ওয়া আন্নাহুম ইয়াকূলূনা মা-লা-ইয়াফ‘আলূন।উচ্চারণ
এবং এমনসব কথা বলে যা তারা করে না? ১৪৪ তাফহীমুল কুরআন
আর তারা এমন কথা বলে যা নিজেরা করে না। #%৬৬%#মুফতী তাকী উসমানী
এবং যা তারা করেনা, তা বলে।মুজিবুর রহমান
এবং এমন কথা বলে, যা তারা করে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং তারা তো বলে যা তারা করে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর নিশ্চয় তারা এমন কথা বলে, যা তারা করে না।আল-বায়ান
আর তারা যা বলে তা তারা নিজেরা করে না।তাইসিরুল
আর তারা নিশ্চয়ই তাই বলে যা তারা করে না? --মাওলানা জহুরুল হক
১৪৪
এটি হচ্ছে কবিদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য। এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মধারার সম্পূর্ণ বিপরীত। নবী (সা.) সম্পর্কে তাঁর প্রত্যেক পরিচিত জন জানতেন, তিনি যা বলতেন তাই করতেন এবং যা করতেন তাই বলতেন। তাঁর কথা ও কর্মের সামঞ্জস্য এমনই একটি জাজ্বল্যমান সত্য ছিল যা তাঁর আশেপাশের সমাজের কেউ অস্বীকার করতে পারতো না। অথচ সাধারণ কবিদের সম্পর্কে সবাই জানতো যে, তারা বলতেন এক কথা এবং করতেন অন্য কিছু। তাদের কবিতায় দানশীলতার মাহাত্ম এমন উচ্চ কণ্ঠে প্রচারিত হবে যেন মনে হবে তাদের চেয়ে বড় আর কোন দাতা নেই। কিন্তু তাদের কাজ দেখলে বুঝা যাবে তারা বড়ই কৃপণ। বীরত্বের কথা তারা বলবেন কিন্তু নিজেরা হবেন কাপুরুষ। অমুখাপেক্ষিতা, অল্পে তুষ্টি ও আত্মমর্যাদাবোধ হবে তাদের কবিতার বিষয়বস্তু কিন্তু নিজেরা লোভ, লালসা ও আত্ম বিক্রয়ের শেষ সীমানাও পার হয়ে যাবেন। অন্যের সামান্যতম দুর্বলতাকেও কঠোরভাবে পাকড়াও করবেন কিন্তু নিজেরা চরম দুর্বলতার মধ্যে হাবুডুবু খাবেন।
অর্থাৎ, বড়ত্ব জাহির ও মুরুব্বীগিরি ফলানোর জন্য এমন দাবি করে, এমন সব কথাবার্তা বলে, যার কোন প্রতিফলন তাদের নিজেদের জীবনে থাকে না।
২২৬. এবং তারা তো বলে এমন কথা, যা তারা করে না।
(২২৬) এবং তা বলে, যা করে না। (1)
(1) কবিদের মধ্যে অধিকাংশ কবিই যেহেতু এ রকম হয় যে, তারা প্রশংসা ও নিন্দায় কোন প্রকার নিয়ম-নীতির ধার ধারে না। বরং কবিতায় নিজ ব্যক্তিগত পছন্দ ও অপছন্দ অনুযায়ী রায় প্রকাশ করে থাকে। তাছাড়া কবিতা রচনায় তারা অতিরঞ্জন করে, বাড়া-বাড়ি ও অতিশয়োক্তি ব্যবহার করে এবং কবিত্ব কল্পনায় কখনও এদিক কখনো ওদিক নিরুদ্দেশ ভ্রমণ করতে থাকে। সেই কারণে মহান আল্লাহ বলেছেন, তাদের অনুসরণ যারা করবে তারাও পথভ্রষ্ট। এই ধরনের কবিতার জন্য হাদীসেও বলা হয়েছে, কবিতা দ্বারা নিজের উদর পূর্ণ করার চেয়ে রক্ত-পুঁজ দিয়ে উদর পূর্ণ করাই উত্তম। (তিরমিযীঃ আদব অধ্যায়, মুসলিম প্রভৃতি) এখানে এ কথাটি বলার অর্থ হল, আমার নবী; না জ্যোতিষী, আর না কবি। কারণ এরা দুজনেই মিথ্যুক। সুতরাং অন্য জায়গায়ও নবী (সাঃ)-কে কবি ধারণা করার কথা দৃঢ়ভাবে খন্ডন করা হয়েছে। (সূরা ইয়াসীন ৬৯ আয়াত, সূরা হাক্কাহ ৪০-৪৩ আয়াত)