মাআগনা-‘আনহুম মা-ক-নূইউমাত্তা‘ঊন।উচ্চারণ
তাহলে জীবন যাপনের এ উপকরণগুলো যা তারা এ যাবত পেয়ে আসছে এগুলো তাদের কোন্ কাজে লাগবে? ১২৮ তাফহীমুল কুরআন
তবে ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ তাদেরকে দেওয়া হচ্ছিল, তখন (অর্থাৎ শাস্তির সময়) তা তাদের কোন উপকারে আসবে কি? #%৬১%#মুফতী তাকী উসমানী
তখন তাদের ভোগ-বিলাসের উপকরণ তাদের কোন কাজে আসবে কি?মুজিবুর রহমান
তখন তাদের ভোগ বিলাস তা তাদের কি কোন উপকারে আসবে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তখন এদের ভোগ-বিলাসের উপকরণ এদের কোন কাজে আসবে কি ?ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তখন যা তাদের ভোগ-বিলাসের জন্য দেয়া হয়েছিল, তা তাদের কোনই কাজে আসত না।আল-বায়ান
তখন তাদের বিলাসের সামগ্রী তাদের কোন উপকারে আসবে না।তাইসিরুল
তবু যা তাদের উপভোগ করতে দেওয়া হয়েছিল তা তাদের কোনো কাজে আসবে না?মাওলানা জহুরুল হক
১২৮
এ বাক্যটি ও এর আগের বাক্যটির মাঝখানে একটি সূক্ষ্ম শূন্যতা রয়ে গেছে। শ্রোতা একটু চিন্তা-ভাবনা করলে নিজেই এ শূন্যতা ভরে ফেলতে পারে। আযাব আসার কোন আশঙ্কা তারা করতো না, তাই তারা তাড়াতাড়ি আযাব আসার জন্য হৈ চৈ করছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল, যেমন সুখের বাঁশি এ পর্যন্ত তারা বাঁজিয়ে এসেছে তেমনি তারা চিরকালই তা বাজাতে থাকবে। এ ভরসায় তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চ্যালেঞ্জ দিতো এ মর্মে যে, যদি সত্যি আপনি আল্লাহর রসূল হন এবং আমরা আপনার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে আল্লাহর আযাবের হকদার হয়ে থাকি, তাহলে নিন আমরা তো আপনার প্রতি মিথ্যা আরোপ করলাম, এবার নিয়ে আসুন সেই আযাব, যার ভয় আমাদের দেখিয়ে আসছেন। এ কথায় বলা হচ্ছে, ঠিক আছে, যদি ধরে নেয়া যায় তাদের এ ভরসা সঠিকই হয়ে থাকে, যদি তাদের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে কোন আযাব না আসে, যদি দুনিয়ার আয়েশী জীবন যাপন করার জন্য তারা একটি সুদীর্ঘ অবকাশই পেয়ে যায়, যার আশায় তারা বুক বেঁধেছে, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, যখনই তাদের ওপর আদ, সামূদ বা লূতের জাতি অথবা আইকাবাসীদের মতো আকস্মিক বিপর্যয় আপতিত হবে, যার হাত থেকে নিরাপদ থাকার নিশ্চয়তা কারো কাছে নেই অথবা অন্য কিছু না হলেও অন্তত মৃত্যুর শেষ মূহুর্তই এসে পৌঁছবে, যার বেষ্টনী ভেদ করে পালাবার সাধ্য কারোর নেই, তাহলে সে সময় দুনিয়ার আয়েশ-আরাম করার এ কয়েকটি বছর তাদের জন্য কি লাভজনক প্রমাণিত হবে?
শীঘ্র শাস্তি না আসার কারণে কাফেরগণ বলত, আল্লাহ তাআলা তো আমাদেরকে বেশ সুখণ্ডশান্তিতে রেখেছেন। আমরা ভ্রান্ত পথে থাকলে তিনি আমাদেরকে সুখে রাখবেন কেন? এ আয়াতে জবাব দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা দ্রুত শাস্তি দেন না তোমাদেরকে শুধরে যাওয়ার সুযোগ দানের লক্ষ্যে। তিনি একটা কাল পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রাখেন। এর ভেতর কিছু লোক শুধরে গেলে তো ভাল। অন্যথায় যখন সময় শেষ হয়ে যাবে তখন তারা পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কি কাজের তা বুঝতে পারবে। দুনিয়ায় সর্বোচ্চ অবকাশ দেওয়া হয় মৃত্যু পর্যন্ত। মৃত্যুর পর যখন শাস্তি সামনে এসে যাবে, তখন জাগতিক প্রাচুর্য কোন কাজেই আসবে না। আখেরাতের বিপরীতে দুনিয়ার জীবন তো নিতান্তই মূল্যহীন তখন এটা ভালো করেই বুঝে আসবে। কিন্তু সেই সময়ের বুঝ কী উপকার দেবে?
২০৭. তখন যা তাদের ভোগ-বিলাসের উপকরণ হিসেবে দেয়া হয়েছিল তা তাদের কি উপকারে আসবে?
(২০৭) তখন ওদের ভোগ-বিলাসের উপকরণ ওদের কোন কাজে আসবে না। (1)
(1) যদি আমি তাদেরকে অবকাশ দিই, তারপর আযাব দ্বারা পাকড়াও করি, তাহলে তাদের পার্থিব ধনসম্পদ কোন কাজে লাগবে কি? অর্থাৎ, তাদেরকে আযাব থেকে বাঁচাতে পারবে কি? অবশ্যই না।
{وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِ مِنَ الْعَذَابِ أَن يُعَمَّرَ} (96) سورة البقرة {وَمَا يُغْنِي عَنْهُ مَالُهُ إِذَا تَرَدَّى} (11) سورة الليل