۞وَأَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنۡ أَسۡرِ بِعِبَادِيٓ إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَ

ওয়া আওহাইনাইলা-মূছাআন আছরিবি‘ইবা-দী ইন্নাকুম মুত্তাবা‘ঊন।উচ্চারণ

আমি ৪১ মূসার কাছে ওহী পাঠিয়েছি এই মর্মেঃ “রাতারাতি আমার বান্দাদের নিয়ে বের হয়ে যাও, তোমাদের পিছু নেয়া হবে।” ৪২ তাফহীমুল কুরআন

আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে তুমি রাতারাতি রওয়ানা হয়ে যাও। তোমাদের কিন্তু অবশ্যই পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।মুফতী তাকী উসমানী

আমি মূসার প্রতি অহী করেছিলাম এই মর্মেঃ আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতে বহির্গত হও; তোমাদেরতো পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।মুজিবুর রহমান

আমি মূসাকে আদেশ করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও, নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি মূসার প্রতি ওহী করেছিলাম এই মর্মে : ‘আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিকালে বের হও, তোমাদের তো পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি মূসার প্রতি এ মর্মে ওহী পাঠিয়েছিলাম যে, ‘আমার বান্দাদের নিয়ে রাত্রিকালে যাত্রা শুরু কর, নিশ্চয়ই তোমাদের পিছু নেয়া হবে।’আল-বায়ান

আমি মূসাকে ওহীযোগে নির্দেশ দিলাম আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিকালে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।তাইসিরুল

আর আমরা মূসাকে প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম এই বলে -- "আমার বান্দাদের নিয়ে রাতের মধ্যে রওয়ানা হয়ে যাও, তোমাদের অবশ্য পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪১

ওপরে বর্ণিত ঘটনার পর হিজরতের কথা শুরু করার কারণে কারোর মনে এ ভুল ধারণা সৃষ্টি হওয়া উচিত নয় যে, এর পর পরই হযরত মূসাকে বনী ইসরাঈল শহর মিসর থেকে বের হয়ে আসার হুকুম দেওয়া হয়। আসলে এখানে মাঝখানে কয়েক বছরের ইতিহাস আলোচনা করা হয়নি। সূরা আ’রাফের ১৫-১৬ এবং সূরা ইউনুসের ৯ রুকু’তে এ আলোচনা এসেছে। এর একটি অংশ সামনের দিকে সূরা মু’মিনের ২ থেকে ৫ ও সূরা যুখরুফের ৫ রুকু’তেও আসছে। এখানে যেহেতু বক্তব্য পরম্পরার সাথে সম্পর্ক রেখে সুস্পষ্ট নিদর্শনাসমূহ দেখে নেবার পরও যে ফেরাউন হঠকারিতার পথ অবলম্বন করেছিল তার পরিণতি কি হয়েছিল? এবং যে দাওয়াতের পেছনে আল্লাহর শক্তি নিয়োজিত ছিল তা কিভাবে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল সে কথা বর্ণনা করাই উদ্দেশ্য, তাই ফেরাউন ও হযরত মূসা সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায় বর্ণনা করার পর এখন ঘটনা সংক্ষেপ করে এর শুধুমাত্র শেষ দৃশ্য দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

৪২

উল্লেখ্য, বনী ইসরাঈলের জনবসতি মিসরের কোন এক জায়গায় একসাথে ছিল না। বরং দেশের সমস্ত শহরে ও পল্লীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। বিশেষ করে মামফিস (MAMPHIS) থেকে রামসীস পর্যন্ত এলাকায় তাদের বৃহত্তর অংশ বাস করতো। এ এলাকা জুশান নামে পরিচিত ছিল। (দেখুন তাফহীমুল কুরআন সূরা আ’রাফ, বনী ইসরাঈলের নির্গমন পথের নকশা) কাজেই হযরত মূসাকে যখন হুকুম দেওয়া হয়েছিল যে, তোমাকে এবার বনী ইসরাঈলকে নিয়ে মিসর থেকে বের হয়ে যেতে হবে, তখন সম্ভবত তিনি দেশের সমস্ত বনী ইসরাঈলী বসতিতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে হিজরত করার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এজন্য হয়তো একটি রাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। সে রাতে প্রত্যেক জনপদের মুহাজিরদের বের হয়ে পড়তে হবে। রাতের বেলা হিজরত করার জন্য বের হবার নির্দেশ কেন দেয়া হয়েছিল “তোমাদের পিছু নেয়া হবে” উক্তি থেকে তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অর্থাৎ ফেরাউনের সেনাবাহিনী তোমাদের পিছনে ধাওয়া করার আগে রাতের মধ্যে তোমরা নিজেদের পথে অন্তত এতদূর অগ্রসর হয়ে যাওয়ার ফলে তারা অনেক পিছনে পড়ে যায়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৫২. আর আমরা মূসার প্রতি ওহী করেছিলাম এ মর্মে যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতে বের হউন(১), অবশ্যই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।

