إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَٰتِ وَذَكَرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا وَٱنتَصَرُواْ مِنۢ بَعۡدِ مَا ظُلِمُواْۗ وَسَيَعۡلَمُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓاْ أَيَّ مُنقَلَبٖ يَنقَلِبُونَ

ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ওয়া যাকারুল্লা-হা কাছীরওঁ ওয়ানতাসারূমিম বা‘দি মা-জু লিমূ ওয়া ছাইয়া‘লামুল লাযীনা জালামূ আইইয়া মুনকালাবিইঁ ইয়ানকালিবূন।উচ্চারণ

তারা ছাড়া যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরন করে আর তাদের প্রতি জুলুম করা হলে শুধুমাত্র প্রতিশোধ নেয়। ১৪৫ ---আর জুলুমকারীরা শীঘ্রই জানবে তাদের পরিণাম কি! ১৪৬ তাফহীমুল কুরআন

তবে সেই সকল লোক ব্যতিক্রম, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করেছে এবং নিজেরা নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করেছে। #%৬৭%# যারা জুলুম করেছে তারা অচিরেই জানতে পারবে কোন পরিণামের দিকে ফিরে যাচ্ছে।মুফতী তাকী উসমানী

কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে ও সৎকার্য করে এবং আল্লাহকে বার বার স্মরণ করে ও অত্যাচারিত হবার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানবে তাদের গন্তব্যস্থল কোথায়?মুজিবুর রহমান

তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ কে খুব স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নিপীড়নকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কিরূপ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কিন্তু এরা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ্কে অধিক স্মরণ করে ও অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানিবে কোন্ স্থলে এরা প্রত্যাবর্তন করবে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আর আল্লাহকে অনেক স্মরণ করেছে। আর তারা নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়। আর যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন্ প্রত্যাবর্তন স্থলে তারা প্রত্যাবর্তন করবে।আল-বায়ান

কিন্তু ওরা ব্যতীত যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আর আল্লাহকে খুব বেশি স্মরণ করে আর নির্যাতিত হওয়ার পর নিজেদের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করে। যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন্ (মহা সংকটময়) জায়গায় তারা ফিরে যাচ্ছে।তাইসিরুল

তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, এবং আল্লাহ্‌কে খুব ক’রে স্মরণ করে, আর অত্যাচারিত হবার পরে প্রতিরক্ষা করে। আর যারা অন্যায় করে তারা অচিরেই জানতে পারবে কোন বিপর্যয়ের মধ্যে তারা প্রত্যাবর্তন করছে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৪৫

ওপরে সাধারণভাবে কবিদের প্রতি যে নিন্দাবাদ উচ্চারিত হয়েছে তা থেকে এমন সব কবিদেরকে এখানে আলাদা করা হয়েছে যাদের মধ্যে রয়েছে চারটি বৈশিষ্ট্য।

একঃ যারা মু’মিন অর্থাৎ আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর কিতাবগুলো যারা মানেন এবং আখেরাত বিশ্বাস করেন।

দুইঃ নিজেদের কর্মজীবনে যারা সৎ, যারা ফাসেক, দুষ্কৃতিকারী ও বদকার নন। নৈতিকতার বাঁধন মুক্ত হয়ে যারা নির্বুদ্ধিতার পরিচয় না দেন।

তিনঃ আল্লাহকে যারা বেশী বেশী করে স্মরণ করেন নিজেদের সাধারণ অবস্থায়, সাধারণ সময়ে এবং নিজেদের রচনায়ও। তাদের ব্যক্তি জীবনে আল্লাহভীতি ও আল্লাহর আনুগত্য রয়েছে কিন্তু তাদের কবিতা পাপ-পংকিলতা, লালসা, কামনা রসে পরিপূর্ণ, এমন যেন না হয়। আবার এমনও যেন না হয়, কবিতায় বড়ই প্রজ্ঞা ও গভীর তত্ত্বকথা আওড়ানো হচ্ছে কিন্তু ব্যক্তি জীবনে আল্লাহর স্মরণের কোন চিহ্ন নেই। আসলে এ দু’টি অবস্থা সমানভাবে নিন্দনীয়। তিনিই একজন পছন্দনীয় কবি যার ব্যক্তিজীবন যেমন আল্লাহর স্মরণে পরিপূর্ণ তেমনি নিজের সমগ্র কাব্য প্রতিভাও এমন পথে উৎসর্গীকৃত যা আল্লাহ‌ থেকে গাফিল লোকদের নয় বরং যারা আল্লাহকে জানে, আল্লাহকে ভালোবাসে ও আল্লাহর আনুগত্য করে তাদের পথ।

