ওয়া ইযা-মারিদতুফাহুওয়া ইয়াশফীন।উচ্চারণ
এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন। ৫৮ তাফহীমুল কুরআন
এবং আমি যখন পীড়িত হই, আমাকে শেফা দান করেন। #%২৫%#মুফতী তাকী উসমানী
এবং অসুস্থ হলে তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন।মুজিবুর রহমান
যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন ; ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন যিনি আমাকে আরোগ্য করেন’।আল-বায়ান
আর আমি যখন পীড়িত হই তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য করেন।তাইসিরুল
"আর যখন আমি রোগে ভোগি তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য করেন,মাওলানা জহুরুল হক
৫৮
একমাত্র আল্লাহর বন্দেগী করার স্বপক্ষে এটি হচ্ছে দ্বিতীয় যুক্তি। যদি তিনি মানুষকে কেবল সৃষ্টি করেই ছেড়ে দিতেন এবং সামনের দিকে তার দুনিয়ার জীবন যাপনের সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক না রাখতেন তাহলেও মানুষের তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কারো সহায়তা চাওয়ার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতো। কিন্তু তিনি তো সৃষ্টি করার সাথে সাথে পথনির্দেশনা, প্রতিপালন, দেখাশুনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজন পূর্ণ করার দায়িত্ব নিজেই নিয়েছেন। যে মুহূর্তে মানুষ দুনিয়ায় পদার্পণ করে তখনই তার মায়ের বুকে দুধের ধারা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে কোন অদৃশ্য শক্তি তাকে স্তন চোষার ও গলা দিয়ে দুধ নিচের দিকে নামিয়ে নেবার কায়দা শিখিয়ে দেয়। তারপর এ প্রতিপালন, প্রশিক্ষণ ও পথ প্রদর্শনের কাজ প্রথম দিন থেকে শুরু হয়ে মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বরাবর চালু থাকে। জীবনের প্রতি পর্যায়ে মানুষের নিজের অস্তিত্ব, বিকাশ, উন্নয়ন ও স্থায়িত্বের জন্য যেসব ধরনের সাজ-সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় তা সবই তার স্রষ্ট পৃথিবী থেকে আকাশ পর্যন্ত সর্বত্রই সঠিকভাবে যোগান দিয়ে রেখেছেন। এ সাজ-সরঞ্জাম থেকে লাভবান হবার এবং একে কাজে লাগাবার জন্য তার যে ধরনের শক্তি ও যোগ্যতার প্রয়োজন তা সবও তার আপন সত্তায় সমাহিত রাখা হয়েছে। জীবনের প্রতিটি বিভাগে তার যে ধরনের পথনির্দেশনার প্রয়োজন হয় তা দেবার পূর্ণ ব্যবস্থাও তিনি করে রেখেছেন। এ সঙ্গে তিনি মানবিক অস্তিত্বের সংরক্ষণের এবং তাকে বিপদ-আপদ, রোগ-শোক, ধ্বংসকর জীবাণু ও বিষাক্ত প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য তার নিজের শরীরের মধ্যে এমন শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন মানুষের জ্ঞান এখনো যার পুরোপুরি সন্ধান লাভ করতে পারেনি। আল্লাহর এ শক্তিশালী প্রাকৃতিক ব্যবস্থা যদি না থাকতো, তাহলে সামান্য একটি কাঁটা শরীরের কোন অংশে ফুটে যাওয়াও মানুষের জন্য ধ্বংসকর প্রমাণিত হতো এবং নিজের চিকিৎসার জন্য মানুষের কোন প্রচেষ্টাই সফল হতো না। স্রষ্টার এ সর্বব্যাপী অনুগ্রহ ও প্রতিপালন কর্মকাণ্ড যখন প্রতি মুহূর্তে সকল দিক থেকে মানুষকে সাহায্য করছে তখন মানুষ তাকে বাদ দিয়ে অন্য কোন সত্তার সামনে মাথা নত করবে এবং প্রয়োজন পূরণ ও সংকট উত্তরণের জন্য অন্য কারো আশ্রয় গ্রহণ করবে, এর চেয়ে বড় মূর্খতা ও বোকামী এবং এর চেয়ে বড় অকৃতজ্ঞতা আর কি হতে পারে?
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আদব-কায়দা লক্ষ্য করুন। অসুস্থতাকে তো নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে বলছেন, ‘আমি পীড়িত’ হই। কিন্তু আরোগ্য দানকে আল্লাহ তাআলার কাজরূপে উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন’। এর দ্বারা এদিকেও ইশারা হতে পারে যে, রোগ-ব্যাধি মানুষের কোন ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে আর শেফা সরাসরি আল্লাহ তাআলার দান।
৮০. এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন(১);
(১) অর্থাৎ আমি যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন। এখানে লক্ষণীয় ব্যাপার যে, রোগাক্রান্ত হওয়াকে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তার নিজের দিকে সম্পর্কযুক্ত করেছেন, যদিও আল্লাহর নির্দেশেই সবকিছু হয়। এটাই হল আল্লাহর সাথে আদাব বা শিষ্টাচার। (দেখুন: বাগভী, কুরতুবী)
(৮০) এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন; (1)
(1) রোগ দূর করে আরোগ্য দানকারীও তিনিই। অর্থাৎ ঔষধের প্রভাব-প্রতিক্রিয়ায় রোগ দূর করার ক্ষমতা তাঁরই নির্দেশে। তাঁর নির্দেশ ছাড়া ঔষধ কোন কাজ দেয় না। রোগও আল্লাহর ইচ্ছা ও আদেশেই হয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও ইবরাহীম (আঃ) তার সম্পর্ক আল্লাহর দিকে করেননি; বরং নিজের দিকে করেছেন। তিনি আল্লাহর কথা উল্লেখের সময় আদবের বড় খেয়াল রেখেছেন।