুনের মতো একটা বস্তু দেখেছি। এখনি আমি সেখান থেকে কোন খবর আনবো অথবা খুঁজে আনবো কোন অংগার, যাতে তোমরা উষ্ণতা লাভ করতে পারো।” ৯ তাফহীমুল কুরআন
সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিল, আমি এক আগুন দেখতে পেয়েছি। আমি শীঘ্রই সেখান থেকে তোমাদের কাছে কোন সংবাদ নিয়ে আসছি কিংবা তোমাদের কাছে জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসব, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার। মুফতী তাকী উসমানী
স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, যখন মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিলঃ আমি আগুন দেখেছি, সত্ত্বর আমি সেখান হতে তোমাদের জন্য কোন খবর আনব অথবা তোমাদের জন্য আনব জ্বলন্ত অঙ্গার, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।মুজিবুর রহমান
যখন মূসা তাঁর পরিবারবর্গকে বললেনঃ আমি অগ্নি দেখেছি, এখন আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্যে কোন খবর আনতে পারব অথবা তোমাদের জন্যে জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসতে পারব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, যখন মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিল, ‘আমি আগুন দেখেছি, সত্বর আমি সেখান হতে তোমাদের জন্যে কোন খবর আনব বা তোমাদের জন্যে আনব জ্বলন্ত অঙ্গার, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্মরণ কর, যখন মূসা তার পরিবারবর্গকে বলল, নিশ্চয় আমি আগুন দেখেছি। শীঘ্রই আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোন খবর নিয়ে আসব অথবা তোমাদের জন্য জ্বলন্ত আঙ্গার নিয়ে আসব। যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।আল-বায়ান
স্মরণ কর যখন মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিল- ‘আমি আগুন দেখেছি, কাজেই আমি শীঘ্রই সেখান থেকে তোমাদের জন্য খবর নিয়ে আসব কিংবা তোমাদের কাছে জ্বলন্ত আগুন নিয়ে আসব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।’তাইসিরুল
স্মরণ করো! মূসা তাঁর পরিজনকে বললেন -- "নিঃসন্দেহ আমি আগুনের আভাস পাচ্ছি, আমি এখনি সেখান থেকে তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসছি, অথবা তোমাদের জন্য জ্বলন্ত আঙটা নিয়ে আসছি যাতে তোমরা নিজেদের গরম করতে পার।"মাওলানা জহুরুল হক
৮
এটা তখনকার ঘটনা যখন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম মাদয়ানে আট দশ বছর অবস্থান করার পর নিজের পরিবার-পরিজন নিয়ে কোন বাসস্থানের সন্ধানে বের হয়েছিলেন। মাদয়ান এলাকাটি ছিল আকাবা উপসাগরের তীরে আরব ও সিনাই উপদ্বীপের উপকূলে (দেখুন তাফহীমুল কুরআন সূরা আশ্ শু’আরা, ১১৫ টীকা) সেখান থেকে যাত্রা করে হযরত মূসা সিনাই উপদ্বীপের দক্ষিণ অংশে পৌঁছেন। এ অংশের যে স্থানটিতে তিনি পৌঁছেন বর্তমানে তাকে সিনাই পাহাড় ও মূসা পর্বত বলা হয়। কুরআন নাযিলের সময় এটি তুর নামে পরিচিত ছিল। এখানে যে ঘটনাটির কথা বলা হয়েছে সেটি এরই পাদদেশে সংঘটিত হয়েছিল।
এখানে যে ঘটনাটি বর্ণনা করা হচ্ছে তার বিস্তারিত বিবরণ ইতিপূর্বে সূরা “ত্বা-হা”-এর প্রথমে রুকূ’তে) উল্লিখিত হয়েছে এবং সামনের দিকে সূরা কাসাসেও (চতুর্থ রুকূ’) আসছে।
৯
আলোচনার প্রেক্ষাপট থেকে মনে হয় যে, এটা ছিল শীতকালের একটি রাত। হযরত মূসা একটি অপরিচিত এলাকা অতিক্রম করছিলেন। এ এলাকার ব্যাপারে তাঁর বিশেষ জানা-শোনা ছিল না। তাই তিনি নিজের পরিবারের লোকদের বললেন, আমি সামনের দিকে গিয়ে একটু জেনে আসি আগুন জ্বলছে কোন্ জনপদে, সামনের দিকে পথ কোথায় কোথায় গিয়েছে এবং কাছাকাছি কোন্ কোন্ জনপদ আছে। তবুও যদি দেখা যায়, ওরাও আমাদের মত চলমান মুসাফির যাদের কাছ থেকে কোন তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না, তাহলেও অন্ততপক্ষে ওদের কাছ থেকে একটু অংগার তো আনা যাবে। এ থেকে আগুন জ্বালিয়ে তোমরা উত্তাপ লাভ করতে পারবে।
হযরত মূসা (আ) যেখানে কুঞ্জবনের মধ্যে আগুন লেগেছে বলে দেখেছিলেন সে স্থানটি তূর পাহাড়ের পাদদেশে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ফুট ওপরে অবস্থিত। রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম খৃস্টান বাদশাহ কনষ্টানটাইন ৩৬৫ খৃস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে ঠিক যে জায়গায় এ ঘটনাটি ঘটেছিল সেখানে একটি গীর্জা নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। এর দু’শো বছর পরে সম্রাট জাষ্টিনিয়ান এখানে একটি আশ্রম (Monasterery) নির্মাণ করেন। কনষ্টান্টাইনের গীর্জাকেও এর অর্ন্তভূক্ত করা হয়। এ আশ্রম ও গীর্জা আজও অক্ষুন্ন রয়েছে। এটি গ্রীক খৃস্টীয় গীর্জার (Greek Orthodox Church) পাদরী সমাজের দখলে রয়েছে। আমি ১৯৬০ সালের জানুয়ারী মাসে এ জায়গাটি দেখি। পাশের পাতায় এ জায়গার কিছু ছবি দেয়া হলো।
ঘটনাটি এখানে কেবল ইশারা হিসেবে এসেছে। বিস্তারিত এর পরবর্তী সূরা অর্থাৎ সূরা কাসাসে আসছে।
৭. স্মরণ করুন, যখন মূসা তার পরিবারের লোকদেরকে বলেছিলেন, নিশ্চয় আমি আগুন দেখেছি, অচিরেই আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোন খবর আনিব অথবা তোমাদের জন্য আনব জলন্ত অঙ্গার, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।(১)
(১) মূসা আলাইহিস সালাম এ স্থলে দুটি প্রয়োজনের সম্মুখীন হন। এক, হারানো পথ জিজ্ঞাসা। দুই, আগুন থেকে উত্তাপ সংগ্ৰহ। কেননা, রাত্রি ছিল কনকনে শীতের। (বাগভী)) এ ব্যাপারে আরও আলোচনা পূর্বে সূরা ত্বা-হা এর ১০ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় গত হয়েছে।
(৭) স্মরণ কর সে সময়ের কথা, যখন মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিল, ‘আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবতঃ আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোন খবর আনতে পারব, অথবা তোমাদের জন্য আনতে পারব জ্বলন্ত কাষ্ঠখন্ড; যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।’ (1)
(1) এটি ঐ সময়কার ঘটনা যখন মূসা (আঃ) নিজ স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফিরছিলেন। রাতের অন্ধকারে রাস্তা নির্ণয় করতে পারছিলেন না। আর শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচার জন্য আগুনেরও প্রয়োজন ছিল।