(১) এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বেদুঈনের বাসায় গেলে সে তাকে সম্মান করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি আমার সাথে সাক্ষাত করতে এসো। বেদুঈন রাসূলের সাথে সাক্ষাত করতে আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ কিছু চাও? সে বললঃ এক উট তার মালামালসহ, আর কিছু ছাগল যা আমার স্ত্রী দোহাতে পারে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তুমি কি বনী-ইসরাঈলের বৃদ্ধার মত হতে পারলে না? সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ বনী-ইসরাঈলের বৃদ্ধা, হে আল্লাহর রাসূল, সে আবার কে? রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ মূসা আলাইহিস সালাম যখন বনী-ইসরাঈলদের নিয়ে বের হলেন, তখন পথ হারিয়ে ফেললেন। তিনি বনী ইসরাঈলদের বললেনঃ কেন এমন হল?

তখন তাদের মাঝে আলেমগণ বললেনঃ ইউসুফ আলাইহিস সালাম মৃত্যুর পূর্বে বনী ইসরাঈল থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, বনী ইসরাঈল মিসর ছেড়ে যাবার সময় অবশ্যই তার কফিনের বাক্স সাথে নিয়ে যাবে। আর যেহেতু তা নেয়া হয়নি, সেহেতু পথ হারিয়ে যাচ্ছে। তখন ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর কফিনের সন্ধান করা হল, কেউই তার হদিস দিতে পারল না। শুধু এক বৃদ্ধা ব্যতীত। কিন্তু সে শর্ত সাপেক্ষে বলতে রাজী হল। সে জান্নাতে মূসা আলাইহিস সালাম-এর সাথে থাকার শর্ত দিল। মূসা আলাইহিস সালাম কিছুতেই রাজী হন না। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশে মূসা 'আলাইহিস সালাম রাজী হলেন। তখন বৃদ্ধ এক এলাকায় সেটা দেখিয়ে দিল। সেখানে পানি ছিল। লোকজন সেই পানি সেঁচে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর কফিনের বাক্স বের করে আনলে সমস্ত পথ স্পষ্ট হয়ে যায়। (ইবনে হিব্বানঃ ৭২৩, মুস্তাদরাক হাকিমঃ ৪০৪–৪০৫, ৫৭১, ৫৭২)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫২) আমি মূসার প্রতি এ মর্মে প্রত্যাদেশ করলাম যে, আমার দাসদের নিয়ে রজনীযোগে বের হয়ে যাও, অবশ্যই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে। (1)

(1) যখন মূসা (আঃ) মিসরে দীর্ঘ দিন অবস্থান করলেন এবং বিভিন্নভাবে ফিরআউন তথা তার পারিষদদের নিকট দলীল প্রমাণিত হয়ে গেল, আর তা সত্ত্বেও সে ঈমান আনার জন্য তৈরী হল না, তখন এ ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না যে, তাকে শাস্তি দিয়ে শিক্ষার বিষয় করা হোক। অতএব মূসাকে আল্লাহ তাআলা আদেশ করলেন, তুমি রাত্রি বেলায় বনী-ইস্রাঈলকে নিয়ে বেরিয়ে পড়। আর তিনি বললেন, ভয়ের কিছু নেই, ফিরআউন দলবলসহ তোমাদের পিছু পিছু আসবে।