وَمَا تَنَزَّلَتۡ بِهِ ٱلشَّيَٰطِينُ

ওয়ামা তানাঝঝালাত বিহিশশাইয়া-তীন।উচ্চারণ

এ (সুস্পষ্ট কিতাবটি) নিয়ে শয়তানরা অবতীর্ণ হয়নি। ১৩০ তাফহীমুল কুরআন

আর এ কুরআন নিয়ে শয়তানগণ অবতরণ করেনি। #%৬২%#মুফতী তাকী উসমানী

শাইতানরা ইহাসহ অবতীর্ণ হয়নি।মুজিবুর রহমান

এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ করেনি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শয়তানেরা তাসহ অবতীর্ণ হয় নাই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর শয়তানরা তা নিয়ে অবতরণ করেনি।আল-বায়ান

শয়ত্বানরা তা (অর্থাৎ কুরআন) নিয়ে অবতরণ করেনি।তাইসিরুল

আর শয়তানরা এ নিয়ে অবতরণ করে নি,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৩০

প্রথমে এ বিষয়টির ইতিবাচক দিকের কথা বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এটি রব্বুল আলামীনের নাযিলকৃত কিতাব এবং রূহুল আমীন এটা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। এখন নেতিবাচক দিক বর্ণনা করা হচ্ছে। বলা হয়েছে, শয়তানরা একে নিয়ে অবতীর্ণ হয়নি, যেমন সত্যের দুশমনরা দোষারোপ করছে। কুরাইশ বংশীয় কাফেররা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য যে মিথ্যার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিল সেখানে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছিল এই যে, কুরআনের আকারে যে বিস্ময়কর বাণী মানুষের সামনে আসছিল এবং তাদের হৃদয়ের গভীরে অনুপ্রবেশ করে চলছিল তার কি ব্যাখ্যা করা যায়। এ বাণী মানুষের কাছে পৌঁছাবার পথ বন্ধ করার ক্ষমতা তাদের ছিল না। লোকদের মনে এ সম্পর্কে কুধারণার সৃষ্টি করা এবং এর প্রভাব থেকে তাদেরকে রক্ষা করার জন্য কি ব্যবস্থা অবলম্বন করা যায়, এটাই ছিল এখন তাদের জন্য একটি পেরেশানীর ব্যাপার। এ পেরেশানীর অবস্থার মধ্যে তারা জনগণের মধ্যে যেসব অপবাদ ছড়িয়েছিল তার মধ্যে একটি ছিল এই যে, মুহাম্মাদ ﷺ (নাউযুবিল্লাহ) একজন গণক এবং একজন সাধারণ গণকদের মতো তাঁর মনের মধ্যেও এ বাণী শয়তানরা সঞ্চার করে দেয়। এ অপবাদটিকে তারা নিজেদের সবচেয়ে বেশী কার্যকর হাতিয়ার বলে মনে করতো। তাদের ধারণা ছিল, এ বাণী কোন ফেরেশতা নিয়ে আসে না বরং নিয়ে আসে শয়তান, কারো কাছে একথা যাচাই করার কি মাধ্যমই বা থাকতে পারে এবং শয়তান মনের মধ্যে সঞ্চার করে দেয়, এ অভিযোগের প্রতিবাদ যদি কেউ করতে চায় তাহলে কিভাবে করবে?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কুরআন মাজীদ সম্পর্কে কাফেরগণ যেসব কথা বলত এবার তা রদ করা হচ্ছে। মৌলিকভাবে তাদের দাবি ছিল দু’টি। (এক) কেউ কেউ বলত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন কাহেন বা অতীন্দ্রিয়বাদী। (দুই) কারও দাবি ছিল তিনি একজন কবি এবং কুরআন মাজীদ একখানি কাব্যগ্রন্থ (নাউযুবিল্লাহ)। আল্লাহ তাআলা এখান থেকে তাদের দু’টো দাবিই খণ্ডন করছেন। কাহেন (অতীন্দ্রিয়বাদী) বলা হত সেইসব লোককে যাদের দাবি ছিল, তাদের হাতে জিন্ন আছে, যারা তাদের বশ্যতা স্বীকার করে এবং গায়েবী সংবাদ তাদেরকে এনে দেয়। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা কাহেনদের স্বরূপ তুলে ধরেছেন যে, তাদের কাছে যে সকল জিন্ন আসে, তারা মূলত শয়তান। কুরআন মাজীদে যেসব বিষয়বস্তু বর্ণিত হয়েছে, তা শয়তানদের জন্য আদৌ প্রীতিকর নয়, তারা তা কখনও কামনা করতে পারে না। [অর্থাৎ জিন-শয়তানের স্বভাবই হল অসৎপথে চলা, ফিতনা-ফাসাদ বিস্তার করা ও অন্যকে বিপথগামী করা। অপরদিকে কুরআন হল সৎপথের নির্দেশনা ও অন্ধকারের আলোক-বর্তিকা। অর্থাৎ তাদের স্বভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত। কাজেই এর ভারবহন করা ও নবী-রাসূলদের কাছে একে নিয়ে আসার কাজটি তাদের স্বভাব-চরিত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। -অনুবাদক] তাছাড়া এতে যেসব পুণ্যের কথা আছে, তা বলার মত ক্ষমতাও তাদের নেই। কবি সংক্রান্ত দাবির রদ সামনে ২২৪ নং আয়াতে আসছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২১০. আর শয়তানরা এটাসহ নাযিল হয়নি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২১০) শয়তান তা নিয়ে অবতরণ করেনি।