আলাম তার ইলা-রব্বিকা কাইফা মাদ্দাজজিল্লা ওয়ালাও শাআ লাজা‘আলাহূছাকিনান ছু ম্মা জা‘আলনাশশামছা ‘আলাইহি দালীলা-।উচ্চারণ
তুমি কি দেখ না কিভাবে তোমার রব ছায়া বিস্তার করেন? তিনি চাইলে একে চিরন্তন ছায়ায় পরিণত করতেন। আমি সূর্যকে করেছি তার পথ-নির্দেশক। ৫৮ তাফহীমুল কুরআন
তুমি কি নিজ প্রতিপালকের (কুদরতের) প্রতি লক্ষ করনি যে, তিনি কিভাবে ছায়াকে সম্প্রসারিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে তা স্থির রাখতে পারতেন। অতঃপর আমি সূর্যকে তার পথনির্দেশক বানিয়ে দিয়েছি।মুফতী তাকী উসমানী
তুমি কি তোমার রবের প্রতি লক্ষ্য করনা, কিভাবে তিনি ছায়া সম্প্রসারিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে এটাকে তো স্থির রাখতে পারতেন। অনন্তর আমি সূর্যকে করেছি এর নির্দেশক।মুজিবুর রহমান
তুমি কি তোমার পালনকর্তাকে দেখ না, তিনি কিভাবে ছায়াকে বিলম্বিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে একে স্থির রাখতে পারতেন। এরপর আমি সূর্যকে করেছি এর নির্দেশক।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তুমি কি তোমার প্রতিপালকের প্রতি লক্ষ্য কর না কিভাবে তিনি ছায়া সম্প্রসারিত করেন ? তিনি ইচ্ছা করলে এটাকে তো স্থির রাখতে পারতেন ; অনন্তর আমি সূর্যকে করেছি এটার নির্দেশক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি কি তোমার রবকে দেখনি, কীভাবে তিনি ছায়াকে দীর্ঘ করেছেন, আর তিনি যদি চাইতেন, তাহলে তাকে অবশ্যই স্থির করে দিতে পারতেন। অতঃপর আমি সূর্যকে তার উপর নির্দেশক বানিয়ে দিয়েছি।আল-বায়ান
তুমি কি তোমার প্রতিপালককে দেখ না কীভাবে তিনি ছায়াকে দীর্ঘ করেন (সূর্য উদয়ের সময়ে, অতঃপর তা ক্রমেই ছোট হতে হতে দুপুর বেলা ছায়া ক্ষুদ্র আকৃতি ধারণ করে, দুপুরের পর আবার ছায়া দীর্ঘ হতে থাকে), তিনি চাইলে ছায়াকে অবশ্যই স্থির রাখতে পারতেন। সূর্যকেই আমি করেছি তার (অর্থাৎ ছায়ার) নির্ণায়ক (সূর্যের অবস্থানের কারণেই ছায়া ছোট ও দীর্ঘ হয়)।তাইসিরুল
তুমি কি প্রত্যক্ষ কর নি তোমার প্রভুর প্রতি -- কিভাবে তিনি ছায়া বিস্তার করেন? আর তিনি যদি চাইতেন তবে একে অনড় করে দিতেন। আমরা বরং সূর্যকে এর উপরে নির্দেশক বানিয়েছি।মাওলানা জহুরুল হক
৫৮
মূলে “দলীল” (دليل) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এ শব্দটি এখানে ব্যবহার করা হয়েছে ঠিক এমন একটি অর্থে যে অর্থে ইংরেজী ভাষায় Pilot শব্দটির ব্যবহার হয়। মাঝি-মাল্লাদের পরিভাষায় “দলীল” এমন এক ব্যক্তিকে বলা হয় যে নৌকাকে পথ-নির্দেশনা দিয়ে চালাতে থাকে। ছায়ার উপর সূর্যকে দলীল করা অর্থ হচ্ছে এই যে, ছায়ার ছড়িয়ে পড়া ও সংকুচিত হওয়া সূর্যের উপরে ওঠা ও নেমে যাওয়া এবং তার উদয় হওয়া ও অস্তে যাওয়ার উপর নির্ভরশীল এবং তার আলামত।
ছায়া অর্থ আলোক ও অন্ধকারের মাঝামাঝি এমন অবস্থা যা সকাল বেলা সূর্য ওঠার আগে হয় এবং সারাদিন ঘরের মধ্যে, দেয়ালের পেছনে ও গাছের নিচে থাকে।
৪৫. আপনি কি আপনার রব-এর প্রতি লক্ষ্য করেন না(১) কিভাবে তিনি ছায়া সম্প্রসারিত করেন? তিনি ইচ্ছে করলে এটাকে তো স্থির রাখতে পারতেন; তারপর আমরা সূর্যকে করেছি এর নির্দেশক।
(১) ৪৫ থেকে ৬০ এ আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তা'আলার সর্বময় ক্ষমতা এবং বান্দার প্রতি তাঁর নেয়ামত ও অনুগ্রহ বর্ণিত হয়েছে, যার ফলে আল্লাহ্ তা'আলার তাওহীদ প্রমাণিত হয় এবং এতে বান্দার করণীয় কি তাও বর্ণনা করা হয়েছে। (দেখুন: ফাতহুল কাদীর)
(৪৫) তুমি কি দেখ না, কিভাবে তোমার প্রতিপালক ছায়া বিস্তার করেন? (1) তিনি তো ইচ্ছা করলে একে স্থির রাখতে পারতেন; (2) অতঃপর আমি সূর্যকে এর নির্দেশক করেছি। (3)
(1) এখান হতে আবার তাওহীদের প্রমাণাদির বর্ণনা শুরু হচ্ছে। দেখ! আল্লাহ কিভাবে পৃথিবীতে ছায়া ছড়িয়ে রেখেছেন। যা সুবহে সাদিক (কাকভোর) হতে সূর্য উঠা পর্যন্ত থাকে। অর্থাৎ, ঐ সময় রৌদ্র থাকে না। রৌদ্রের সাথে সাথে তা গুটিয়ে ও মিটে যেতে থাকে।
(2) অর্থাৎ, সব সময় ছায়াই থাকত, সূর্যের আলো তাকে শেষ করতে পারত না।
(3) অর্থাৎ, রৌদ্র থেকে ছায়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ, প্রতিটি জিনিসকে তার বিপরীত দিয়ে চেনা যায়। যদি সূর্য না থাকত, তাহলে মানুষ ছায়াকে চিনতে পারত না।