لَّا تَجۡعَلُواْ دُعَآءَ ٱلرَّسُولِ بَيۡنَكُمۡ كَدُعَآءِ بَعۡضِكُم بَعۡضٗاۚ قَدۡ يَعۡلَمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنكُمۡ لِوَاذٗاۚ فَلۡيَحۡذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنۡ أَمۡرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمۡ فِتۡنَةٌ أَوۡ يُصِيبَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ

লা-তাজ‘আলূদু‘আআররছূলি বাইনাকুম কাদু‘আই বা‘দিকুম বা‘দান কাদ ইয়ালামুল্লা-হুল্লাযীনা ইয়াতাছাল্লালূনা মিনকুম লিওয়া-যান ফালইয়াহযারিল্লাযীনা ইউখালিফূনা ‘আন আমরিহীআন তুসীবাহুম ফিতনাতুন আও ইউসীবাহুম ‘আযা-বুন আলীম।উচ্চারণ

হে মুসলমানরা! রসূলের আহবানকে তোমাদের মধ্যে পরস্পরের আহবানের মতো মনে করো না। ১০২ আল্লাহ তাদেরকে ভালো করেই জানেন যারা তোমাদের মধ্যে একে অন্যের আড়ালে চুপিসারে সটকে পড়ে। ১০৩ রসূলের হুকুমের বিরুদ্ধাচারণকারীদের ভয় করা উচিত যেন তারা কোন বিপর্যয়ের শিকার না হয় ১০৪ অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব না এসে পড়ে। তাফহীমুল কুরআন

(হে মানুষ!) তোমরা নিজেদের মধ্যে রাসূলের ডাককে তোমাদের পারস্পরিক ডাকের মত (মামুলি) মনে করো না; #%৫১%# তোমাদের মধ্যে যারা একে অন্যের আড়াল নিয়ে চুপিসারে সরে পড়ে আল্লাহ তাদেরকে ভালো করে জানেন। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের ভয় করা উচিত না জানি তাদের উপর কোন বিপদ আপতিত হয় অথবা যন্ত্রণাদায়ক কোন শাস্তি তাদেরকে আক্রান্ত করে।মুফতী তাকী উসমানী

রাসূলের আহবানকে তোমরা একে অপরের প্রতি আহবানের মত গণ্য করনা; তোমাদের মধ্যে যারা চুপি চুপি সরে পড়ে আল্লাহ তাদেরকে জানেন। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর কঠিন শাস্তি।মুজিবুর রহমান

রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

রাসূলের আহ্বানকে তোমরা তোমাদের একে অপরের প্রতি আহ্বানের মত গণ্য কর না; তোমাদের মধ্যে যারা অলক্ষ্যে সরে পড়ে আল্লাহ্ তো তাদেরকে জানেন। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের ওপর আপতিত হবে বা আপতিত হবে তাদের ওপর মর্মন্তুদ শাস্তি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা পরস্পরকে যেভাবে ডাকো রাসূলকে সেভাবে ডেকো না; তোমাদের মধ্যে যারা চুপিসারে সরে পড়ে আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে জানেন। অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক আযাব পৌঁছার ভয় করে।আল-বায়ান

রসূলের ডাককে তোমরা তোমাদের একের প্রতি অন্যের ডাকের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। কাজেই যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, তাদের উপর পরীক্ষা নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর নেমে আসবে ভয়াবহ শাস্তি।তাইসিরুল

তোমাদের মধ্যে রসূলের আহ্বানকে তোমরা তোমাদের মধ্যের একে অন্যে আহ্বানের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ্ অবশ্যই তাদের জানেন তোমাদের মধ্যের যারা চুপি চুপি সরে পড়ে, সেজন্য যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধে যায় তারা সাবধান হোক পাছে কোনো বিপর্যয় তাদের উপরে পতিত হয়, অথবা কোনো মর্মন্তদ শাস্তি তাদের উপরে আপতিত হয়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০২

