ثُمَّ قَبَضۡنَٰهُ إِلَيۡنَا قَبۡضٗا يَسِيرٗا

ছু ম্মা কাবাদনা-হু ইলাইনা-কাবদাইঁ ইয়াছীর-।উচ্চারণ

তারপর (যতই সূর্য উঠতে থাকে) আমি এ ছায়াকে ধীরে ধীরে নিজের দিকে গুটিয়ে নিতে থাকি। ৫৯ তাফহীমুল কুরআন

অতঃপর আমি অল্প-অল্প করে তাকে নিজের দিকে গুটিয়ে আনি। #%২৩%#মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর আমি একে আমার দিকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনি।মুজিবুর রহমান

অতঃপর আমি একে নিজের দিকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরপর আমি এটাকে আমার দিকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারপর আমি এটাকে ধীরে ধীরে আমার দিকে গুটিয়ে আনি।আল-বায়ান

অতঃপর আমি তাকে নিজের দিকে গুটিয়ে নেই, ধীরে ধীরে ক্রমাগতভাবে (কারো মৃত্যু হলে, কিছু বিনাশ হলে, কিছু গুটানো হলে- সব কিছুই আল্লাহর দিকে চলে যায়)।তাইসিরুল

তারপর আমরা এটিকে আমাদের কাছে টেনে নিই আস্তে আস্তে টানতে টানতে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৯

নিজের দিকে গুটিয়ে নেয়া মানে হচ্ছে, অদৃশ্য ও বিলীন করে দেয়া। কারণ যে কোন জিনিস ধ্বংস হয় তা আল্লাহরই দিকে ফিরে যায়। প্রত্যেকটি জিনিস তাঁর দিক থেকেই আসে এবং তাঁরই দিকে ফিরে যায়।

এ আয়াতের দু’টি দিক। বাহ্যিক ও আভ্যন্তরিক। বাহ্যিক দিক থেকে আয়াতটি মুশরিকদের বলছে, যদি তোমরা পৃথিবীতে পশুর মতো জীবন ধারণ না করতে এবং কিছুটা বুদ্ধি-বিবেচনা ও সচেতনতার সাথে এগিয়ে চলতে, তাহলে প্রতিনিয়ত তোমরা এই যে ছায়া দেখতে পাচ্ছো এটিই তোমাদের এ শিক্ষা দেবার জন্য যথেষ্ট ছিল যে, নবী তোমাদের যে তাওহীদের শিক্ষা দিচ্ছেন তা যথার্থই সত্য ও সঠিক। তোমাদের সারা জীবন এ ছায়ার জোয়ার-ভাটার সাথে বিজড়িত। যদি চিরন্তন ছায়া হয়ে যায়, তাহলে পৃথিবীতে কোন প্রাণী এমন কি উদ্ভিদও জীবিত থাকতে পারে না। কারণ সূর্যের আলো ও উত্তাপের উপর তাদের সবার জীবন নির্ভর করে। ছায়া যদি একেবারেই না থাকে তাহলেও জীবন অসাধ্য। কারণ সর্বক্ষণ সূর্যের মুখোমুখি থাকার এবং তার রশ্মি থেকে কোন আড়াল না পাওয়ার ফলে কোন প্রাণী এবং কোন উদ্ভিদও বেশীক্ষণ টিকে থাকতে পারে না। বরং পানিও উধাও হয়ে যাবে। রোদ ও ছায়ার মধ্যে যদি হঠাৎ করে পরিবর্তন হতে থাকে তাহলে পৃথিবীর সৃষ্টিকূল পরিবেশের এসব আকস্মিক পরিবর্তন বেশীক্ষণ বরদাশত করতে পারবে না। কিন্তু একজন মহাজ্ঞানী স্রষ্টা ও সর্বময় ক্ষমতাসম্পন্ন সত্তা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে এমন একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছেন যার ফলে স্থায়ীভাবে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে ধীরে ধীরে ছায়া পড়ে ও হ্রাস-বৃদ্ধি হয় এবং রোদ ক্রমান্বয়ে বের হয়ে আসে এবং বাড়তে ও কমতে থাকে। এ ধরনের বিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা কোন অন্ধ প্রকৃতির হাতে আপনা আপনি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। অথবা বহুসংখ্যক ক্ষমতাসম্পন্ন প্রভুও একে প্রতিষ্ঠিত করে এভাবে একটি ধারাবাহিক নিয়ম-শৃংখলা সহকারে চালিয়ে আসতে পারে না।

