وَهُوَ ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيۡلَ لِبَاسٗا وَٱلنَّوۡمَ سُبَاتٗا وَجَعَلَ ٱلنَّهَارَ نُشُورٗا

ওয়া হুওয়াল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল্লাইলা লিবা-ছাওঁ ওয়ান নাওমা ছুবা-তাওঁ ওয়া জা‘আলান্নাহা-র নুশূর-।উচ্চারণ

আর তিনিই রাতকে তোমাদের জন্য পোশাক, ৬০ ঘুমকে মৃত্যুর শান্তি এবং দিনকে জীবন্ত হয়ে উঠার সময়ে পরিণত করেছেন। ৬১ তাফহীমুল কুরআন

তিনিই রাতকে তোমাদের জন্য করেছেন পোশাক-স্বরূপ এবং ঘুমকে শান্তিময়। আর দিনকে ফের উঠে দাঁড়ানোর মাধ্যম বানিয়েছেন।মুফতী তাকী উসমানী

এবং তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণ স্বরূপ, বিশ্রামের জন্য তোমাদের দিয়েছেন নিদ্রা এবং সমুত্থানের জন্য দিয়েছেন দিন।মুজিবুর রহমান

তিনিই তো তোমাদের জন্যে রাত্রিকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে বিশ্রাম এবং দিনকে করেছেন বাইরে গমনের জন্যে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং তিনিই তোমাদের জন্যে রাত্রিকে করেছেন আবরণস্বরূপ, বিশ্রামের জন্যে তোমাদের দিয়েছেন নিদ্রা এবং সমুত্থানের জন্যে দিয়েছেন দিবস। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে আবরণ ও নিদ্রাকে আরামপ্রদ করেছেন এবং দিনকে করেছেন জাগ্রত থাকার সময়।আল-বায়ান

তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে করেছেন আরামপ্রদ আর দিনকে করেছেন (নিদ্রারূপী সাময়িক মৃত্যুর পর) আবার জীবন্ত হয়ে উঠার সময়।তাইসিরুল

আর তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের জন্য রাত্রিকে করেছেন আবরণী, আর ঘুমকে বিশ্রামস্বরূপ, আর দিনকে করেছেন জেগে ওঠার জন্য।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬০

অর্থাৎ ঢাকবার ও লুকাবার জিনিস।

৬১

এ আয়াতের তিনটি দিক রয়েছে। একদিক থেকে এখানে তাওহীদের যুক্তি পেশ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দিক থেকে নিত্যদিনকার মানবিক অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের সাহায্যে মৃত্যুর পরের জীবনের সম্ভাবনার যুক্তি পেশ করা হচ্ছে। তৃতীয় দিক থেকে যেভাবে সুসংবাদ দেয়া হচ্ছে যে, জাহেলীয়াতের রাত শেষ হয়ে গেছে, এখন জ্ঞান, চেতনা ও হেদায়াতের উজ্জ্বল দিবালোকের স্ফূরণ ঘটেছে এবং শিগগির বা দেরীতে যেমনি করেই হোক নিদ্রিতরা জেগে উঠবেই। তবে যাদের জন্য রাতের ঘুম ছিল মৃত্যু ঘুম তারা আর জাগবে না এবং তাদের না জেগে ওঠা হবে তাদের নিজেদের জন্যই জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া, দিনের কাজ কারবার তাদের কারণে বন্ধ হয়ে যাবে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৭. আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণস্বরূপ, বিশ্রামের জন্য তোমাদের দিয়েছেন নিদ্ৰা(১) এবং ছড়িয়ে পড়ার জন্য করেছেন দিন।(২)

(১) এ আয়াতে রাত্রিকে ‘লেবাস’ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। লেবাস যেমন মানবদেহকে আবৃত করে, রাত্ৰিও তেমনি একটি প্রাকৃতিক আবরণ, যা সমগ্র সৃষ্টজগতের উপর ফেলে দেয়া হয়। سُبَاتًا শব্দটি سبت থেকে উদ্ভূত। এর আসল অর্থ ছিন্ন করা। سُبَاتٌ এমন বস্তু যদ্দারা অন্য বস্তুকে ছিন্ন করা হয়। নিদ্রাকে আল্লাহ্ তা'আলা এমন করেছেন যে, এর ফলে সারাদিনের ক্লান্তি ও শ্রান্তি ছিন্ন তথা দূর হয়ে যায়। চিন্তা ও কল্পনা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে মস্তিষ্ক শান্ত হয়। তাই سُبَاتٌ এর অর্থ করা হয় আরাম, শান্তি। আয়াতের অর্থ এই যে, আমি রাত্রিকে আবৃতকারী করেছি, অতঃপর তাতে মানুষ ও প্রাণীদের উপর নিদ্রা চাপিয়ে দিয়েছি, যা তাদের আরাম ও শান্তির উপকরণ। (দেখুন: কুরতুবী, আদওয়াউল বায়ান)

(২) এখানে দিনকে نشور অর্থাৎ ‘জীবন বা ছড়িয়ে পড়া’ বলা হয়েছে। কেননা, এর বিপরীত অর্থাৎ নিদ্রা এক প্রকার মৃত্যু। (আদওয়াউল বায়ান)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৭) তিনিই তোমাদের জন্য রাত্রিকে করেছেন আবরণস্বরূপ,(1) নিদ্রাকে করেছেন বিশ্রামস্বরূপ(2) এবং দিনকে করেছেন উত্থানের জন্য।(3)

(1) অর্থাৎ, আবরণ ও পোশাক যেমন মানুষের শরীর ঢেকে রাখে, অনুরূপ রাত্রের অন্ধকার তোমাদের লুকিয়ে রাখে।

(2) سُبات এর অর্থ কাটা বা বিচ্ছিন্ন করা, ঘুম মানুষকে তার কাজকর্ম ও ব্যস্ততা হতে বিচ্ছিন্ন করে, যাতে মানুষ আরাম ও স্বস্তিবোধ করে। কিছু উলামার নিকট سُبات এর অর্থ লম্বা হওয়া। যেহেতু ঘুমের সময় মানুষ তার দেহকে মাটিতে লম্বা করে দেয়, সেহেতু ঘুমকে سُبات বলা হয়।

(3) ঘুম যা মৃত্যুর এক ভাই। দিনে মানুষ ঘুম থেকে উঠে নিজের কাজকর্মে লিপ্ত হয়। হাদীসে এসেছে, নবী (সাঃ) যখন ভোরে ঘুম থেকে উঠতেন, তখন এই দু’আ পাঠ করতেনঃ الحَمْدُ للهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيهِ النُّشُور। অর্থাৎ, সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমাদেরকে মারার পর জীবিত করেছেন। আর তার কাছেই ফিরে যেতে হবে। (বুখারী, মিশকাতঃ দাওয়াত অধ্যায়)