মূলে دُعَاء শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ ডাকা ও আহবান করা হয় আবার দোয়া করাও হয়। তাছাড়া دُعَاءِ الرَّسُول এর মানে রসূলের ডাক বা দোয়াও হতে পারে আবার রসূলের আহবানও হতে পারে। এসব বিভিন্ন অর্থের প্রেক্ষিতে আয়াতের তিনটি অর্থ হতে পারে এবং তিনটি অর্থই সঠিক ও যুক্তিসঙ্গত।

একঃ “রসূলের আহবানকে কোন সাধারণ মানুষের আহবানের মতো মনে করো না।” অর্থাৎ রসূলের আহবান অস্বাভাবিক গুরুত্বের অধিকারী। অন্য কারোর আহবানে সাড়া দেয়া না দেয়ার স্বাধীনতা আছে কিন্তু রসূলের আহবানে না গেলে বা মনে ক্ষীণতম সংকীর্ণতা অনুভব করলে ঈমান বিপন্ন হয়ে পড়বে।

দুইঃ “রসূলের দোয়াকে সাধারণ মানুষের দোয়ার মতো মনে করো না” তিনি খুশী হয়ে দোয়া করলে তোমাদের জন্য এর চেয়ে বড় আর কোন নিয়ামত নেই আর নারাজ হয়ে বদদোয়া করলে তার চেয়ে বড় আর কোন দুর্ভাগ্য তোমাদের জন্য থাকবে না।

তিনঃ “রসুলকে ডাকা সাধারণ মানুষের একজনের অন্য একজনকে ডাকার মতো হওয়া উচিত নয়।” অর্থাৎ তোমরা সাধারণ লোকদেরকে যেভাবে তাদের নাম নিয়ে উচ্চস্বরে ডাকো সেভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ডেকো না। এ ব্যাপারে তাঁর প্রতি চরম শিষ্টাচার ও মর্যাদা প্রদর্শন করতে হবে। কারণ তাঁর প্রতি সামান্যতম বেআদবীর জন্যও আল্লাহর কাছে জবাবদিহির হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে না।

১০৩

মুনাফিকদের আর একটি আলামত হিসেবে একথাটি বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ইসলামী সামগ্রিক কাজের জন্য যখন ডাকা হয় তখন তারা এসে যায় ঠিকই কিন্তু এ উপস্থিতি তাদের কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর ও অপছন্দনীয় হয়, ফলে কোন রকম গা ঢাকা দিয়ে তারা সরে পড়ে।