চতুর্থ বৈশিষ্ট্যটি বর্ণনা করা হয়েছে এমন সব ব্যতিক্রমধর্মী কবিদের যারা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে কারোর নিন্দা করে না এবং ব্যক্তিগত, বংশীয় বা গোত্রীয় বিদ্বেষে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিশোধের আগুন জ্বালায় না। কিন্তু যখন জালেমের মোকাবিলায় সত্যের প্রতি সমর্থন দানের প্রয়োজন দেখা দেয় তখন তার কণ্ঠকে সেই একই কাজে ব্যবহার করে যে কাজে একজন মুজাহিদ তার তীর ও তরবারিকে ব্যবহার করে। সবসময় আবেদন নিবেদন করতেই থাকা এবং বিনীতভাবে আর্জি পেশ করেই যাওয়া মু’মিনের রীতি নয়। এ সম্পর্কেই হাদীসে বলা হয়েছে, কাফের ও মুশরিক কবিরা ইসলাম ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দোষারোপ, অপবাদের যে তাণ্ডব সৃষ্টি করতো এবং ঘৃণা ও বিদ্বেষের যে বিষ ছড়াতো তার জবাব দেবার জন্য নবী (সা.) নিজে ইসলামী কবিদেরকে উদ্বুদ্ধ করতেন ও সাহস যোগাতেন। তাই তিনি কা’ব ইবনে মালেককে (রা.) বলেনঃ

اهْجُهُمْ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَهُو أَشَدُّ عليهم مِنَ النَّبْلِ

“ওদের নিন্দা করো, কারণ সেই আল্লাহর কসম, যার হাতের মুঠোয় আমার প্রাণ আবদ্ধ, তোমার কবিতা ওদের জন্য তীরের চেয়েও বেশী তীক্ষ্ন ও ধারালো।”

হাসসান ইবনে সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেনঃ

قل وروح القدس معك এবং اهْجُهُمْ وَجِبْرِيلُ مَعَكَ

“তাদের মিথ্যাচারের জবাব দাও এবং জিব্রীল তোমার সঙ্গে আছে।” এবং “বলো এবং পবিত্র আত্মা তোমার সঙ্গে আছে।”

তাঁর উক্তি ছিলঃ

إِنَّ الْمُؤْمِنَ يُجَاهِدُ بِسَيْفِهِ وَلِسَانِهِ

“মু’মিন তলোয়ার দিয়েও লড়াই করে এবং কণ্ঠ দিয়েও।”