কিন্তু এসব বাহ্যিক শব্দের অভ্যন্তর থেকে আর একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। সেটি হচ্ছে, বর্তমানে এই যে কুফরী ও শিরকের অজ্ঞতার ছায়া চতুর্দিকে ছেয়ে আছে এটা কোন স্থায়ী জিনিস নয়। কুরআন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আকারে হেদায়াতের সূর্য উদিত হয়েছে। বাহ্যত ছায়া বিস্তার লাভ করেছে দূর দূরান্তে। কিন্তু এ সূর্য যতই উপরে উঠতে থাকবে ততই ছায়া সংকুচিত হতে থাকবে। তবে একটু সবরের প্রয়োজন। আল্লাহর আইন কখনো আকস্মিক পরিবর্তন আনে না। বস্তুজগতে যেমন সূর্য ধীরে ধীরে উপরে উঠে এবং ছায়া ধীরে ধীরে সংকুচিত হয় ঠিক তেমনি চিন্তা ও নৈতিকতার জগতেও হেদায়াতের সূর্যের উত্থান ও ভ্রষ্টতার ছায়ার পতন ধীরে ধীরেই হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এখান থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরতের কয়েকটি নিদর্শনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এর প্রত্যেকটি নিদর্শনই আল্লাহ তাআলার তাওহীদের প্রমাণ বহন করে। চিন্তাশীল মাত্রই চিন্তা করলে বিষয়টি সহজেই বুঝতে পারবে। সর্বপ্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে রোদ ও ছায়ার পরিবর্তনের দিকে। এ পরিবর্তন মানব জীবনের জন্য অতীব জরুরী। পৃথিবীতে সর্বক্ষণ রোদ থাকলে যেমন মানব জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যাবে, তেমনি সর্বদা ছায়া থাকলেও জীবনের সব ক্ষেত্রে দেখা দেবে মহা বিপর্যয়। তাই আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণার্থে উভয়টিকে এক চমৎকার নিয়ম-নিগড়ে বেঁধে দিয়েছেন। প্রতিদিন মানুষ ক্রমবৃদ্ধি ও ক্রমহ্রাস প্রক্রিয়ায় উভয়টিই পেয়ে থাকে। ভোরবেলা ছায়া থাকে সম্প্রসারিত। তারপর রোদের ক্রমবৃদ্ধির সাথে সাথে ছায়া ক্রমশ সঙ্কুচিত হতে থাকে। সূর্যকে ছায়ার পথনির্দেশক বানানোর অর্থ এটাই যে, সূর্য যত উপরে ওঠে ছায়া তত কমতে থাকে। এভাবে কমতে কমতে দুপুর সময়ে তা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়। যে বিষয়টাকে আল্লাহ পাক “নিজের দিকে গুটিয়ে আনি” বলে ব্যক্ত করেছেন। অতঃপর সূর্য যতই পশ্চিম দিগন্তে ঢলে পড়ে ছায়া ততই ধীরে ধীরে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি সূর্যাস্তকালে তা পুরো দিগন্ত ঘিরে ফেলে। এভাবে রোদ ও ছায়ার এ পরিবর্তন মানুষ ধীরে ধীরে লাভ করে। ফলে অকস্মাৎ পরিবর্তনের ক্ষতি থেকে সে রক্ষা পায়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৬. তারপর আমরা এটাকে আমাদের দিকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৬) অতঃপর আমি একে ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনি। (1)

(1) অর্থাৎ, ছায়াকে আমি ধীরে ধীরে নিজের দিকে টেনে নিই। আর তার জায়গায় রাত্রের গভীর অন্ধকার বিস্তার লাভ করে।