১০৪

ইমাম জাফর সাদেক (রা.) বিপর্যয় অর্থ করেছেন “জালেমদের কর্তৃত্ব ও প্রতিপত্তি।” অর্থাৎ যদি মুসলমানরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করে তাহলে তাদের ওপর জালেম ও স্বৈরাচারী শাসক চাপিয়ে দেয়া হবে। মোটকথা এটাও এক ধরনের বিপর্যয় হতে পারে। আর এছাড়াও আরো অসংখ্য ধরনের বিপর্যয় হওয়া সম্ভবপর। যেমন পরস্পরের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা, গৃহযুদ্ধ, নৈতিক অবক্ষয়, জামা’আতী ব্যবস্থায় বিশৃংখলা, আভ্যন্তরীণ নৈরাজ্য, রাজনৈতিক ও বস্তুগত শক্তি ভেঙ্গে পড়া, বিজাতির অধীন হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সমপর্যায়ের লোক যখন একে অন্যকে ডাকে তখন তার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কাজেই তাতে সাড়া দিয়ে না গেলে যেমন দোষ মনে করা হয় না, তেমনি যাওয়ার পর যদি অনুমতি ছাড়া চলে আসে তাও বিশেষ দূষণীয় হয় না। কিন্তু বড়দের ডাকের ব্যাপারটা ভিন্ন। তাদের ডাককে বিশেষ গুরুত্বের সাথে নেওয়াই নিয়ম। আর সে ডাক যদি হয় রাসূলের, তার গুরুত্ব হয় অপরিসীম। আয়াতে বলা হচ্ছে, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে কোন কাজের জন্য ডাকেন, তখন তাকে তোমাদের আপসের ডাকের মত মামুলি গণ্য করো না যে, চাইলে সাড়া দিলে আর চাইলে দিলে না। বরং তাঁর ডাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে সাড়া দিয়ে পত্রপাঠ ছুটে যাওয়া উচিত। আর যাওয়ার পরও যেন এমন না হয় যে, ইচ্ছা হল আর অনুমতি ছাড়া উঠে গেলে। যদি যাওয়ার বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তবেই যাবে। এ আয়াতের এ রকম তরজমা করাও সম্ভব যে, ‘তোমরা রাসূলকে ডাকার বিষয়টিকে তোমাদের পরস্পরে একে অন্যকে ডাকার মত (মামুলি) গণ্য করো না’। এ হিসেবে ব্যাখ্যা হবে, তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে যখন কোন কথা বলবে, তখন তোমরা নিজেরা একে অন্যকে যেমন ডাক দিয়ে থাক, যেমন হে অমুক! শোন, তাকেও সেভাবে ডাক দিও না। সুতরাং তাকে লক্ষ্য করে ‘হে মুহাম্মাদ!’ বলা কিছুতেই উচিত নয়। বরং তাঁকে সম্মানের সাথে ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ!’ বলে সম্বোধন করা চাই।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬৩. তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহবানের মত গণ্য করো না; তোমাদের মধ্যে যারা একে অপরকে আড়াল করে অলক্ষ্যে সরে পড়ে আল্লাহ্‌ তো তাদেরকে জানেন।(১) কাজেই যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।(২)

(১) আয়াতের অর্থ নির্ধারনে বেশ কয়েকটি মত এসেছে, (এক) (لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ) এর অর্থ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরফ থেকে মুসলিমদেরকে ডাকা। (ব্যাকরণগত কায়দার দিক দিয়ে এটা إضافة إلى الفاعل আয়াতের অর্থ এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ডাকেন, তখন একে সাধারণ মানুষের ডাকার মত মনে করো না যে, সাড়া দেয়া না দেয়া ইচ্ছাধীন; বরং তখন সাড়া দেয়া ফরয হয়ে যায় এবং অনুমতি ছাড়া চলে যাওয়া হারাম হয়ে যায়। আয়াতের বর্ণনাধারার সাথে এই তাফসীর অধিক নিকটবর্তী ও মিলে যায়। (দুই) আয়াতের অপর একটি তাফসীর ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে ইবনে কাসীর, কুরতুবী প্রমুখ বৰ্ণনা করেছেন। তা এই যে, (دُعَاءَ الرَّسُولِ) এর অর্থ মানুষের তরফ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন কাজের জন্য ডাকা। (ব্যাকরণগত কায়দার দিক দিয়ে এটা إضافة إلى المفعول। এই তাফসীরের ভিত্তিতে আয়াতের অর্থ এই যে, যখন তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন প্রয়োজনে আহবান কর অথবা সম্বোধন কর, তখন সাধারণ লোকের ন্যায় তার নাম নিয়ে ইয়া মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলবে না- এটা বেআদবী; বরং সম্মানসূচক উপাধি দ্বারা ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ অথবা ‘ইয়া নবীআল্লাহ’ বলবে। (বাগভী)