১৪৬

জুলুমকারী বলতে এখানে এমনসব লোকদের কথা বুঝানো হয়েছে যারা সত্যকে খাটো ও হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সম্পূর্ণ হঠকারিতার পথ অবলম্বন করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর কবি, গণক, যাদুকর ও পাগল হবার অপবাদ দিয়ে বেড়াতো। এ ধরনের অপবাদ দেবার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যারা তাঁর সম্পর্কে জানে না তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে তাদের মনে কু-ধারণা সৃষ্টি করা এবং তাঁর শিক্ষার প্রতি যাতে তারা আকৃষ্ট না হয় সে ব্যবস্থা করা।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এই ব্যতিক্রমের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কাব্য চর্চা যদি উপরে বর্ণিত দোষ থেকে মুক্ত থাকে, তাতে থাকে ঈমানের ঝলক ও ‘আমলে সালেহ’-এর ব্যঞ্জনা আর কবি তার কাব্য প্রতিভাকে দীন ও ঈমানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করে, তার কবি-কল্পনা বেদীনী কার্যকলাপে ইন্ধন না যোগায়, তবে এমন কাব্যচর্চায় দোষ নেই। জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণের বিষয়টাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এ কারণে যে, সেকালে প্রচারণার সর্বাপেক্ষা কার্যকর মাধ্যম ছিল কবিতা। কোন কবি কারও বিরুদ্ধে একটা ব্যঙ্গ কবিতা রচনা করে দিত আর অমনি তা মানুষের মুখে মুখে রটে যেত। এমনটাই করেছিল কোন কোন দুর্মুখ কাফের কবি। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে এ জাতীয় কিছু কবিতা চালিয়ে দিয়েছিল। হযরত হাসসান ইবনে সাবিত (রাযি.) ও হযরত আবদুল্লাহু ইবনে রাওয়াহা (রাযি.) প্রমুখ সাহাবী কবি তার জবাব দেওয়াকে নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব মনে করলেন। সুতরাং তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে কাসীদা রচনায় লেগে পড়লেন। তাঁরা তার মাধ্যমে যেমন কাফেরদের ব্যঙ্গ ও আপত্তির দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিলেন, তেমনি কাফেরগণ আসলে কী বস্তু সেটাও উন্মোচিত করে দিয়েছিলেন। তাদের সে কবিতাগুলো শত্রুর বিরুদ্ধে তীরের চেয়েও বেশি কার্যকর হয়েছিল। এ আয়াতে তাঁদের সে কবিত্বের সমর্থন করা হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২২৭. কিন্তু তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, আল্লাহকে বেশী পরিমাণ স্মরণ করেছে এবং অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্ৰহণ করেছে। আর যালিমরা শীঘ্রই জানবে কোন ধরনের গন্তব্যস্থলে তারা ফিরে যাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২২৭) তবে তারা নয়, যারা বিশ্বাস করে(1) ও সৎকাজ করে, আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ করে এবং অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে।(2) আর অত্যাচারীরা অচিরেই জানতে পারবে, তাদের গন্তব্যস্থল কোথায়? (3)

(1) এখানে ঐসব কবিদেরকে পৃথক করা হচ্ছে, যাদের কবিতা সত্য ও বাস্তবের ভিত্তিতে রচিত। আর এমন শব্দ দ্বারা ব্যতিক্রান্ত করা হয়েছে; যাতে স্পষ্ট হয় যে, ঈমানদার, সৎকর্মশীল, বেশী বেশী আল্লাহর যিকরকারী কবি মিথ্যা ও অতিশয়োক্তিমিশ্রিত অন্যায় (শরীয়ত-বিরোধী) কবিতা রচনা করতে পারে না। এ সব কবিতা রচনা করা তাদের কাজ, যারা ঈমানী গুণাবলী হতে খালি।

(2) অর্থাৎ, এই ধরনের মু’মিন কবি, কাফের কবিদের সেই কবিতার জবাব দেয়, যাতে তারা (কাফের কবিরা) মুসলিমদের সমালোচনা ও নিন্দা করে থাকে। যেমন কবি হাসসান বিন সাবেত (রাঃ) কাফেরদের সমালোচনার জবাব দিতেন। আর নবী (সাঃ) নিজেও বলতেন, তুমি ব্যঙ্গ কবিতার মাধ্যমে কাফেরদের সমালোচনা কর জিবরীল (আঃ) তোমার সঙ্গে রয়েছেন। (বুখারীঃ সৃষ্টি রচনা অধ্যায় ফিরিশতাদের যিকর পরিচ্ছেদ, মুসলিমঃ সাহাবাদের ফযীলত অধ্যায় হাসসান বিন সাবেতের ফযীলত পরিচ্ছেদ) এখান হতে বুঝা গেল যে, এ রকম কবিতা রচনা করা বৈধ যাতে মিথ্যা ও অতিশোয়ক্তির মিশ্রণ নেই, যার দ্বারা মুশরিক, কাফের, বিদআতী ও বাতিলপন্থী লোকদের উচিত জবাব দেওয়া হবে এবং যা সত্য পথ তাওহীদ ও সুন্নতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।

(3) ‘তাদের গন্তব্যস্থল কোথায়?’ অর্থাৎ, জাহান্নাম। এখানে পাপীদের জন্য রয়েছে কঠিন সতর্কবাণী। যেমন হাদীসের মধ্যেও বলা হয়েছে। অত্যাচার করা হতে দূরে থাকো! কারণ অত্যাচার কিয়ামত দিবসে অন্ধকারের কারণ হবে। (মুসলিমঃ নেকী অধ্যায়, অত্যাচার হারাম পরিচ্ছেদ)