ইন ক-দা লাইউদিল্লুনা-‘আন আ-লিহাতিনা- লাওলাআন সাবারনা-‘আলাইহা- ওয়া ছাওফা ইয়া‘লামূনা হীনা ইয়ারওনাল ‘আযা-বা মান আদাল্লুছাবীলা-।উচ্চারণ
এতো আমাদের পথভ্রষ্ট করে নিজেদের দেবতাদের থেকেই সরিয়ে দিতো যদি না আমরা তাদের প্রতি অটল বিশ্বাসী হয়ে থাকতাম। ৫৫ বেশ, সে সময় দূরে নয় যখন শাস্তি দেখে তারা নিজেরাই জানবে ভ্রষ্টতায় কে দূরে চলে গিয়েছিল। তাফহীমুল কুরআন
আমরা নিজ দেবতাদের প্রতি (ভক্তি-বিশ্বাসে) অবিচলিত না থাকলে সে তো আমাদেরকে প্রায় বিভ্রান্ত করে ফেলছিলই। (যারা এসব কথা বলে,) তারা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা জানতে পারবে কে সঠিক পথ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত ছিল।মুফতী তাকী উসমানী
সেতো আমাদেরকে আমাদের দেবতাদের হতে দূরে সরিয়ে দিত যদি না আমরা তাদের আনুগত্যে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকতাম। যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা জানবে কে সর্বাধিক পথভ্রষ্ট।মুজিবুর রহমান
সে তো আমাদেরকে আমাদের উপাস্যগণের কাছ থেকে সরিয়েই দিত, যদি আমরা তাদেরকে আঁকড়ে ধরে না থাকতাম। তারা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন জানতে পারবে কে অধিক পথভ্রষ্ট।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘সে তো আমাদেরকে আমাদের দেবতাগণ হতে দূরে সরাইয়াই দিত, যদি না আমরা তাদের আনুগত্যে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকতাম। যখন এরা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন এরা জানবে কে অধিক পথভ্রষ্ট। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘সে তো আমাদেরকে আমাদের দেবতাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিত, যদি আমরা তাদের প্রতি অবিচল না থাকতাম’। আর যখন তারা আযাব দেখবে, তখন অবশ্যই জানতে পারবে কে অধিক পথভ্রষ্ট।আল-বায়ান
সে তো আমাদেরকে আমাদের ইলাহদের থেকে অবশ্যই সরিয়ে দিত যদি আমরা তাদের প্রতি দৃঢ়চিত্ত না থাকতাম। যখন তারা শাস্তি দেখবে তখন জানবে যে পথের ক্ষেত্রে কারা অধিক ভ্রষ্ট ছিল।তাইসিরুল
"সে তো আমাদের দেব-দেবীদের থেকে আমাদের প্রায় সরিয়েই নিয়েছিল যদি না আমরা তাদের প্রতি অনুরাগ পোষণ করতাম!" আর শীঘ্রই তারা জানতে পারবে যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে -- কে পথ থেকে অধিক পথভ্রষ্ট।মাওলানা জহুরুল হক
৫৫
কাফেরদের এ দু’টি কথা পরস্পর বিরোধী। প্রথম কথাটি থেকে জানা যায়, তারা নবীকে ﷺ তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছে এবং তাঁকে বিদ্রূপ করে তাঁর মর্যাদা হ্রাস করতে চাচ্ছে। তারা যেন বলতে চাচ্ছে, নবী (সা.) তাঁর মর্যাদার চাইতে অনেক বেশী বড় দাবী করেছেন। দ্বিতীয় কথা জানা যায়, তারা তাঁর যুক্তির শক্তি ও ব্যক্তিত্বের ক্ষমতা মেনে নিচ্ছে এবং স্বতস্ফূর্তভাবে স্বীকার করে নিচ্ছে যে, তারা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও হঠকারিতার আশ্রয় নিয়ে নিজেদের আরাধ্য দেবতাদের বন্দনায় অবিচল না থাকলে এ ব্যক্তি তাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরিয়ে নিতেন। ইসলামী আন্দোলন তাদেরকে কি পরিমাণ আতংকিত করে তুলছিল এই পরস্পর বিরোধী কথা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বেহায়ার মতো যখন তামাশা-বিদ্রূপ করতো তখন হীনমন্যতা বোধের পীড়নে অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের মুখ থেকে এমন সব কথা বের হয়ে যেতো যা থেকে এ শক্তিটি তাদের মনে কি পরিমাণ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে তা স্পষ্ট বুঝা যেতো।
৪২. সে তো আমাদেরকে আমাদের উপাস্যগণ হতে দূরে সরিয়েই দিত, যদি না আমরা তাদের আনুগত্যের উপর অবিচল থাকতাম। আর যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন জানতে পারবে কে অধিক পথভ্ৰষ্ট।
(৪২) সে তো আমাদের দেবতাগণ থেকে আমাদেরকে দূরে সরিয়েই দিত; যদি না আমরা তাদের আনুগত্যে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকতাম।’(1) যখন ওরা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন ওরা জানবে কে সর্বাধিক পথভ্রষ্ট।(2)
(1) অর্থাৎ, আমরা পূর্ব-পুরুষদের অন্ধ-অনুকরণ এবং প্রচলিত ধর্মের সাথে সম্পর্ক রাখার কারণে গায়রুল্লাহর ইবাদত হতে মুখ ফিরিয়ে নিইনি; যদিও এই পয়গম্বর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে কোন ত্রুটি করেনি! মহান আল্লাহ মুশরিকদের এই কথা বর্ণনা করে বলতে চেয়েছেন যে, তারা শিরকের উপর কিরূপ অটল যে, তারা তা নিয়ে গর্ব ও আস্ফালন করছে!
(2) অর্থাৎ, পৃথিবীতে ঐ সমস্ত মুশরিক ও গায়রুল্লাহর পূজারীদের নজরে তাওহীদপন্থীরা পথভ্রষ্ট। কিন্তু এরা যখন আল্লাহর নিকট পৌঁছবে এবং তাদের শিরকের কারণে ইলাহী আযাবে পতিত হবে, তখন জানতে পারবে যে, পথভ্রষ্ট কারা ছিল; এক আল্লাহর উপাসকরা, নাকি যেখানে সেখানে মাথা নত (সিজদা)কারীরা?