أَمۡ تَحۡسَبُ أَنَّ أَكۡثَرَهُمۡ يَسۡمَعُونَ أَوۡ يَعۡقِلُونَۚ إِنۡ هُمۡ إِلَّا كَٱلۡأَنۡعَٰمِ بَلۡ هُمۡ أَضَلُّ سَبِيلًا

আম তাহছাবুআন্না আকছারহুম ইয়াছমা‘ঊনা আও ইয়া‘কিলূনা ইন হুম ইল্লা-কাল আন‘আ-মি বাল হুম আদাল্লুছাবীলা-।উচ্চারণ

তুমি কি মনে করো তাদের অধিকাংশ লোক শোনে ও বোঝে? তারা পশুর মতো বরং তারও অধম। ৫৭ তাফহীমুল কুরআন

নাকি তুমি মনে কর তাদের অধিকাংশে শোনে অথবা বোঝে? না, তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তারা তার চেয়েও বেশি বিপথগামী।মুফতী তাকী উসমানী

তুমি কি মনে কর যে, তাদের অধিকাংশ শোনে ও বুঝে? তারাতো পশুরই মত; বরং তারা আরও অধম।মুজিবুর রহমান

আপনি কি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে ? তারা তো চতুস্পদ জন্তুর মত; বরং আরও পথভ্রান্তমাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি কি মনে কর যে, এদের অধিকাংশ শুনে ও বুঝে ? এরা তো পশুর মতই ; বরং এরা অধিক পথভ্রষ্ট !ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি মনে কর যে, তাদের অধিকাংশ লোক শোনে অথবা বুঝে? তারা কেবল পশুদের মতো; বরং তারা আরো অধিক পথভ্রষ্ট।আল-বায়ান

তুমি কি এটা মনে কর যে, তাদের অধিকাংশ লোক শুনে বা বুঝে? তারা পশু বৈ তো নয়, বরং তারা সঠিক পথ থেকে আরো বেশি ভ্রষ্ট।তাইসিরুল

অথবা তুমি কি মনে কর যে তাদের অধিকাংশই শোনে অথবা বোঝে? তারা তো গরু-ছাগলের মতো ছাড়া আর কিছু নয়, বরং তারা পথ থেকে অধিক পথভ্রষ্ট।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৭

অর্থাৎ গরু-ছাগলের দল যেমন জানে না তাদের যারা হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তারা তাদের চারণক্ষেত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, না কসাইখানার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তারা কেবল চোখ বন্ধ করে যারা হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের ইশারায় চলতেই থাকে, ঠিক তেমনি এ জনসাধারণও তাদের নিজেদের শয়তানী প্রবৃত্তি ও পথভ্রষ্টকারী নেতাদের ইশারায় চোখ বন্ধ করে চলতেই থাকছে। তারা জানে না তাদের হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কল্যাণের দিকে, না ধ্বংসের দিকে। এ পর্যন্ত তাদের অবস্থা গরু-ছাগলের সাথে তুলনীয়। কিন্তু গরু-ছাগলকে আল্লাহ‌ বুদ্ধিজ্ঞান ও চেতনা শক্তি দান করেননি। তারা যদি চারণক্ষেত্র ও কসাইখানার মধ্যে কোন পার্থক্য না করে থাকে তাহলে এতে অবাক হবার কিছু নেই। তবে অবাক হতে হয় যখন দেখা যায় একদল মানুষ যাদের আল্লাহ‌ বুদ্ধি-জ্ঞান ও চেতনা শক্তি দান করেছেন এবং তারপরও তারা গরু-ছাগলের মতো অসচেতনতা ও গাফলতির মধ্যে ডুবে রয়েছে।

কেউ যেন প্রচার-প্রচারণাকে অর্থহীন গণ্য করা এ ভাষণের উদ্দেশ্য বলে মনে না করেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে এ কথাগুলো এজন্য বলা হচ্ছে না যে, তিনি যেন লোকদেরকে অনর্থক বুঝাবার চেষ্টা ত্যাগ করেন। আসলে শ্রোতাদের উদ্দেশ্যেই এ বক্তব্য রাখা হয়েছে, যদিও বাহ্যত সম্বোধন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আসলে তাদের এ কথা শুনানো উদ্দেশ্য যে, ওহে গাফেলরা! তোমাদের এ অবস্থা কেন? আল্লাহ কি তোমাদের বুদ্ধি-বিবেক এজন্য দিয়েছেন যে, তোমরা দুনিয়ায় পশুদের মতো জীবন যাপন করবে?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৪. নাকি আপনি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো পশুর মতই; বরং তারা আরও অধিক পথভ্ৰষ্ট।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৪) তুমি কি মনে কর যে, ওদের অধিকাংশ শোনে ও বুঝে? ওরা তো পশুরই মত; বরং ওরা আরও অধম। (1)

(1) অর্থাৎ, এসব চতুষ্পদ জীব যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে, তারা তা বুঝে। কিন্তু মানুষ, যাদেরকে শুধুমাত্র এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তারা নবীদের মাধ্যমে তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর সাথে শিরক করে এবং বিভিন্ন স্থানে নিজেদের (তুলনায় উত্তম অথবা অধম সৃষ্টির সামনে) মাথা নত করে। এই দিক দিয়ে তারা অবশ্যই জীবজন্তুর চেয়েও অধিক নিকৃষ্ট এবং পথভ্রষ্ট।