ٱنظُرۡ كَيۡفَ ضَرَبُواْ لَكَ ٱلۡأَمۡثَٰلَ فَضَلُّواْ فَلَا يَسۡتَطِيعُونَ سَبِيلٗا

উনজু র কাইফা দারবূলাকাল আমছা-লা ফাদাললূফালা-ইয়াছতাতী‘ঊনা ছাবীলা-।উচ্চারণ

দেখো, কেমন সব উদ্ভট ধরনের যুক্তি তারা তোমার সামনে খাড়া করেছে, তারা এমন বিভ্রান্ত হয়েছে যে, কোন কাজের কথাই তাদের মাথায় আসছে না। ১৮ তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী!) দেখ, তারা তোমার সম্পর্কে কেমন সব উপমা পেশ করছে! ফলে তারা এমনই বিভ্রান্ত হয়েছে যে, সঠিক পথে আসা তাদের পক্ষে সম্ভবই নয়।মুফতী তাকী উসমানী

দেখ, তারা তোমার কি উপমা দেয়। তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা পথ পাবেনা।মুজিবুর রহমান

দেখুন, তারা আপনার কেমন দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে! অতএব তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, এখন তারা পথ পেতে পারে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

দেখ, এরা তোমার কী উপমা দেয়! এরা পথভ্রষ্ট হয়েছে, ফলে এরা পথ পাবে না।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দেখ, তোমার জন্য তারা কেমন উপমা পেশ করে; ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, সুতরাং তারা কোন পথ পেতে সক্ষম হয় না।আল-বায়ান

দেখ, তারা তোমার ব্যাপারে কেমন সব উপমা পেশ করছে! যার ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, অতএব তারা কোন ক্রমেই পথ পাবে না।তাইসিরুল

দেখ, তারা কেমনভাবে তোমার প্রতি উপমা প্রয়োগ করে! সুতরাং তারা বিপথে গেছে, কাজেই তারা পথের দিশা পাচ্ছে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৮

এ আপত্তি ও অভিযোগগুলোও এখানে মূলত জবাব দেবার জন্য নয় বরং অভিযোগকারীরা হিংসা ও বিদ্বেষে কি পরিমাণ অন্ধ হয়ে গেছে তা বুঝবার জন্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। উপরে তাদের যেসব কথা উদ্ধৃত করা হয়েছে তার মধ্যে কোন একটিও গুরুত্বসহকারে আলোচনা করার মতো নয়। তাদের শুধুমাত্র উল্লেখ করাই একথা বলার জন্য যথেষ্ট যে, বিরোধীদের কাছে ন্যায়সঙ্গত যুক্তির অভাব অত্যন্ত প্রকট এবং নেহাতই বাজে ও বস্তাপঁচা কথার সাহায্যে তার একটি যুক্তি সিদ্ধ ও নীতিগত দাওয়াতের মোকাবিলা করছে। এক ব্যক্তি বলছেন, হে লোকেরা! এই যে শিরকের ওপর তোমরা নিজেদের ধর্ম ও সংস্কৃতি-সভ্যতার বুনিয়াদ কায়েম করে রেখেছো এ তো একটি মিথ্যা ও ভ্রান্ত বিশ্বাস এবং এর মিথ্যা ও ভ্রান্ত হবার পেছনে এ যুক্তি কাজ করছে। জবাবে শিরকের সত্যতার সপক্ষে কোন যুক্তি পেশ করা হয় না বরং শুধুমাত্র এভাবে একটি বিরূপ ধ্বনি উঠানো হয় যে, আরে এ লোকের ওপর তো যাদু করা হয়েছে। তিনি বলছেন, বিশ্ব-জাহানের সমগ্র ব্যবস্থা চলতে তাওহীদের ভিত্তিতে এবং এইসব বিভিন্ন সত্য এর সাক্ষ্য দিচ্ছে। জবাবে বড় গলায় ধ্বনিত হচ্ছে---এ ব্যক্তি যাদুকর। তিনি বলছেন, দুনিয়ায় তোমাদের লাগামহীন উটের মতো ছেড়ে দেয়া হয়নি বরং তোমাদের রবের কাছে তোমাদের ফিরে যেতে হবে এবং এসব বিবিধ নৈতিক, ঐতিহাসিক এবং যুক্তি ও তথ্যগত বিষয় এ সত্যটি প্রমাণ করছে। জবাবে বলা হচ্ছে, আরে এতো একজন কবি। তিনি বলছেন, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছি সত্যের শিক্ষা নিয়ে এবং সে শিক্ষাটি হচ্ছে এই। জবাবে এ শিক্ষার ওপর কোন আলোচনা সমালোচনা করা হয় না বরং প্রমাণ ছাড়াই একটি দোষারোপ করা হয় এই মর্মে যে, এসব কিছুই কোথাও থেকে নকল করা হয়েছে। নিজের জীবন ও নিজের চরিত্র ও কার্যাবলী পেশ করছেন এবং তার প্রভাবে তার অনুসারীদের জীবনে যে নৈতিক বিপ্লবের সূচনা হচ্ছিল তাও পেশ করছেন। কিন্তু বিরোধিতাকারীরা এর কোনটিও দেখে না। তারা কেবল জিজ্ঞেস করছে, তুমি খাও কেন? বাজারে চলাফেরা করো কেন? কোন ফেরেশতাকে তোমার আরদালী হিসেবে দেয়া হয়নি কেন? তোমার কাছে কোন অর্থভাণ্ডার বা বাগান নেই কেন? এ পক্ষদ্বয়ের মধ্যে কে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং কে এর মোকাবিলায় অক্ষম হয়ে আজেবাজে ও উদ্ভট কথা বলে চলছে এসব কথা আপনা-আপনিই তা প্রমাণ করে দিচ্ছিল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ কেমন আজব-আজব কথা তৈরি করছে। কখনও বলছে অন্যরা এ কুরআন রচনা করে দিয়েছে। কখনও বলছে, এটা পুরাকালের আখ্যান, কখনও বলছে রাসূল পানাহার করবে কেন, কেনই বা হাটেবাজারে যাবে, কখনও বলছে, সে একজন বড় ধনী হল না কেন, আবার বলছে, সে যাদুগ্রস্ত। কুরআন ও রাসূলের শানে এসব কথা এমনই আজব, যা অবান্তর উপমারই নামান্তর। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৯. দেখুন, তারা আপনার কি উপমা দেয়! ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, সুতরাং তারা পথ পেতে পারে না।(১)

(১) এ আয়াত সংক্রান্ত কিছু আলোচনা সূরা আল-ইসরায় করা হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৯) দেখ, ওরা তোমার কি সব উপমা পেশ করে। ফলতঃ ওরা পথভ্রষ্ট। সুতরাং ওরা পথ পাবে না।(1)

(1) অর্থাৎ, হে নবী! ওরা তোমার ব্যাপারে এ রকম কথাবার্তা ও অপবাদ আরোপ করে। কখনো বলে যাদুকর, কখনো বলে যাদুগ্রস্ত বা পাগল, কখনো মিথ্যুক বা কবি। অথচ এ সমস্ত কথাই অসত্য। যার মধ্যে সামান্যতম জ্ঞান ও বিবেক-বুদ্ধি আছে, সেও এ সব মন্তব্যে তাদের মিথ্যাবাদিতার কথা উপলব্ধি করতে পারবে। অতএব তারা এ সকল কথা বলে নিজেরাই হিদায়াতের পথ হতে দূরে সরে যাচ্ছে। তারা হিদায়াত কিভাবে পেতে পারে?