(২) অর্থাৎ যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথের বিরোধিতা করে, তার প্রবর্তিত শৱীয়ত ও আইন অনুসারে জীবন পরিচালনা করে না, তার সুন্নাতের বিরোধিতা করে, তারা যেন তাদের অন্তরে কুফরী, নিফাকী, বিদ’আত ইত্যাদি লালন করে অথবা তারা তাতে নিপতিত হওয়ার আশংকা করে। আরো আশংকা করে যে, তাদের উপর কঠোর শাস্তি আসবে। হত্যা, দণ্ডবিধি, জেল ইত্যাদি দুনিয়াতে এবং আখেরাতেও তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করবে যা আমার প্রদর্শিত পথের উপর নয়, তা তার উপরই ফিরিয়ে দেয়া হবে, গ্ৰহণযোগ্য হবে না।” (বুখারীঃ ২৬৯৭, মুসলিমঃ ১৭১৮)

অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমার এবং তোমাদের মাঝে উদাহরণ হলো এমন এক ব্যক্তির, যে আগুন জ্বালালো, তারপর সে আলোয় যখন চতুর্দিক আলোকিত হলো, তখন দেখা গেল যে, পোকামাকড় এবং ঐসমস্ত প্ৰাণী যা আগুনে পড়ে, সেগুলো আগুনে পড়তে লাগলো। তখন সে ব্যক্তি তাদেরকে আগুন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইলো। কিন্তু সেগুলো তাকে ছাড়িয়ে সে আগুনে ঝাঁপ দিতে থাকলো। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটাই হলো আমার এবং তোমাদের উদাহরণ। আমি তোমাদের কোমরের কাপড়ের গিরা ধরে আগুন থেকে দূরে রাখছি এবং বলছিঃ আগুন থেকে দূরে থাকো। কিন্তু তোমরা আমাকে ছাড়িয়ে ছুটে গিয়ে আগুনে ঝাপ দিচ্ছ।” (বুখারীঃ ৬৪৮৩, মুসিলিমঃ ২২৮৪)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬৩) রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরের প্রতি আহবানের মত গণ্য করো না;(1) তোমাদের মধ্যে যারা চুপি চুপি সরে পড়ে, আল্লাহ তাদের জানেন।(2) সুতরাং যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয়(3) অথবা কঠিন শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে ।

(1) এর একটি অর্থ হল, যেভাবে তোমরা এক অপরকে নাম ধরে ডাক, রসূলকে ঐভাবে ডাকবে না। যেমন ‘ওহে মুহাম্মাদ!’ না বলে ‘হে আল্লাহর রসূল! হে আল্লাহর নবী’ ইত্যাদি বলে ডাকবে। (এটি ছিল তাঁর জীবিতকালের নির্দেশ; যখন তাঁকে ডাকা সাহাবাদের প্রয়োজন হত)। এর দ্বিতীয় অর্থ হল, রসূলের বদ্দুআকে অন্যান্যদের বদ্দুআর মত ভেবো না। কারণ নবীর দু’আ কবুল হয়। অতএব তোমরা নবীর বদ্দুআ নেওয়া হতে দূরে থাক; নচেৎ তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে।

(2) এ ছিল মুনাফিকদের আচরণ। পরামর্শ সভা হতে তারা চুপিচুপি বেরিয়ে পড়ত।

(3) ‘বিপর্যয়’ বলতে অন্তরের সেই বত্রুতাকে বুঝানো হয়েছে, যা মানুষকে ঈমান হতে বঞ্চিত করে ফেলে। এ হল নবী (সাঃ)-এর আদেশ থেকে বিমুখতা প্রদর্শন করা এবং তাঁর বিরোধিতা করার পরিণাম। আর ঈমান থেকে বঞ্চনা ও কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ জাহান্নামের চিরস্থায়ী শাস্তির কারণ; যেমন আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে। অতএব নবী (সাঃ)-এর আদর্শ, তরীকা ও সুন্নতকে সব সময় সামনে রাখা উচিত। কারণ, যেসব কথা ও কাজ সুন্নত মোতাবেক হবে তা আল্লাহর নিকটে গ্রহণীয়; অন্যথা সব প্রত্যাখ্যাত। নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি এমন কর্ম করবে যাতে আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।’’ (মুসলিম)