আরআইতা মানিততাখাযা ইলা-হাহূহাওয়া-হু আফাআনতা তাকূনু‘আলাইহি ওয়াকীলা-।উচ্চারণ
কখনো কি তুমি সেই ব্যক্তির অবস্থা ভেবে দেখেছো, যে তার নিজের প্রবৃত্তির কামনাকে প্রভু রূপে গ্রহণ করেছে? ৫৬ তুমি কি এহেন ব্যক্তিকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব নিতে পার? তাফহীমুল কুরআন
আচ্ছা বল তো যে ব্যক্তি নিজের কুপ্রবৃত্তিকে আপন মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে, (হে নবী!) তুমি কি তার দায়-দায়িত্ব নিতে পারবে। #%২২%#মুফতী তাকী উসমানী
তুমি কি দেখনা তাকে, যে তার কামনা বাসনাকে উপাস্য রূপে গ্রহণ করে? তবুও কি তুমি তার যিম্মাদার হবে?মুজিবুর রহমান
আপনি কি তাকে দেখেন না, যে তারা প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তুমি কি দেখ না তাকে, যে তার কামনা-বাসনাকে ইলাহ রূপে গ্রহণ করে ? তবুও কি তুমি তার কর্মবিধায়ক হবে ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি কি তাকে দেখনি, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে? তবুও কি তুমি তার যিম্মাদার হবে?আল-বায়ান
তুমি কি তাকে দেখ না যে তার খেয়াল খুশিকে ইলাহরুপে গ্রহণ করেছে? এর পরেও কি তুমি তার কাজের জিম্মাদার হতে চাও?তাইসিরুল
তুমি কি তাকে দেখেছ যে তার কামনাকে তার উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে? তুমি কি তবে তার জন্য একজন কর্ণধার হবে?মাওলানা জহুরুল হক
৫৬
প্রবৃত্তির কামনাকে মাবুদে পরিণত করার মানে হচ্ছে, তার পূজা করা। আসলে এটাও ঠিক মূর্তি পূজা করা বা কোন সৃষ্টিকে উপাস্যে পরিণত করার মতই শিরক। আবু উমামাহ রেওয়ায়াত করেছেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
ما تحت ظل السماء من اله يعبد من دون الله تعالى اعظم عند الله عزوجل من هوى يتبع –
“এ আকাশের নীচে যতগুলো উপাস্যের উপাসনা করা হয়ে থাকে, তাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট উপাস্য হচ্ছে এমন প্রবৃত্তির কামনা যার অনুসরণ করা হয়।” (তাবরানী) [আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য দেখুন আল কাহাফ ৫০ টীকা।]যে ব্যক্তি নিজের কামনাকে বুদ্ধির অধীনে রাখে এবং বুদ্ধি ব্যবহার করে নিজের জন্য ন্যায় ও অন্যায়ের পথের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়, সে যদি কোন ধরনের শিরকী বা কুফরী কর্মে লিপ্ত হয়েও পড়ে তাহলে তাকে বুঝিয়ে সঠিক পথে আনা যেতে পারে এবং সে সঠিক পথ অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর তার উপর অবিচল থাকবে এ আস্থাও পোষণ করা যেতে পারে। কিন্তু প্রবৃত্তির দাস হচ্ছে একটি লাগামহীম উট। তার কামনা তাকে যেদিকে নিয়ে যাবে সে পথহারা হয়ে সেদিকেই দৌড়াতে থাকবে। তার মনে ন্যায় ও অন্যায় এবং হক ও বাতিলের মধ্যে ফারাক করার এবং একটিকে ত্যাগ করে অন্যটিকে গ্রহণ করার কোন চিন্তা আদৌ সক্রিয় থাকে না। তাহলে কে তাকে বুঝিয়ে সঠিক পথে আনতে পারে? আর ধরে নেয়া যাক, যদি সে মেনেও নেয় তাহলে তাকে কোন নৈতিক বিধানের অধীন করে দেয়া কোন মানুষের সাধ্যায়ত্ত নয়।
নিজ উম্মতের প্রতি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মায়া-মমতা ছিল প্রচণ্ড। তার সতত কামনা ও চেষ্টা ছিল যারা কুফর ও শিরকের উপর জিদ ধরে বসে আছে, যেকোন প্রকারে তারাও ঈমান আনুক। তাদের কেউ ঈমান আনলে তিনি বড় খুশী হতেন। আর কেউ যদি ঈমান না আনত তবে তাঁর মনোবেদনার সীমা থাকত না। তাই কুরআন মাজীদ তাঁকে মাঝে মধ্যেই সান্তনা দিয়েছে যে, আপনার দায়িত্ব তো সত্য কথা পৌঁছানো পর্যন্তই সীমিত। যারা নিজেদের মনের ইচ্ছাকে মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে, যে কারণে আপনার কথা মানছে না, তাদের দায়-দায়িত্ব আপনার উপর অর্পিত হয়নি।
৪৩. আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহরূপে গ্ৰহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন?
(৪৩) তুমি কি দেখ না তাকে, যে তার কামনা-বাসনাকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি তুমি তার কর্মবিধায়ক হবে। (1)
(1) অর্থাৎ, যা তাদের মনে ভালো লাগে, তাকেই তারা নিজেদের ধর্ম ও মযহাব বানিয়ে নেয়। তুমি কি এসব লোকদেরকে পথ দেখাতে পারবে? অথবা তাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে বাঁচাতে পারবে? এই কথাটি অন্য জায়গায় এভাবে বলা হয়েছে, ‘‘কাউকেও যদি তার মন্দ কাজ শোভন করে দেখানো হয় এবং সে একে উত্তম মনে করে, সে ব্যক্তি কি তার সমান (যে সৎকাজ করে)? আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। অতএব তুমি ওদের জন্য আক্ষেপ করে নিজেকে ধ্বংস করো না। নিশ্চয় ওরা যা করে, আল্লাহ তা খুব জানেন।’’ (সূরা ফাত্বির ৮ আয়াত) ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, জাহেলী যুগে মানুষ এক যুগ ধরে সাদা পাথরের ইবাদত করত। অতঃপর যখন সে এর চেয়ে উত্তম কোন পাথর পেয়ে যেত, তখন সে পুরাতন পাথরটি ফেলে দিয়ে নতুন পাথরের পূজা শুরু করত। (ইবনে কাসীর) অর্থ এই যে, এমন জ্ঞানশূন্য মানুষ শুধুমাত্র নিজ খেয়াল-খুশী ও প্রবৃত্তি পূজায় ব্যস্ত। হে নবী! তুমি কি এদের সুপথ দেখাতে পারবে? অর্থাৎ, পারবে না।