يُلۡقُونَ ٱلسَّمۡعَ وَأَكۡثَرُهُمۡ كَٰذِبُونَ

ইউলকূ নাছছাম‘আ ওয়া আকছারুহুম ক-যিবূন।উচ্চারণ

শোনা কথা কানে ঢুকিয়ে দেয় এবং এর বেশির ভাগই হয় মিথ্যা। ১৪১ তাফহীমুল কুরআন

তারা শোনাকথা তাদের দিকে ছুঁড়ে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। #%৬৪%#মুফতী তাকী উসমানী

তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।মুজিবুর রহমান

তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা কান পেতে থাকে এবং এদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।আল-বায়ান

ওরা কান পেতে থাকে আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।তাইসিরুল

তারা কান পাতে, আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৪১

এর দু’টি অর্থ হতে পারে। একটি হচ্ছে, শয়তানরা কিছু শুনেটুনে নিয়ে নিজেদের চেলাদেরকে জানিয়ে দেয় এবং তাতে সামান্যতম সত্যের সাথে বিপুল পরিমাণ মিথ্যার মিশ্রণ ঘটায়। দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, মির্থুক-প্রতারক গণৎকাররা শয়তানের কাছ থেকে কিছু শুনে নেয় এবং তারপর তার সাথে নিজের পক্ষ থেকে অনেকটা মিথ্যা মিশিয়ে মানুষের কানে ফুঁকে দিতে থাকে। একটি হাদীসে এর আলোচনা এসেছে। হাদীসটি বুখারী শরীফে আয়েশার (রা.) বর্ণনায় উদ্ধৃত হয়েছে। তাতে আয়েশা (রা.) বলেনঃ কোন কোন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গণকদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। জবাবে তিনি বলেন ওসব কিছুই নয়। তারা বলে, হে আল্লাহর রসূল! কখনো কখনো তারা তো আবার ঠিক সত্যি কথাই বলে দেয়। রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সত্যি কথাটা কখনো কখনো জিনেরা নিয়ে আসে এবং তাদের বন্ধুদের কানে ফুঁকে দেয় তারপর তারা তার সাথে নানা রকম মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি কাহিনী তৈরী করে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ, শয়তানদের কথায় ভরসা কোন ভালো মানুষ করে না। মিথ্যুক ও পাপিষ্ঠ কিসিমের লোকই তাদেরকে বিশ্বাস করে। আর ‘তারা গায়েবী বিষয় জানে’, শয়তানদের এ দাবি বিলকুল মিথ্যা। তাদের জন্য তো আসমানে যাওয়ার পথই বন্ধ। কাজেই তারা গায়েব জানবে কোত্থেকে? যা ঘটে তা এই যে, তারা ফেরেশতাদের কথা চুরি করে শুনতে চেষ্টা করে। কদাচিত কোন কথা তাদের কানে পড়ে যায় আর অমনি সেটা লুফে নেয় এবং তার সাথে আরও শতটা মিথ্যা মিশ্রিত করে। তারপর সেগুলো তাদের ভক্তদেরকে এসে শোনায়। এই হল তাদের গায়েব জানার রহস্য, মিথ্যাই যার সারাৎসার।

তাফসীরে জাকারিয়া

২২৩. তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।(১)

(১) এর দুটি অর্থ হতে পারে। একটি হচ্ছে, শয়তানরা কিছু শুনে নিয়ে নিজেদের চেলাদেরকে জানিয়ে দেয় এবং তাতে সামান্যতম সত্যের সাথে বিপুল পরিমাণ মিথ্যার মিশ্রণ ঘটায়। দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, মিথ্যুক-প্রতারক গণকরা শয়তানের কাছ থেকে কিছু শুনে নেয় এবং তারপর তার সাথে নিজের পক্ষ থেকে অনেকটা মিথ্যা মিশিয়ে মানুষের কানে ফুঁকে দিতে থাকে। (দেখুন: ফাতহুল কাদীর) একটি হাদীসে এর আলোচনা এসেছে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেনঃ কোন কোন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গণকদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। জবাবে তিনি বলেন, ওসব কিছুই নয়। তারা বলে, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো কখনো তারা তো আবার ঠিক সত্য কথাই বলে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বলেন, সত্যি কথাটা কখনো কখনো জিনেরা নিয়ে আসে এবং তাদের বন্ধুদের কানে ফাঁকে দেয় তারপর তারা তার সাথে শত মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি কাহিনী তৈরী করে। (বুখারী ৩২১০)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২২৩) ওরা কান পেতে থাকে এবং ওদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। (1)

(1) অর্থাৎ, জ্যোতিষীদের কানে পৌঁছে দেয়। তারা তার সাথে মিথ্যা কথা মিশিয়ে মানুষের মাঝে পরিবেশন করে। যেমন, সহীহ হাদীসে এসেছে। (দেখুনঃ সহীহ বুখারী তাওহীদ অধ্যায় ফাজের ও মুনাফিক, ও সৃষ্টি রচনা পরিচ্ছেদ, ইবলীস ও তার সৈন্য পরিচ্ছেদ। মুসলিমঃ সালাম অধ্যায় জ্যোতিষী ও তার নিকট আসা পরিচ্ছেদ) يُلقُونَ السَّمع এর অর্থঃ শয়তান কিছু কথা শোনার পর তা জ্যোতিষীদের কানে পৌঁছে দেয়। সেই হিসাবে السَّمع শব্দটি المَسمُوع (শ্রুত কথা) অর্থে ব্যবহার হবে। কিন্তু যদি এর অর্থ শ্রবণেন্দ্রেীয় বা কান হয়, তাহলে এর অর্থ হবে শয়তানরা আকাশে কান লাগিয়ে চুরি করে লুকিয়ে কিছু কথা শুনে ফেলে এবং তা জ্যোতিষীদের নিকট পৌঁছে দেয়।